Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলচুরি রুখতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ মন্ত্রীর

জলচুরি রুখতে কঠোর পদক্ষেপের নির্দেশ মন্ত্রীর
  • ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পানীয়জল প্রকল্পে অনিয়ম রোধে আরও কঠোর হচ্ছে প্রশাসন। যে সব বাণিজ্যিক সংস্থা জল চুরি করছিল তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় জেনারেল ডাইরি করে সংযোগ কেটেছে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। ওই সংস্থা আবার অবৈধ জলের সংযোগ করলে এবার থানায় এফআইআর করা হবে। সংস্থার মালিককে গ্রেপ্তার করানো হবে। শনিবার মন্ত্রী মলয় ঘটকের নেতৃত্বে প্রশাসনিক বৈঠকে এমনই কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জানা গিয়েছে, বৈঠকে মন্ত্রী নির্দিষ্ট এলাকার নাম ধরে জল চোরদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পানীয় জলের সমবণ্টন করার জন্যও জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি ২০২৫ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সব প্রকল্প শেষ করার উপরও জোর দেওয়া হয়েছে। শহর কিংবা গ্রাম, পশ্চিম বর্ধমান জেলার বিস্তীর্ণ অংশে পানীয় জলের সঙ্কট রয়েছে। দুর্গাপুরে শহরে বেশিরভাগ এলাকায় পর্যাপ্ত পানীয় জল পৌঁছলেও আসানসোল শহরের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জল সমস্যায় ভুগছেন। একই অবস্থা খনি অঞ্চল অণ্ডাল, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়া, পাণ্ডবেশ্বরের। বারাবনি এলাকারও কিছু এলাকায় পানীয় জলের সমস্যা রয়েছে। এই অবস্থায় জল জীবন মিশন প্রকল্পে সমস্যা সুরাহার আশা দেখেছিলেন অনেকেই। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। কখনও প্রকল্পের পাইপ চুরি আবার কখনও ঠিকাদারের গড়িমসিতে কাজ এগোয়নি। 
Advertisement
শুধু নতুন প্রকল্পই নয়, জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের পুরনো যে সব প্রকল্পে এলাকায় জল পাওয়ার কথা তা পাচ্ছে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে গিয়ে দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে চলছে জল চুরি। কারখানা থেকে হোটেল বড় বা঩ণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলি জলচুরি করছে। মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পর এই জলচুরি ঠেকাতে তৎপর হয় প্রশাসন। এনিয়ে এদিন মন্ত্রী মলয় ঘটকের গলায় চড়া সুর ছিল। বৈঠকে তিনি চিত্তরঞ্জন নিয়ামতপুর রাস্তার পাশ সহ বিভিন্ন এলাকায় জল চুরির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি পুরনো কল্যাণেশ্বরী জলপ্রকল্প থেকে কুলটি এলাকায় কেন পর্যাপ্ত জল যাচ্ছে না সে প্রশ্নও তোলেন। অসাধু একটি চক্র জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মেন লাইন ফাটিয়ে জলচুরি করলেও কেন তাঁদের নামে এতদিন এফআইআর করা হয়নি তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। 
প্রসঙ্গত, আসানসোলের একের পর এক পুকুর ভরাট নিয়ে এলাকার বিধায়ক মলয় ঘটক জেলাশাসককে লিখিত অভিযোগ করেন। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী কড়া হুশিয়ারি দেন পুকুর ভরাট নিয়ে। তারপরই একের পর এক জমি মাফিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। এখন দেখার এদিনের বৈঠকের পর জল চুরি কাণ্ডে কোনও রাঘব বোয়াল গ্রেপ্তার হয় কিনা। 
মন্ত্রী বলেন, গরিব মানুষ জল পাবে না এটা মেনে নেওয়া যায় না। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো আমরা এনিয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছি। কাউকে রেয়াত করা হবে না।
সম্পর্কিত সংবাদ