Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলা পরিষদে কোন্দলের জেরে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা নদীয়ায়

জেলা পরিষদে কোন্দলের জেরে উন্নয়নমূলক কাজে বাধা নদীয়ায়
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: নদীয়া জেলা পরিষদের কাজের অগ্রগতি নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করেছেন রাজ্যের শীর্ষ আধিকারিকরা। সামগ্রিকভাবে নদীয়া জেলা পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা ব্যবহারে ভালো ফল করলেও, জেলা পরিষদের কাজে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রবীন্দ্র ভবনে পঞ্চায়েত দপ্তরের পর্যালোচনা বৈঠকে তা নিয়ে আলোচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার, পঞ্চায়েত দপ্তরের সেক্রেটারি পি উলগানাথন, জেলা প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের থেকে শুরু করে পঞ্চায়েতের প্রধানরা। সেখানেই নদীয়া জেলা পরিষদের উন্নয়নমূলক কাজে টাকা খরচের নিরিখে পিছিয়ে থাকার বিষয়টি উত্থাপিত হয়। জেলা পরিষদের কাজে গতি না আসার বিষয় নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি ঠিকাদারের সঙ্গে জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের ‘ভাগ বাটোয়ারা’তে বাধা পড়ছে, নাকি জেলা পরিষদে শাসকদলের গৃহযুদ্ধের জন্যই ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়নমূলক কাজ? 
Advertisement
নদীয়ার জেলাশাসক এস অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচে নদীয়া জেলা রাজ্যের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিতে অনেক দ্রুত কাজ হচ্ছে। জেলা পরিষদের কাজেও যাতে অগ্রগতি আসে, তাই নিয়ে আমরা কাজ করব।’
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচ করা নিয়ে রাজ্যের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নদীয়া জেলা। প্রায় ৮০ শতাংশ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। যদিও তার সিংহভাগ কৃতিত্বই গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির। কারণ দেখা যাচ্ছে, গ্রাম পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সমিতিতে যে টাকা ব্যয় হয়েছে, শতাংশের হিসাবে তার অর্ধেকের কম খরচ হয়েছে জেলা পরিষদে। এই বিস্তর পার্থক্য নিয়েই উষ্মা প্রকাশ করেন পঞ্চায়েত দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিকরা। 
দেখা যাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নদীয়া জেলা পরিষদে এখনও পর্যন্ত পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের মাত্র ৪১ শতাংশ টাকা খরচ হয়েছে। তারই নিরিখে নদীয়া জেলা রাজ্যের মধ্যে দ্বাদশ স্থানে রয়েছে। সেখানে নদীয়া জেলার ১৮টি পঞ্চায়েত সমিতিতে উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয়ের পরিমাণ ৯০.৪৯ শতাংশ এবং ১৮৫টি গ্রামে পঞ্চায়েতের মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৯১ শতাংশ। জানা গিয়েছে, বিগত এক বছর ধরে জেলাশাসক লাগাতার গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। জেলাশাসকের তদারকিতেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত ব্যবস্থার গ্রাউন্ড স্তরে এই সাফল্য এসেছে।  
যদিও জেলা পরিষদের এই পিছিয়ে থাকা নিয়ে প্রশাসন মহলের যুক্তি, ‘গ্রাম পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির প্রকল্পের তুলনায় জেলা পরিষদের কাজের পরিধি অনেকটা বড়। এমনকী কাজের ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণটাও বেশি। যার জন্যই কাজের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে গিয়ে গতি কিছুটা কমে গিয়েছে।’
ঠিকাদারদের একাংশের অভিযোগ, ‘টেন্ডার পিছু মোটা টাকার কমিশন দিতে হয় শীর্ষ জনপ্রতিনিধিদের। এছাড়াও আবার বিল ছাড়া নিয়ে সমস্যা রয়েছে।’ কাজের সমস্যা নিয়ে আলোচনা বৈঠকে সরব হন জেলা পরিষদের এক সদস্য। এমনিতেই জেলা পরিষদে শাসকদলের গৃহযুদ্ধ নতুন নয়। সম্প্রতি তা বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে এসেছে। অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। তাই নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। নদীয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি তারান্নুম সুলতানা মির বলেন, ‘আমাদের সামগ্রিক জেলার ফল খুব ভালো। জেলা পরিষদের কাজ প্রস্তুত রয়েছে। খুব দ্রুত আমরা এগিয়ে যাব।’
সম্পর্কিত সংবাদ