নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সহায়িকা ও সম্প্রসারকের অভাবে জলপাইগুড়ির বহু এসএসকে এবং এমএসকে ধুঁকছে। অনেক জায়গায় এডুকেশন সুপারভাইজার নেই। ফলে শিশু শিক্ষাকেন্দ্র ও মধ্য শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে কেমন পড়াশোনা চলছে, তা দেখভালের লোক পাওয়া যাচ্ছে না। এনিয়ে সোমবার সহায়িকা ও সম্প্রসারক এবং এডুকেশন সুপারভাইজাররা জলপাইগুড়ি জেলা পরিষদের সামনে বিক্ষোভ দেখান। সভাধিপতি কৃষ্ণা রায় বর্মনকে স্মারকলিপি দেয় ওয়েস্টবেঙ্গল এসএসকে, এমএসকে অ্যান্ড এএস সমন্বয় সমিতি। সংগঠনের তরফে সহায়িকা, সম্প্রসারক ও এডুকেশন সুপারভাইজারদের সাম্মানিক ভাতা বৃদ্ধি এবং অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়। সভাধিপতি বলেন, এসএসকে, এমএসকে নিয়ে স্মারকলিপি পেয়েছি। প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বিষয়টি জানানো হবে। জেলায় ৫৫৬টি এসএসকে এবং ৬০টি এমএসকে রয়েছে। শিশু শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে সহায়ক সহায়িকার সংখ্যা ১৩৫৭জন। মধ্য শিক্ষাকেন্দ্রগুলিতে সম্প্রসারক রয়েছেন ২৩৭ জন। এডুকেশন সুপারভাইজার রয়েছেন ১৭ জন। সংগঠনের দাবি, একটি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে সহায়ক সহায়িকা মিলিয়ে চারজন থাকার কথা। কিন্তু বেশিরভাগ জায়গায় একজনই রয়েছেন। কোথাও আবার সেটাও নেই। একজন সহায়িকা একাধিক শিশু শিক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। ফলে দিনদিন কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা। এডুকেশন সুপারভাইজার মহসিনা বানু বলেন, সহায়িকা না থাকায় ক্রান্তির পূর্ব লাটাগুড়ি আইসিডিএস সেন্টারে চলা এসএসকে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। বন্ধের মুখে ক্রান্তির বালাডাঙি এসএসকে। অন্য একটি এসএসকে থেকে সহায়িকা এসে কোনওমতে ওই কেন্দ্রটি সামলাচ্ছেন। ক্রান্তি ব্লকে অন্তত ৬০টি শিশু শিক্ষাকেন্দ্রে একজন সহায়ক বা সহায়িকা রয়েছেন। সরস্বতী দাস নামে অপর এক এডুকেশন সুপারভাইজার বলেন, ক্রান্তির উত্তর সারিপাকরি একজন সম্প্রসারক দিয়ে এমএসকে চলছে। আন্দোলনকারী সংগঠনের তরফে আনন্দমোহন রায় বলেন, এসএসকে’র সহায়িকারা ১১ হাজার ১৪৫ টাকা সাম্মানিক ভাতা পান। এমএসকে’র সম্প্রসারকরা মাসে ভাতা পান ১৪ হাজার ৫২২ টাকা। এডুকেশন সুপারভাইজাররা পান ১৩ হাজার ১৫ টাকা। ভাতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সময়ে তা দেওয়ার দাবি জানানো হয় এদিন। অবসরকালীন সুবিধা প্রদানের দাবি জানানো হয়।
Advertisement



