সংবাদদাতা, তেহট্ট: জলঙ্গির জল কমতেই নদীর দুই তীরে জল আটকে তৈরি করা হচ্ছে চাষের জমি, যা পুরোপুরি বেআইনি। এতে নদীর গতিপথে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থেকে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন পরিবেশ কর্মীরা।
Advertisement
পরিবেশ কর্মীদের দাবি, যেখানে জলঙ্গিকে বাঁচাতে প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে আমরা ক্রমাগত প্রচার চালাচ্ছি, সেখানে কিছু অসাধু ব্যক্তি নদীকে শেষ করতে উঠেপড়ে লেগেছে। তাদের এই উদ্দেশ্য যাতে সফল না হয় তারজন্য আমরা সব রকম চেষ্টা করব। তেহট্ট মহকুমার চারটি ব্লকে বিভিন্ন এলাকায় জলঙ্গি নদীর জল আটকে চাষজমি তৈরি হচ্ছে। পরিবেশ কর্মীদের অভিযোগ, নদীর জল কমেছে। এই সুযোগ নিয়েই নদীর একপাশে কম জলে মাটি দিয়ে সেই জল আটকানো হচ্ছে। তারপর চাষযোগ্য ছোট ছোট অংশে তৈরি করা হচ্ছে জমি। এই অংশগুলিতে ধানের চারা রোপণের পরিকল্পনা চলছে। কোথাও কোথাও ধানের চারা বসানো হয়েও গিয়েছে। পরিবেশ কর্মীরা বলেন, জল দূষণ প্রতিরোধ আইনে বলা আছে, নদীর গতিপথে কোনও নির্মাণ বা চাষাবাদ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। জলঙ্গির পাশে যেভাবে এই কাজ করা হচ্ছে তাতে এখনও মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে বলে মত পরিবেশ কর্মীদের। এতে নদীর প্রবাহ পথের পরিবর্তন হতে পারে। নদী দূষণ পর্যন্ত হতে পারে। নদী বাঁচাতে ২০১০ সাল থেকে আন্দোলন করছে ‘জলঙ্গি নদী বাঁচাও কমিটি’, ‘সেভ জলঙ্গি’, ‘জলঙ্গি নদী সমাজ’-এর মতো পরিবেশ সংগঠন। এই সব সংগঠনের সদস্যরা বলেন, নদীর মাঝে বাঁধাল দেওয়া যেমন অবৈধ, ঠিক তেমনই এই কাজও সম্পূর্ণ অবৈধ। নদী নিয়ে কিছু মানুষের সচেতনতার অভাব রয়েছে। আমরা এই চাষজমি তৈরি নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছি। আশা করছি প্রশাসন খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। সেচ ও নদী পথ বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, এই ভাবে নদীর পথ আটকে চাষজমি করা সম্পূর্ণ বেআইনি। এর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে।



