Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যুতে উত্তেজনা

জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে রোগীর মৃত্যুতে উত্তেজনা
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: এক হাসপাতালে ভর্তি। অথচ আলট্রাসোনোগ্রাফির জন্য যেতে বলা হয় ২ কিমি দূরে অন্য হাসপাতালে। এই টানাহ্যাঁচড়ার মাঝেই শনিবার মৃত্যু হয় এক রোগীর। মৃতের নাম মমতা মণ্ডল (৪২)। বাড়ি ময়নাগুড়ির বক্সিরডাঙায়। ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ায় জলপাইগুড়ি মেডিক্যালে।
Advertisement
রোগীর পরিবারের অভিযোগ, জ্বর ও বুকে-পেটে ব্যথা নিয়ে বুধবার জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি হন মমতা। পেটে ব্যথা না কমায় এদিন সকালে চিকিৎসক ইউএসজি করাতে বলেন। হাসপাতালের তরফে জানানো হয়, এদিন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ইউএসজি হচ্ছে না। সদর হাসপাতাল থেকে করিয়ে আনতে হবে। ২ কিমি দূরে টোটোয় করে সেখানে নিয়ে যাওয়া হয় রোগীকে। কিন্তু ইউএসজি করানোর আগেই ওই মহিলার মৃত্যু হয়। এরপরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন পরিজনরা। তাঁদের বক্তব্য, যেখানে রোগী ভর্তি, সেখানেই আলট্রাসোনোগ্রাফি হওয়ার কথা। এভাবে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে রোগীকে নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করতে গিয়েই মৃত্যু হয়েছে মহিলার। মাঝরাস্তায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও কোনও চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। এটা যদি হাসপাতালের মধ্যে হতো, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসক কিছু একটা ব্যবস্থা করতে পারতেন।
জলপাইগুড়ি মেডিক্যালের সুপার কল্যাণ খাঁ বলেন, আমাদের মেডিক্যালে রেডিওলজিস্টের অভাব রয়েছে। জলপাইগুড়ি সদর ও সুপার স্পেশালিটি মেডিক্যাল কলেজেরই দু’টি ইউনিট। একজন রেডিওলজিস্ট সদর হাসপাতালে ইউএসজি করেন। কিন্তু অসুস্থ থাকায় তিনি ছুটিতে রয়েছেন। সুপার স্পেশালিটিতে যিনি ইউএসজি করেন, তাঁকেই সদর হাসপাতালে ছুটতে হচ্ছে। একার পক্ষে তো দু’টি হাসপাতালে একসঙ্গে ইউএসজি করা সম্ভব নয়। বিষয়টি স্বাস্থ্যভবনকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। যেকোনও মৃত্যুই দুর্ভাগ্যজনক। সদর হাসপাতালের পরিবর্তে সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ইউএসজি করাতে গিয়েও মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারত। চিকিৎসকের সামনেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। ওই মহিলার মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হবে।
মেডিক্যাল সূত্রে খবর, রেডিওলজিস্ট না থাকায় সপ্তাহে তিন দিন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ইউএসজি হচ্ছে। বাকি তিন দিন হচ্ছে সদর হাসপাতালে। এদিন সদর হাসপাতালে ইউএসজি’র ডেট ছিল। ফলে সুপার স্পেশালিটি থেকে রোগীদের সদরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মৃতার ভাইপো ভোলা মণ্ডল বলেন, সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের ওয়ার্ড থেকে কাকিমাকে নামিয়ে নীচে আনা হয়। আমাদের কাছে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করার মতো টাকা ছিল না। তাই টোটো ভাড়া করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কাগজপত্র জমা দিয়ে ইউএসজি করানোর আগেই কাকিমার মৃত্যু হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ