Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে দেবতাজ্ঞানে পুজো পান উর্দিধারী

জলপাইগুড়ির বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে দেবতাজ্ঞানে পুজো পান উর্দিধারী
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: তখন শ্বাপদ সঙ্কুল জনপদ। পাশেই বৈকুণ্ঠপুরের ঘন জঙ্গল। তল্লাটে অল্প কয়েক ঘর বাস। রাত হলেই আতঙ্ক গ্রাস করত বাসিন্দাদের। এই বুঝি হানা দিল বাঘ! সেসময় বন্দুক হাতে রাতপাহারা দিয়ে হিংস্র বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে গ্রামবাসীকে রক্ষা করেছিলেন দুই রক্ষী। আসলে তাঁরা ছিলেন দেবী চৌধুরানির সহচর। বৈকুণ্ঠপুরের মানুষ যেমন আজও ভোলেননি দেবী চৌধুরানিকে, তেমনই মনে রেখেছেন তাঁর সেই সহচরদের। আর তাই জলপাইগুড়ির শিমলাডাঙি কিংবা দিল্লিভিটা চাঁদেরখালের বাসিন্দারা মন্দিরে দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠকের পাশাপাশি ওই উর্দিধারী রক্ষীদের মূর্তি গড়ে পুজো করেন। 
Advertisement
জলপাইগুড়ির বেলাকোবার শিমলাডাঙি মন্দিরে দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠকের মাটির মূর্তি রয়েছে। সারা বছর পূজিত হন তাঁরা। বাৎসরিক পুজো হয় নভেম্বরে। তাঁদের সঙ্গেই পুজো পান খাকি উর্দিধারী এক রক্ষী। পুলিসের পোশাকে ওই রক্ষীর এক হাতে বন্দুক, অন্য হাত বরাভয়। স্থানীয়রা তাকে বলেন পুলুস বাবা। পুলিস থেকেই পুলুস হয়েছে বলে মনে করেন অনেকে। 
বেলাকোবা হয়ে গেটবাজার। সেখান থেকে ফকটিয়া মোড়। ব্যারেজের সেতু দিয়ে যেতে হয় শিমলাডাঙি। এখানেই রয়েছে বৈকুণ্ঠনাথের মন্দির। পাশেই মা কালীর থান। বৃহস্পতিবার রাতে ঘটা করে পুজো হয়েছে কালীমায়ের। বলির পাঁঠার মাংসে ভোগ নিবেদন করা হয়েছে দেবীকে। সঙ্গে পুজো পেয়েছেন বাকি মূর্তিগুলিও।  মন্দিরে একটি বাঘের মূর্তিও আছে। দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয় তাকেও। বাসিন্দাদের দাবি, বৈকুণ্ঠপুরের জঙ্গলে যে একসময় বাঘ ছিল, ডোরাকাটার মূর্তি গড়ে পুজো করা তারই প্রমাণ। 
মন্দির কমিটির সম্পাদক জ্যোতিষ রায় বলেন, দেবী চৌধুরানি আমাদের চোখে মা দুর্গারই একটি রূপ। ডাকাতি করে আনা ধনসম্পদ তিনি গরিবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন। আর তাঁর রক্ষীরা বাঘের হাত থেকে রক্ষা করতেন এখানকার বাসিন্দাদের। একইসঙ্গে আগলে রাখতেন দেবীরূপী ডাকাতরানিকে। সেকারণেই আমরা একই আসনে দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠকের সঙ্গে তাঁর সিপাহীরও পুজো করি। জঙ্গল ঘেঁষা দিল্লিভিটা চাঁদেরখাল এলাকায় পূজিত হয় দেবী চৌধুরানির আর এক সহচর। 
জলপাইগুড়ির আঞ্চলিক গবেষক উমেশ শর্মা বলেন, দেবী চৌধুরানির দু’জন বন্দুকধারী বিশ্বস্ত সহচর ছিল। রঙ্গলাল ও রঙ্গরাজ। তারা যেমন দেবী চৌধুরানিকে রক্ষা করত, তেমনই হিংস্র বন্যপ্রাণীর আক্রমণ থেকে রক্ষা করত স্থানীয় বাসিন্দাদের। একারণে আজও দেবী চৌধুরানি ও ভবানী পাঠকের মূর্তির পাশে উর্দিধারী রক্ষীদেরও দেবতাজ্ঞানে পুজো করা হয়। এর সঙ্গে পুরোপুরি জড়িয়ে রয়েছে এলাকার মানুষের বিশ্বাস। তাঁরা মনে করেন, ওই সিপাহী আজও অলক্ষ্যে রক্ষা করে চলেছেন বৈকুণ্ঠপুরের মানুষকে।
সম্পর্কিত সংবাদ