Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাল ওষুধের কারবার রোধে এবার থেকে নিয়মিত হানা

জাল ওষুধের কারবার রোধে এবার থেকে নিয়মিত হানা
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শুধু পূর্ত ভবনের অফিসে বসে থাকলে হবে না। জেলার ওষুধ দোকানগুলিতে লাগাতার অভিযান চালাতে হবে। মঙ্গলবার জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য দপ্তরের স্থায়ী সমিতির বৈঠকে ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের আধিকারিকদের এমনই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযান চালানোর আগে ওষুধের দোকানগুলি যাতে খবর না পায় সেই বিষয়টিও দেখতে বলা হয়েছে। সোমবার ‘বর্তমান’ এ জাল ওষুধ নিয়ে খবর প্রকাশিত হয়। তারপরই এদিনের বৈঠকে জেলা প্রশাসন কড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের জনস্বাস্থ্য‌ দপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বনাথ রায় বলেন, বর্ধমান শহরের ওষুধের দোকানগুলি নিয়মিত পরিদর্শন করা উচিত। জাল ওষুধ কোথাও বিক্রি হচ্ছে কি না সে বিষয়ে খবর রাখা দরকার। সেসব কিছু হচ্ছে না। অনেক সময় দেখা যায়, কোথাও অভিযান চালানোর আগেই ওষুধের দোকানগুলি খবর পেয়ে যায়। সেটা হলে পরিদর্শন করে লাভ নেই। তিনি আরও বলেন, ফার্মাসিস্ট ছাড়া দোকান চলছে বলে আমাদের কাছে প্রায়ই অভিযোগ আসে। সেটাও তদন্ত করা দরকার।
Advertisement
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, জাল ওষুধের একটি চক্র বর্ধমানে কাজ করছে। বেশকিছু প্রতিষ্ঠানে তারা নকল ওষুধ সরবরাহ করছে। আসল এবং নকলের ফারাক সাধারণ জনতা বুঝতে পারে না। সেটা ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের আধিকারিক বা কর্মীরা স্ক্যান করে বুঝতে পারেন। কিন্তু সেই পরীক্ষা চলে না বলে অভিযোগ। এক চিকিৎসক বলেন, নকল ওষুধ মানুষের শরীরে গেলে অসুখ সারবে না। উল্টে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া হতে পারে। তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। বহু প্রতিষ্ঠান মোটা অঙ্কের ছাড় দিয়ে ওষুধ বিক্রি করছে। সেটা কীভাবে সম্ভব হচ্ছে, তা নিয়ে তদন্ত হওয়া দরকার। পূর্ব বর্ধমান জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, বর্ধমান শহরে বিভিন্ন জেলার রোগীরা চিকিৎসা করার জন্য আসেন। এখানে নকল ওষুধ বিক্রি হলে তা খুব দুর্ভাগ্যজনক। বিষয়টি ড্রাগ কন্ট্রোলের গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। 
প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এদিন বর্ধমানের পূর্ত ভবন থেকে ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের একটি টিম আসানসোলে অভিযান চালায়। তারা সেখানকার হাসপাতালের ন্যায্যমূলের ওষুধের দোকান পরিদর্শন করে। এছাড়া আরও চারটি দোকানে যায়। সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি। এক আধিকারিক বলেন, কোথায় কবে অভিযান হবে তার ‘সিডিউল’ আগে থেকে তৈরি হয়ে থাকে। তারফলে যে এলাকায় অভিযান চলবে সেই এলাকার ব্যবসায়ীরা আগে জেনে যান। স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্মাধ্যক্ষ বলেন, সিডিউল মেনে অভিযান চললে অবশ্যই কোনও ব্যবসায়ী দোকানে নকল ওষুধ রাখবে না। ড্রাগ কন্ট্রোল দপ্তরের আধিকারিক মানস চক্রবর্তী বলেন, প্রায়ই অভিযান চলে। সম্প্রতি বর্ধমান শহরের কোথায় অভিযান হয়েছে, সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য মানসবাবু এড়িয়ে যান।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ