Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলঙ্গির ফরিদপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধুঁকছে, নেই চিকিৎসক, রোগী দেখেন নার্স ও ফার্মাসিস্ট

জলঙ্গির ফরিদপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ধুঁকছে, নেই চিকিৎসক, রোগী দেখেন নার্স ও ফার্মাসিস্ট
  • ৯ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: একসময় হাসপাতালে চালু ছিল ইন্ডোর পরিষেবা।  চিকিৎসক-রোগীর ভিড়ে গমগম করত হাসপাতাল চত্বর। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসকদের কেউ অন্যত্র বদলি হয়েছেন, কেউ অবসর নিয়েছেন। ফলে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাবে দীর্ঘদিন আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছে ইন্ডোর পরিষেবা। কোনওক্রমে একজন চিকিৎসককে দিয়ে আউটডোর পরিষেবা চালু রাখা হয়েছিল। মাসখানেক আগে তিনিও অন্যত্র চলে যাওয়ায় জলঙ্গির ফরিদপুর প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আউটডোর পরিষেবা কার্যত ধুঁকছে। বর্তমানে চিকিৎসকও না থাকায় একজন নার্স আর ফার্মাসিস্ট রোগী দেখেন। তাঁরাই কোনওরকমে টিমটিম করে জিইয়ে রেখেছেন হাসপাতালের আউটডোর পরিষেবা। 
Advertisement
জলঙ্গির পাকুড়দিয়ার এলাকায় অবস্থিত ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, আশেপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী চিকিৎসার জন্য এখানে আসেন। হাসপাতালে চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের চিকিৎসা করেন নার্স ও ফার্মাসিস্ট। স্থানীয়দের দাবি, একটা সময়ে হাসপাতাল চত্বরে অন্যরকম পরিবেশ ছিল। চিকিৎসকরা হাসপাতালের কোয়ার্টারেই থাকতেন। দূরদূরান্ত থেকে রোগীরা আসতেন। তাঁদের ভিড়ে গমগম করত চারিদিক। ইন্ডোর পরিষেবা মিলত। কিন্তু, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলাতে থাকে ছবিটা। ধীরে ধীরে চিকিৎসকরা হাসপাতাল ছাড়তে থাকেন। তারপর থেকেই এই হাসপাতাল ধুঁকতে থাকে। একের পর এক ভবনকে আগাছা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ফেলে। যদিও প্রশাসনের একাংশের দাবি, একসময় এলাকার দুষ্কৃতীদের প্রভাবের জন্যই চিকিৎসকরা এলাকা ছেড়ে চলে যান। ফলে ধীরে ধীরে এই দুরবস্থা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে এখানে একজন নার্স, একজন ফার্মাসিস্ট ও জিডিএ স্টাফ রয়েছেন। হাসপাতালের একমাত্র চিকিৎসক মাসখানেক আগে অন্যত্র চলে যান। চিকিৎসকের সমস্যার জন্য হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসারকে পাশের এলাকার জলঙ্গির সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে ডিউটি করতে হয়। ফলে তাঁর পক্ষে ওই হাসপাতাল সামলে এখানে ডিউটি করা সম্ভব হয় না। সেই কারণে ওই ফার্মাসিস্ট ও নার্সকে রোগীদের সামাল দিতে হয়। সাধারণত ছোটখাট সমস্যা নিয়ে বাসিন্দারা স্বাস্থ্যকেন্দ্র যান। না হলে সামান্য কাটাছেঁড়ার জন্যও ছুটতে হয় ১০ কিমি দূরের সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে।
স্থানীয় বাসিন্দা পারভেজ আতিক বলেন, জরুরি পরিষেবা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে মেলে না। সামান্য কাটাছেঁড়াতেও দৌড়াতে হয় দূরবর্তী হাসপাতালে। দিনের পর দিন হাসপাতালের এমন দুরবস্থা হলেও স্বাস্থ্যদপ্তরের কোনও হেলদোল নেই।
জলঙ্গির বিএমওএইচ ওয়াসিম রেজা বলেন, হাসপাতালের আগের চিকিৎসক অন্যত্র চলে যাওয়ার পরেই ওই সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে। নতুন করে চিকিৎসক নিয়োগ হলেই সেখানে চিকিৎসক পাঠানো হবে।  -নিজস্ব চিত্র
সম্পর্কিত সংবাদ