Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা পরিষদের টেন্ডার নিয়ে জোর বিতর্ক দক্ষিণ দিনাজপুরে

জেলা পরিষদের টেন্ডার নিয়ে জোর বিতর্ক দক্ষিণ দিনাজপুরে
  • ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: কিছুতেই টেন্ডার বিতর্ক ঝেড়ে ফেলতে পারছে না দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদ।
Advertisement
অনেক টালবাহানার পর প্রায় দু’মাস পর নভেম্বরে খোলা হয়েছিল টেকনিক্যাল ও ফিনান্সিয়াল বিড। এবার সেই টেন্ডার ঘিরে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুললেন এক ঠিকাদার।
ফিনান্সিয়াল বিড খোলার পর কে কাজ পেয়েছে, তা সরকারি ওয়েবসাইটে আপলোড করে কাজের অনুমতি দিতে হয়। সেই পদ্ধতি মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন ঠিকাদার জাহাঙ্গীর মুনসি। তাঁর কথায়, বুঝতে পারছি না কেন এত গোপনীয়তা। আমি টেন্ডারে অংশ নিয়ে কাজ পেয়েছি। কিন্তু ওয়েবসাইটে সেই তথ্য আপলোড করা হচ্ছে না। একইভাবে আমাকে ওয়ার্ক অর্ডারও দেওয়া হয়নি।
টেন্ডার প্রক্রিয়া পিছিয়ে যাওয়ার জন্য কয়েক কোটি টাকার সরকারি প্রকল্প শুরু না হওয়ায় উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে। উপায় না দেখে জাহাঙ্গীর জেলাশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। জেলাশাসককে ফোন ও মেসেজ করা হলেও এবিষয়ে তিনি প্রতিক্রিয়া জানাননি।
জেলা পরিষদের সেক্রেটারি সুমন বাগ দাস বলেন, উন্নয়ন থমকে নেই। যে টেন্ডারগুলি করা হয়েছে, সেগুলির কাজ শুরু করার জন্য ধীরে ধীরে ঠিকাদারদের ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে আসল কারণ বলতে পারব।
জেলা পরিষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২ আগস্ট ১২ কোটি টাকার কাজের টেন্ডার ডাকা হয়। অংশগ্রহণের শেষ দিন ছিল ৯ সেপ্টেম্বর। নোটিস অনুযায়ী ১১ সেপ্টেম্বর টেকনিক্যাল বিড খোলার কথা থাকলেও তা খোলা হয়নি। ‘বর্তমান’ পত্রিকায় সেবিষয়ে খবর প্রকাশিত হওয়ার  পর  প্রথমে টেকনিক্যাল ও কিছুদিন পর ফিনান্সিয়াল বিড খোলা হয়। 
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ফিনান্সিয়াল বিড খোলার পর যে ঠিকাদার কাজ পান, তাঁর মোবাইলে মেসেজ চলে যায়। বাকি অংশগ্রহণকারী ঠিকাদাররাও ওয়েবসাইটে দেখতে পান কাজ কে পেয়েছে। তবে এক্ষেত্রে ১২ ও ১৩ নম্বর নোটিসের কয়েক কোটি টাকার কাজের ফিনান্সিয়াল বিড খোলা হলেও তা কোনওভাবে ওয়েবসাইটে আপলোড করা হচ্ছে না। যা নিয়ে ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছেন ঠিকাদারদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, কাজ কে পাবেন, কোন টেন্ডারে কে অংশগ্রহণ করবে, সেসব সিন্ডিকেটের নেতারা ঠিক করেন। ফলে মতের মিল না হওয়ায় প্রক্রিয়ায় দেরি হচ্ছে। গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জন্য জেলা পরিষদে একের পর এক টেন্ডারে দেরি হওয়ায় একাধিক উন্নয়নমূলক কাজও থমকে রয়েছে। সেজন্যই পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচের নিরিখে জেলা অনেক পিছিয়ে। টাকা খরচ বাড়ানোর জন্য জেলাশাসক পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে বারবার নির্দেশ দিলেও একাংশের গাফিলতির জন্য প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। 
সম্পর্কিত সংবাদ