Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলঙ্গিতে অর্ধনির্মিত অবস্থায় সেতু, আইনি জটিলতায় বিপাকে করিমপুর ও বক্সিপুর

জলঙ্গিতে অর্ধনির্মিত অবস্থায় সেতু, আইনি জটিলতায় বিপাকে করিমপুর ও বক্সিপুর
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, করিমপুর: আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘদিন পড়ে রয়েছে নদীয়ার করিমপুর ও পড়শি জেলা মুর্শিদাবাদের বক্সিপুরের মধ্যে জলঙ্গি নদীর উপর অর্ধনির্মিত কংক্রিট সেতু। এই সেতু নির্মাণে সরকারের বহু টাকা খরচ হলেও সেতুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দুই জেলার মানুষের সুবিধার্থে নব্বইয়ের দশকে এখানে একটি কংক্রিট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা করেছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। সেই সেতু নির্মাণের কাজ একসময় শুরুও হয়েছিল। কিন্তু জমিজটে থমকে গিয়েছে সেতুর কাজ। প্রায় কুড়ি বছর পরেও একই অবস্থায় পড়ে রয়েছে অর্ধনির্মিত সেতু। পরিবর্তে মানুষের যাতায়াতের সুবিধার জন্য মাটি আর ইট দিয়ে মৃতপ্রায় নদীর মাঝ দিয়েই তৈরি হয়েছে স্থায়ী রাস্তা। 
Advertisement
বক্সিপুরের বাসিন্দা ছবি বিশ্বাস বলেন, মুর্শিদাবাদের বক্সিপুর ঘাট পেরিয়ে প্রায় পাঁচশো মিটার দূরে করিমপুর বাজার। মুর্শিদাবাদের ডোমকল থানার বহু শ্রমিক, ছাত্রছাত্রী, চাকরিজীবী কিংবা চাষিরা প্রতিদিন করিমপুরে আসেন আবার করিমপুরের অনেক লোকজন বিভিন্ন কাজে মুর্শিদাবাদে যান। সব মিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৫ হাজার মানুষকে নদী পার হতে হয়। অথচ আজ পর্যন্ত সেতু তৈরি হল না। এলাকার লোকজন জানান, শোনা যায়, ওই সেতু তৈরির শুরুতেই কিছু ত্রুটি ছিল। প্রথমত, নব্বইয়ের দশকে তৎকালীন বামফ্রন্ট শাসিত সরকার একটি জায়গায় সেতুটি তৈরির পরিকল্পনা করে এবং তার শিলান্যাসও করা হয়। কিন্তু তার কয়েক বছর পর সেই জায়গা পরিবর্তন করে অন্য স্থানে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়। ওই সেতু তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন না হতেই ২০০৫ সাল নাগাদ কয়েক কোটি টাকা খরচ করে তড়িঘড়ি সেতুর কাজ শুরু হয়। অথচ সেতু তৈরি করতে করিমপুর প্রান্তে বহু মানুষের বাড়ি ভাঙতে হতো। সেই কারণে জমির মালিকরা আদালতের দ্বারস্থ হন। আইনি সমস্যার কারণে তখন থেকেই সেতুর কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তারপর প্রায় বিশ বছর কেটে গেলেও সেতু সেভাবেই পড়ে রয়েছে। করিমপুরের রতন বিশ্বাস জানান, এই নদী পেরিয়ে ডোমকলের দূরত্ব করিমপুর থেকে মাত্র পচিশ কিমি। অন্য পথে দূরত্ব বেড়ে চল্লিশ কিমি। তাই সকলেই এই নদী পেরিয়ে যান। নদী পারাপারে একটি সেতু থাকলে সকলের অনেক সুবিধা হতো। সেতু না থাকায় বর্ষার সময়ে বাঁশের সাঁকো আর বছরের অন্য সময় নদীর উপর তৈরি রাস্তা পেরিয়ে সাইকেল, ভ্যান, বাইক এবং ইঞ্জিন চালিত ছোট গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে বর্ষাকালে ঝুঁকি নিয়ে সবাইকে যাতায়াত করতে হয়। তখন বেশি জল না থাকার জন্য নৌকা চলে না বলে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। কামুড়দিয়ারের চাষি ইব্রাহিম মণ্ডল বলেন, ডোমকল থানার কামুড়দিয়ার, ঘোড়ামারা, মোমিনপুর বক্সিপুরের বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য করিমপুর হাসপাতালে, ছাত্রছাত্রীরা করিমপুর কলেজে, চাষিরা জমিতে উৎপাদিত আনাজ বিক্রি করতে করিমপুর বাজারে যান। তাই সকলেই এই সমস্যায় ভোগেন।  
সম্পর্কিত সংবাদ