Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলপাইগুড়ি জেলায় পাঁচ লক্ষ পড়ুয়াকে ‘ঐক্যশ্রী’ স্কলারশিপ

জলপাইগুড়ি জেলায় পাঁচ লক্ষ পড়ুয়াকে ‘ঐক্যশ্রী’ স্কলারশিপ
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: জেলায় প্রায় ৫ লক্ষ সংখ্যালঘু পড়ুয়াকে ‘ঐক্যশ্রী’ প্রকল্পে স্কলারশিপ দিচ্ছে রাজ্য। এর মধ্যে প্রথম শ্রেণি থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত এই প্রকল্পে ভাতা পাচ্ছে ৪ লক্ষ ৫৭ হাজার ৬৮১ জন। মাধ্যমিকের পর থেকে পিএইচডি পর্যন্ত রাজ্যের দেওয়া এই স্কলারশিপ পাচ্ছেন, জলপাইগুড়িতে এমন পড়ুয়ার সংখ্যা ৩৪ হাজার ৯৬৪ জন। পাশাপাশি কারিগরি বিভাগে পড়াশোনা করা ‘ঐক্যশ্রী’ ভাতা প্রাপকের সংখ্যা ৫ হাজার ৫৪৫ জন। জেলাশাসক শমা পারভীন বলেন, ঐক্যশ্রী ভাতা পেয়ে বহু সংখ্যালঘু ছেলেমেয়ে তাদের পড়াশোনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। আমরা আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি, স্কলারশিপের জন্য আবেদন জমা পড়লে তা যেন দ্রুততার সঙ্গে যাচাইয়ের কাজ শেষ করা হয়।
Advertisement
জলপাইগুড়ি জেলা সংখ্যালঘু আধিকারিক অনুরাধা লামা বলেন, প্রথম শ্রেণি থেকে পিএইচডি পর্যন্ত স্কলারশিপ পাওয়ার সুযোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, যাঁরা কারিগরি বিভাগে পড়াশোনা করছেন, তাঁরাও এই ভাতা পাবেন। ঐক্যশ্রী পেতে পড়ুয়ার অভিভাবকের বার্ষিক আয় যেমন অন্যতম একটি মাপকাঠি, তেমনই সংশ্লিষ্ট পড়ুয়াকে ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সংখ্যালঘু পড়ুয়ারা বার্ষিক স্কলারশিপ পাচ্ছে ১ হাজার ১০০ টাকা। ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বছরে মিলছে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করলে অনেকটাই বেশি। সেক্ষেত্রে মিলছে ১১ হাজার টাকা। একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা বছরে ঐক্যশ্রীর স্কলারশিপ হিসেবে পাচ্ছেন ১০ হাজার ২০০ টাকা। হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করলে তা বেশি, ১১ হাজার ৯০০ টাকা। উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে যাঁরা কারিগরি বিভাগে পড়াশোনা করছেন, তাঁরা বছরে এই ভাতা পাচ্ছেন সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। হস্টেলে থেকে পড়াশোনা করলে মিলবে ১৫ হাজার ২০০ টাকা। স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পড়ুয়াদের জন্য ‘ঐক্যশ্রী’র ভাতা বছরে ৬ হাজার ৬০০ টাকা। হস্টেলে থাকলে মিলবে ৯ হাজার ৬০০ টাকা। পিএইচডি’র ক্ষেত্রে ভাতার পরিমাণ ৯ হাজার ৩০০ টাকা। হস্টেলে থেকে পিএইচডি করলে সাড়ে ১৬ হাজার টাকা।
জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, ‘ঐক্যশ্রী’ স্কলারশিপ পেতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সংখ্যালঘু পড়ুয়াদের অভিভাবকের বার্ষিক আয় দু’লাখ টাকার নীচে হতে হবে। যারা কারিগরি বিভাগে পড়ছে, তারা যদি এই ভাতা পেতে চায়, সেক্ষেত্রে তাদের অভিভাবকের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার বেশি হলে চলবে না।
স্কলারশিপের পাশাপাশি সংখ্যালঘু মহিলারা যদি স্বনির্ভর গোষ্ঠী তৈরি করেন, তাঁরা প্রথমবার মাথাপিছু ২২ হাজার টাকা ঋণ পেতে পারেন। সেই ঋণ শোধ করতে দ্বিতীয়বার পেতে পারেন ২৫ হাজার। তৃতীয়বার পেতে পারেন ৩০ হাজার টাকা। এই ঋণ দিচ্ছে রাজ্যের সংখ্যালঘু উন্নয়ন বিত্ত নিগম। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে জলপাইগুড়ি জেলায় এখনও পর্যন্ত ১৩ হাজার ৩৯১ জনকে এই ঋণ দেওয়া হয়েছে। সেইসঙ্গে সংখ্যালঘু বিত্ত নিগমের তরফে জলপাইগুড়িতে টার্ম লোন পেয়েছেন ১ হাজার ৬০৩ জন। এক্ষেত্রে ছোটখাট ব্যবসার জন্য ৫০ হাজার থেকে দু’লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুবিধা রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ