Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার কুষ্ঠ পরিস্থিতি দেখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা

জেলার কুষ্ঠ পরিস্থিতি দেখতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিরা
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: মঙ্গলবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কুষ্ঠ রোগ পরিস্থিতি পরিদর্শনে এল জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল। এদিন তাঁরা মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ পরিদর্শন করেন। জেলার স্বাস্থ্য আধিকারিকদের সঙ্গেও বিশেষ বৈঠকও করেন। উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের বিশেষ মনিটর প্রদীপ নায়েক, জেলার সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী সহ স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। আলোচনায় কুষ্ঠ রোগীদের আরও ভালো মানের পরিষেবা দেওয়া নিয়ে আলোচনা হয়। 
Advertisement
এদিন পরিদর্শনের পর কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে জেলার ভূমিকা নিয়ে ভূয়সী প্রশংসা করে প্রতিনিধি দল।একইসঙ্গে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলাকে মডেল জেলা হিসেবে বিবেচনা করার কথাও জানান তাঁরা। 
জেলার সিএমওএইচ বলেন, প্রতিনিধি দল জেলায় কুষ্ঠ রোগের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছেন। তাঁরা খুশি। যাতে সাধারণ মানুষকে আরও ভালো মানের পরিষেবা দেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে। আমাদের তরফেও নানা পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। 
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের হিসেব অনুযায়ী, ২০০২ সালে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা ছিল ৪৩৫৪। গত কুড়ি বছরে সংখ্যাটা কমেছে অনেকটাই। বর্তমানে জেলায় মোট কুষ্ঠ আক্রান্ত ৫৩৬ জন। প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে একজনের বেশি কুষ্ঠ রোগী থাকলে তাঁকে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি হিসেবে গণ্য করা হয়। ২০০২ সালে জেলায় প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যায় কুষ্ঠ আক্রান্তের হার ছিল ৭.৭০। বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। ২০২৩ সালে এই রোগে আক্রান্তের হার প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যায় ০.৯০ জন। অর্থাৎ একের নীচেই। তবে কুষ্ঠ রোগ নির্মূলে আরও নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 
স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আলোচনায় নানা দিক উঠে আসে। জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরাও নানা প্রস্তাব জানিয়েছে। তার মধ্যে অন্যতম, আশাকর্মীদের বিশেষ স্ক্রিনিংয়ের জন্য ইনসেনটিভ চালু করতে হবে, কুষ্ঠ রোগীদের জন্য বিশেষ অনুদানের ব্যবস্থা করা, এছাড়া কুষ্ঠ রোগীদের যাতে দত্তক নেওয়া যায় সেদিকে বিশেষ প্রকল্প চালু করা, পাশাপাশি কুষ্ঠ রোগীদের মেন্টাল কাউন্সেলিং করার ব্যবস্থা করার কথা জানান জেলার স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা। এছাড়াও এদিনের বৈঠকে কুষ্ঠ কলোনিগুলোতে পাট্টা প্রদান, তাঁদের প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনার ঘর দেওয়া, মেডিক্যাল ক্যাম্প করা সহ নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, কুষ্ঠ রোগীদের জন্য বৃত্তিমূলক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কুষ্ঠ রোগ নিয়ে সমস্ত রিপোর্ট তাঁরা নিয়ে গিয়েছেন। প্রতিনিধি দলের কাছে আরও উন্নতমানের পরিকাঠামোগত সুবিধা পাওয়ার জন্য আবেদন করা হয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ