Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে সারের কালোবাজারি, ব্যবসায়ীর দোকান সিল

জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়িতে সারের কালোবাজারি, ব্যবসায়ীর দোকান সিল
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি ও সংবাদদাতা, ময়নাগুড়ি: আলুচাষের সার নিয়ে চরম কালোবাজারির অভিযোগ। জলপাইগুড়ি থেকে ধূপগুড়ি কিংবা ময়নাগুড়ি সর্বত্রই সারের দাম অত্যাধিক বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ কৃষকদের। কালোবাজারির অভিযোগে জলপাইগুড়ি সদর ব্লকের মণ্ডলঘাট এলাকায় দেবেশ সরকার নামে এক সার ব্যবসায়ীর দোকান সিল করে দিয়েছে কৃষিদপ্তর। শোকজ করা হয়েছে তাকে। এছাড়াও জলপাইগুড়ি জেলায় অন্তত ১৫ জন সার ব্যবসায়ীকে সতর্ক করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার জানিয়েছেন উপ কৃষি অধিকর্তা গোপালচন্দ্র সাহা। তাঁর দাবি, কোথাও বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে জেলায় নজরদারি চালাচ্ছে ছ’টি টাস্ক ফোর্স। 
Advertisement
এদিন সকালে ময়নাগুড়িতে সার ব্যবসায়ীদের দোকানে হানা দেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। খতিয়ে দেখেন যাবতীয় নথিপত্র। উপস্থিত ছিলেন ময়নাগুড়ি ব্লকের কৃষি আধিকারিক মানসী বর্মন, বিডিও প্রসেনজিৎ কুণ্ডু, আইসি সুবল ঘোষ। প্রথমে আলুবীজ ব্যবসায়ীদের স্টলে অভিযান চালান তাঁরা। যাঁরা কাগজপত্র দেখাতে পারেননি, তাঁদের বুধবারের মধ্যে নথি জমা দিতে বলা হয়েছে। ময়নাগুড়ি বাজারে এদিন আলুর সার কিনতে এসেছিলেন কৃষক প্রফুল্ল সরকার। তিনি বলেন, আমি দু’বস্তা মিশ্রসার কিনেছি। ৩২০০ টাকা দাম নেওয়া হয়েছে। বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে বুঝতে পেরেও বাধ্য হয়ে নিতে হল। আব্দুল কাদের নামে এক কৃষক বলেন, ময়নাগুড়ি নতুন বাজারে ভুট্টার বীজ কিনতে এসেছিলাম। ২৬০০ টাকার বীজ নেওয়া হয়েছে ৩৬০০ টাকা। অভিযোগ, সারের বাড়তি দাম নেওয়া হলেও দোকান থেকে কোনও রসিদ দেওয়া হচ্ছে না। এদিন অভিযানের সময় কৃষি আধিকারিকরা সাফ জানিয়ে দেন, রসিদ ছাড়া কাউকে সার বিক্রি করা যাবে না। কোনও কৃষককে জোর করে বাড়তি সার কিনতে বাধ্য করা যাবে না। 
জলপাইগুড়ির মহকুমা শাসক তমোজিৎ চক্রবর্তী বলেন, গত ৩০ নভেম্বর সদর ব্লকের মণ্ডলঘাট এলাকায় এক সার ব্যবসায়ীর দোকানে আচমকা অভিযানে গিয়ে গরমিলের প্রমাণ পাই। ওই ব্যবসায়ী অনেকটা বেশি দামে সার বিক্রি করছিলেন। সেইসঙ্গে কাদের কাছে তিনি সার বিক্রি করছেন, তার কোনও রেকর্ড পাওয়া যায়নি দোকানে। এরপরই কৃষিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। দোকানটি সিল করে দেওয়া হয়েছে। মহকুমা শাসক বলেন, আরও কয়েকটি জায়গা থেকে সারের বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ আসছে। ব্যবসায়ীরা সতর্ক না হলে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
জলপাইগুড়ি জেলা সার ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক সিদ্ধার্থ সরকারের অবশ্য দাবি, সংগঠনের তরফে আমরা সমস্ত সার ব্যবসায়ীকে জানিয়ে দিয়েছি, ন্যায্যমূল্যের চেয়ে কোনওভাবেই বেশি দাম নেওয়া যাবে না। কোনও ব্যবসায়ী যদি বেশি দামে সার বিক্রি করেন আর তার বিরুদ্ধে যদি প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়, সংগঠন সেই ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়াবে না। 
জেলা উপ কৃষি অধিকর্তার দাবি, গত বছরের তুলনায় এবার জলপাইগুড়িতে আলুচাষের এলাকা বাড়ছে। কিন্তু কৃষকদের চিন্তার কারণ নেই। পর্যাপ্ত পরিমাণে সার মজুত রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ