Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়িতে বিক্রি হওয়া সিম থেকে ফোন করে দিল্লিতে প্রতারণা

জলপাইগুড়িতে বিক্রি হওয়া সিম থেকে ফোন করে দিল্লিতে প্রতারণা
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: সিম বিক্রি হয়েছে জলপাইগুড়ি শহরের দোকান থেকে। সেই সিম থেকে ফোন করে অনলাইনে প্রতারণা হয়েছে দিল্লিতে! ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিস দেখছে, জলপাইগুড়ি শহরের দোকান থেকে বিক্রি হওয়া ওই সিম কেনা হয়েছে মালবাজারের এক মহিলার নামে। এখানেই পুলিসের খটকা, মালবাজার থেকে কেউ ৫৭ কিমি দূরে জলপাইগুড়ি শহরে এসে কেন সিমকার্ড কিনবেন? সিম জালিয়াতি কাণ্ডের তদন্ত যত এগচ্ছে, ততই চক্রের পর্দা ফাঁস হচ্ছে। তদন্তে ইতিমধ্যেই স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম (সিট) গঠন করেছে জলপাইগুড়ি জেলা পুলিস। তাদের নজরে রয়েছে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে ইস্যু হওয়া ১৭২টি সিম। কারা সেসব সিম ব্যবহার করছে, কোথা থেকে কেনা হয়েছিল ওইসব সিম, যাঁদের নামে ওই সিমগুলি কেনা হয়েছিল, তাঁরা আদৌও বিষয়টি জানেন কি না, সেসবই খতিয়ে দেখছেন পুলিসের বিশেষ তদন্তকারী দলের সদস্যরা।
Advertisement
সোমবার পুলিস সুপার খণ্ডবাহালে উমেশ গণপত বলেন, সিম জালিয়াতি কাণ্ডে আমরা সিট গঠন করেছি। যার মাথায় রাখা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিস সুপার (গ্রামীণ) সমীর আহমেদকে। একাধিক থানায় এ সংক্রান্ত মামলা রুজু হয়েছে। সেসব মামলার তদারকিতে স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম তৈরি করা হয়েছে।
পুলিস সূত্রে খবর, সিম জালিয়াতির ঘটনায় জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার পাশাপাশি মাল, মেটেলি ও নাগরাকাটা থানা এলাকায় একটি করে মামলা দায়ের হয়েছে। ইতিমধ্যেই ধরা পড়েছে তিনজন। এদের মধ্যে দু’জনকে পাঁচদিনের এবং একজনকে তিনদিনের হেফাজতে পেয়েছে পুলিস। কীভাবে তারা সিম জালিয়াতি করত তা জানতে জেরা চালাচ্ছেন তদন্তকারী পুলিস অফিসাররা।
কোতোয়ালি থানা সূত্রে খবর, শহরের তিন নম্বর ঘুমটি এলাকায় একটি মোবাইলের দোকান থেকে মালবাজারের এক মহিলার নামে সিম বিক্রি করা হয়। ওই সিম থেকে কল করে দিল্লিতে অনলাইনে আর্থিক প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। এনিয়ে রূপেশ কুমার নামে এক ব্যক্তি সাউথ-ইস্ট দিল্লির সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিসের এক কর্তা বলেন, মালবাজারের যে মহিলার নামে ওই সিম কেনা হয়েছিল, তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। ওই মহিলা বিষয়টি আদৌও জানেন কি না, তা দেখা হচ্ছে।
এখনও পর্যন্ত তদন্তকারী পুলিস অফিসাররা যতটুকু জানতে পেরেছেন, কেউ নতুন সিমকার্ড নিতে এলে অভিযুক্তরা তাঁকে ভুল বুঝিয়ে বারবার বায়োমেট্রিক নিত। প্রতিবার বায়োমেট্রিকে ওই ব্যক্তির নামে একটি করে সিম ইস্যু হতো। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে তা না জানিয়ে ওইসব সিম পরবর্তীতে বিভিন্ন হাত ঘুরে মোটা টাকায় সাইবার প্রতারকদের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হতো।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ