Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলার আড়াই হাজার স্কুলে নেই প্রধানশিক্ষক

জেলার আড়াই হাজার স্কুলে নেই প্রধানশিক্ষক
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
শ্রীকান্ত পড়্যা, তমলুক: লটারির মাধ্যমে স্কুলে টিচার ইন-চার্জ বাছছেন স্কুল ইন্সপেক্টর। লটারিতে নাম থাকা শিক্ষক নিজেকে ভাগ্যবান নয়, বরং হতভাগ্য বলে অনিচ্ছা সত্ত্বেও ওই দায়িত্ব নিচ্ছেন। আবার, অনেক জায়গায় ভিলেজ এডুকেশন কমিটি(ভিইসি) এক্তিয়ার বর্হিভূতভাবে টিচার ইন-চার্জ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় অনেক প্রাইমারি স্কুলে এখন এটাই রুটিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১০ সালের পর থেকে এই জেলায় প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক প্যানেল হয়নি। ৩ হাজার ৮০০ স্কুলের মধ্যে আড়াই হাজার প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক, প্রধান শিক্ষিকা নেই। এই অবস্থায় টিআইসি-র দায়িত্ব কে নেবেন তা নিয়ে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। আসলে মিড-ডে মিল, প্রোগ্রেস রিপোর্ট অনলাইনে এন্ট্রি সহ নানা কাজ স্কুলের প্রধান শিক্ষককেই করতে হয়। এধরনের কাজের দায়িত্ব এড়াতে চাইছেন সকলেই। তাই টিআইসি নিয়ে বহু স্কুলে ঝামেলা চলছে।
Advertisement
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রাইমারি বিদ্যালয় সংসদ সভাপতি অনিমেষ দে বলেন, দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক প্যানেল হয়নি। আড়াই হাজারের বেশি স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। এই অবস্থায় স্কুলে সিনিয়র মোস্ট শিক্ষক টিআইসির দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু, কোথাও কোথাও টিআইসি নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আমাদের হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। সেই সিদ্ধান্ত কারও কারও কাছে অপ্রিয় হচ্ছে।
দাসপুর-১ ব্লকের খাড় রাধাকৃষ্ণপুর প্রাইমারি স্কুলে ২০১৩ সাল থেকে প্রধান শিক্ষক নেই। ২০১৯ সাল নাগাদ টিআইসি নিয়ে স্কুলে ভীষণ ঝামেলা হয়। হস্তক্ষেপ করতে হয় স্বয়ং নাড়াজোল চক্রের এসআইকে। তিনি নিজে স্কুলে গিয়ে লটারির মাধ্যমে সীমা রায় বারিককে টিআইসি হিসেবে কাজকর্ম পরিচালনার দায়িত্ব দেন। এক বছরের জন্য ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ওই স্কুলে টিআইসি হন সুদীপ্ত মহিষ। জানুয়ারি মাস থেকেই দায়িত্ব ছাড়ার জন্য ভিলেজ এডুকেশন কমিটির শরণাপন্ন হন সুদীপ্তবাবু। ভিলেজ এডুকেশন কমিটি স্কুলের সহ শিক্ষিকা মোনালিসা পারভীনকে টিআইসি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য রেজ্যুলিউশন করে। কিন্তু, মোনালিসা পারভীন জানান, এসআই অফিস অনুমোদন দিলে তিনি ওই দায়িত্ব নেবেন।
দাসপুর-১ ব্লকের খাটবাড়ই আত্যয়িক প্রাইমারি স্কুলেও দীর্ঘদিন প্রধান শিক্ষক নেই। দুই সহ শিক্ষক প্রীতম সাঁতরা ও তাপস বসু পালা করে টিআইসি-র দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তাপসবাবু বলেন, আমরা নিজেদের মধ্যে বোঝাপড়ার মাধ্যমে পালা করে টিআইসি-র দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু, এভাবে বোঝাপড়া সব স্কুলে হয় না। যেকারণে নানাভাবে সমস্যা হচ্ছে। ২০১০-১১ সাল থেকে এই জেলায় প্রাইমারি স্কুলে প্রধান শিক্ষক প্যানেল হয়নি। এর ফলে একচেটিয়া স্কুল প্রধান শিক্ষকহীন। এই সমস্যা দ্রুত মেটানোর জন্য স্কুল কাউন্সিলের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
জেলা পরিষদের শিক্ষা স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ শ্যাম পাত্র বলেন, জেলা প্রাইমারি স্কুল কাউন্সিলে দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন না। স্কুল কাউন্সিলের দায়িত্ব সামলেছেন জেলাশাসক। তাই প্রধান শিক্ষক নিয়োগ আটকে ছিল। সম্প্রতি স্কুল কাউন্সিলের সভাপতি নিয়োগ হয়েছে। আমাদের জেলা রাজ্য প্রাইমারি স্কুল স্পোর্টস আয়োজনের দায়িত্ব পেয়েছে। এই মুহূর্তে ওই প্রস্তুতি জোরকদমে চলছে। এই কাজটা হয়ে গেলেই প্রধান শিক্ষক প্যানেলের কাজ শুরু হয়ে যাবে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ