বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: ফেসবুকে ফের বিস্ফোরক বিজেপির প্রাক্তন জেলা সহ সভাপতি তথা নলহাটি বিধানসভার তিনবারের প্রার্থী অনিল সিং। তাঁর অভিযোগ, জেলা সভাপতিরা তৃণমূলের দালালি করে মাসোহারা নিয়ে অর্ধেক ভাগ রাজ্যের নেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। সেই কারণেই মানুষ চাইলেও এই নেতারা বাংলায় দলকে ক্ষমতায় আসতে দিচ্ছেন না। এমনিতেই সদস্য সংগ্রহে সেভাবে সাড়া নেই, তার উপরে সামাজিক মাধ্যমে দলের পুরনো কার্যকর্তার এই মন্তব্যে চরম অস্বস্তিতে পড়েছে গেরুয়া শিবির। সরগরম বীরভূমের জেলা রাজনীতিও।
Advertisement
এর আগেও বিভিন্ন সময় জেলা সভাপতির বিরুদ্ধে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন অনিল সিং। তার জেরে ২০২২ সালের মে মাসে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কিন্তু তারপরও বিজেপির ঝান্ডা নিয়ে নিজের মতো সংগঠনের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। যদিও বহিষ্কার প্রত্যাহারের শর্তে লোকসভা ভোটে তাঁকে দলীয় প্রার্থীর হয়ে প্রচারে নামানো হয়েছিল। জেলা সভাপতির সঙ্গে একসঙ্গে প্রচারও করেছেন। কিন্তু বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়নি। তা নিয়ে অনিলবাবুর কোনও অনুযোগ নেই। বরং তিনি ঘোষণা করেছেন, বিজেপির পতাকা কাঁধেই নেতাদের একাংশের তোলাবাজি এবং অনৈতিক কাজের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই জারি থাকবে।
দু’দিন আগে অনিলবাবু নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘বাংলায় ক্ষমতায় আসতে ১৪৮টি আসন পাওয়া বিজেপির পক্ষে বড় কথা নয়। কিন্তু মানুষ চাইলেও রাজ্যের কয়েকটি নেতা ক্ষমতায় আসতে দিচ্ছেন না। এঁরা দিনে বিজেপি, রাতে তৃণমূলের দালালি করে দলটাকে শেষ করে দিচ্ছেন। প্রত্যেক জেলায় পুরনো কার্যকর্তাদের বসিয়ে রেখে নিজেদের লবি তৈরি করে তৃণমূলের কাছ থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন। জেলা সভাপতিরা সেই মাসোহারা তুলে অর্ধেক ভাগ রেখে রাজ্যের নেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই মাসোহারা বন্ধ করতে পারলেই ২৬ সালে এ রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে কোনও শক্তি আটকাতে পারবে না।’
অনিলবাবুর বিদ্রোহ এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক মন্তব্যের জন্য অনিল সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করছেন জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা। তা সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। তাঁর দাবি, ‘আমি প্রমাণ ছাড়া কোনও মন্তব্য করি না। ফলে, মামলায় আমার ভয় নেই।’ এদিকে পোষ্ট করা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘এদের নেতৃত্বে লোকসভার আসন সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২ হয়েছে। বিধানসভাতেও ভোটের শতাংশ কমেছে। উপনির্বাচনে মাদারিহাট বিধানসভা আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। ক্রমশ আমরা পিছনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আসলে, নেতাদের দুর্নীতির জন্য বাংলার মানুষ আর বিশ্বাস করছে না। দুর্নীতির দায়ে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলে যেতে হয়েছে। অথচ, বিজেপির লোক চুরি করলে তাঁদের শাস্তি হবে না কেন? তাঁরা আগে কী ছিল, এখন তাঁদের সম্পত্তি কী পরিমাণ হয়েছে, সেটার তদন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সেটা না করে উল্টে দুর্নীতিবাজ নেতাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জন্যই রাজ্যে বিজেপির এই অবস্থা। তৃণমূলের কাছে বিক্রি হয়ে বিজেপির অসংখ্য কর্মীর স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে ওইসব নেতা।’
প্রত্যাশামতো অনিলবাবুকে আক্রমণের রাস্তায় হেঁটেছে বিজেপি। দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘অবান্তর মন্তব্য। যাঁরা এই ধরণের মন্তব্য করছেন, তাঁরাই তৃণমূলের লোক। টাকা খেয়ে এইসব কথা বলছেন।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অনিলবাবু তাঁর দলের নেতাদের সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন, সেই ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে পারি, ওঁদের পদ্ম ক্রমেই শুকিয়ে আসছে, তা বেশ স্পষ্ট।’
দু’দিন আগে অনিলবাবু নিজের ফেসবুক পেজে লেখেন, ‘বাংলায় ক্ষমতায় আসতে ১৪৮টি আসন পাওয়া বিজেপির পক্ষে বড় কথা নয়। কিন্তু মানুষ চাইলেও রাজ্যের কয়েকটি নেতা ক্ষমতায় আসতে দিচ্ছেন না। এঁরা দিনে বিজেপি, রাতে তৃণমূলের দালালি করে দলটাকে শেষ করে দিচ্ছেন। প্রত্যেক জেলায় পুরনো কার্যকর্তাদের বসিয়ে রেখে নিজেদের লবি তৈরি করে তৃণমূলের কাছ থেকে মাসোহারা নিচ্ছেন। জেলা সভাপতিরা সেই মাসোহারা তুলে অর্ধেক ভাগ রেখে রাজ্যের নেতাদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। এই মাসোহারা বন্ধ করতে পারলেই ২৬ সালে এ রাজ্যে বিজেপির ক্ষমতায় আসার ক্ষেত্রে কোনও শক্তি আটকাতে পারবে না।’
অনিলবাবুর বিদ্রোহ এই প্রথম নয়। এর আগেও একাধিক মন্তব্যের জন্য অনিল সিংয়ের বিরুদ্ধে মামলা করছেন জেলা ও রাজ্য স্তরের নেতারা। তা সত্ত্বেও তিনি দমে যাননি। তাঁর দাবি, ‘আমি প্রমাণ ছাড়া কোনও মন্তব্য করি না। ফলে, মামলায় আমার ভয় নেই।’ এদিকে পোষ্ট করা নিয়ে তাঁর মন্তব্য, ‘এদের নেতৃত্বে লোকসভার আসন সংখ্যা ১৮ থেকে কমে ১২ হয়েছে। বিধানসভাতেও ভোটের শতাংশ কমেছে। উপনির্বাচনে মাদারিহাট বিধানসভা আমাদের হাতছাড়া হয়েছে। ক্রমশ আমরা পিছনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। আসলে, নেতাদের দুর্নীতির জন্য বাংলার মানুষ আর বিশ্বাস করছে না। দুর্নীতির দায়ে অনুব্রত মণ্ডলকে জেলে যেতে হয়েছে। অথচ, বিজেপির লোক চুরি করলে তাঁদের শাস্তি হবে না কেন? তাঁরা আগে কী ছিল, এখন তাঁদের সম্পত্তি কী পরিমাণ হয়েছে, সেটার তদন্ত প্রয়োজন। কিন্তু সেটা না করে উল্টে দুর্নীতিবাজ নেতাদের কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। এই জন্যই রাজ্যে বিজেপির এই অবস্থা। তৃণমূলের কাছে বিক্রি হয়ে বিজেপির অসংখ্য কর্মীর স্বপ্নকে ভেঙে চুরমার করে দিচ্ছে ওইসব নেতা।’
প্রত্যাশামতো অনিলবাবুকে আক্রমণের রাস্তায় হেঁটেছে বিজেপি। দলের বীরভূম সাংগঠনিক জেলা সভাপতি ধ্রুব সাহা বলেন, ‘অবান্তর মন্তব্য। যাঁরা এই ধরণের মন্তব্য করছেন, তাঁরাই তৃণমূলের লোক। টাকা খেয়ে এইসব কথা বলছেন।’ অন্যদিকে, তৃণমূলের জেলা মুখপাত্র মলয় মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘অনিলবাবু তাঁর দলের নেতাদের সম্পর্কে কী মন্তব্য করেছেন, সেই ব্যাপারে কিছু বলতে চাই না। তবে এটা বলতে পারি, ওঁদের পদ্ম ক্রমেই শুকিয়ে আসছে, তা বেশ স্পষ্ট।’



