নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: জ্যোতি আলুর কেজি ৪০ টাকা। ৬০ টাকা ছাড়িয়েছে ভুটানের লাল আলু। সেঞ্চুরি ছুঁয়েছে পেঁয়াজ। লঙ্কা ১২০ টাকা। আদা ১৫০। রসুন কোথাও ২৫০, কোথাও ৩০০ টাকা, কোথাও আবার সাড়ে তিনশো। আনাজপাতির আগুন দামে মধ্যবিত্তের পকেট ফাঁকা হওয়ার জোগাড়। এই পরিস্থিতিতে জলপাইগুড়ি শহর এবং ময়নাগুড়িতে রবিবারের বাজারে অভিযান চালালেন প্রশাসনের আধিকারিকরা।
Advertisement
জলপাইগুড়ি শহরের একাধিক বাজারে হানা দেন সদরের মহকুমা শাসক তমোজিৎ চক্রবর্তী। ময়নাগুড়িতে অভিযান চালান বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, থানার আইসি সুবল ঘোষ। পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরো বাজারে আনাজের দামের বড়সড় পার্থক্য থাকায় বিক্রেতাদের রীতিমতো ধমক দেন জলপাইগুড়ি সদরের এসডিও। অভিযান চলাকালীন কয়েকজন ক্রেতা মহকুমা শাসককে বলেন, বাংলাদেশে আলু যাচ্ছে, এটা বলে জলপাইগুড়ির বিভিন্ন বাজারে বিক্রেতারা প্রতিদিন দাম বাড়িয়ে চলেছেন। যদিও এসডিও বলেন, বাংলাদেশে আলু যাচ্ছে, এমন কোনও তথ্য জানা নেই তাঁর। জিনিসপত্রের দাম বেশি নিলে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে টাস্ক ফোর্স। অভিযান চলাকালীন সব্জির দাম কিছুটা কমলেও আধিকারিকরা বাজার ছাড়তেই ফের আগের দামে বিক্রি হতে থাকে সবকিছু। ফলে অভিযান চালিয়ে লাভ কী হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ক্রেতারা।এসডিও বলেন, কৃষি বিপণন দপ্তরের আধিকারিকরা প্রতিদিনই বিভিন্ন বাজারে ঘুরছেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে তাঁদের। এদিকে, ক্রেতারা যাতে ন্যায্যমূল্যে আনাজপাতি কিনতে পারেন, সেজন্য জলপাইগুড়ির বিভিন্ন বাজারে সুফল বাংলার তরফে ভ্রাম্যমান স্টল চালু করা হয়েছে। এদিন জলপাইগুড়ি শহরের দিনবাজার, স্টেশন বাজার, বয়েলখানা বাজার, শিরিষতলা বাজার, পান্ডাপাড়া বাজার ও বউবাজারে সুফল বাংলার স্টল ছিল। ময়নাগুড়িতে দু’টি বাজার রয়েছে। নতুন ও পুরাতন বাজার। একই সব্জির দাম দুই বাজারে দু’রকম। জলপাইগুড়ি দিনবাজারে বিক্রেতারা বলেন, একবস্তা আলুতে অনেকটা পচা বের হচ্ছে। সেটা বাদ দিয়ে আলুর দাম নির্ধারণ করছেন। এটা শুনেই রেগে যান মহকুমা শাসক। খুচরো বিক্রেতাদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা কার কাছ থেকে বাজে জিনিস কিনবেন তার দায় সাধারণ ক্রেতারা নেবেন না। এদিন কয়েকজন আড়তদারের সঙ্গেও কথা বলেন টাস্ক ফোর্সের সদস্যরা। দরদাম নিয়ে তাঁরা যে ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, তাতে সন্তুষ্ট নন আধিকারিকরা। সোমবার আলুর হিমঘরগুলিতে অভিযান চালানোর কথা প্রশাসনের।



