Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাল নথিতে কয়লা পাচারের চেষ্টা, রাজস্থানের দুটি ট্রাক সহ চালক ধৃত

জাল নথিতে কয়লা পাচারের চেষ্টা, রাজস্থানের দুটি ট্রাক সহ চালক ধৃত
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কুমারগ্রাম: ভুয়ো কাগজ দেখিয়ে চলছিল কয়লা পাচার। অভিযানে নেমে পাচারের ছক ভেস্তে দিল কুমারগ্রাম থানার বারোবিশা ফাঁড়ির পুলিস। কয়লা বোঝাই রাজস্থান নম্বরের দু’টি ট্রাককে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ট্রাক দু’টির চালককে পুলিস গ্রেপ্তার করেছে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম শরিফ খান (৩২) এবং ইরফান খান (৩৮)। দু’জনই রাজস্থানের আলয়ার জেলার বাসিন্দা। বুধবার ধৃতদের আলিপুরদুয়ার জেলা আদালতে তোলা হলে বিচারক পাঁচদিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
গোপন সূত্রের খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাতে কুমারগ্রাম ব্লকের অসম-বাংলা সীমানার পাকরিগুড়ি নাকাপয়েন্টে অসম থেকে আসা দূরপাল্লার পণ্যবাহী দু’টি ট্রাক আটক করে বারোবিশা ফাঁড়ির পুলিস। গাড়ি দু›টিতে কয়লা বোঝাই করা ছিল। চালকরা কয়লা পরিবহণের কাগজ দেখালে পুলিসের  সন্দেহ হয়। শুরু হয় কাগজপত্র যাচাই। তা দেখে পুলিস নিশ্চিত হয়, কয়লা পরিবহণের সব কাগজ জাল। এরপরই পুলিস গাড়ি দু’টির চালকদের গ্রেপ্তার করে এবং কয়লা বোঝাই গাড়ি দু’টি বাজেয়াপ্ত করে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস জানতে পেরেছে, অসম থেকে কয়লা বোঝাই করে বিহারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। জাল কাগজ ব্যবহার করে, পুলিসের চোখে ধুলো দিয়ে চলছিল কয়লা পাচারের ছক। তবে বারোবিশা ফাঁড়ির পুলিসের তৎপরতা গাড়ি দু’টি ধরা পড়ে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্য গুলি থেকে কয়লা পাচারের ঘটনা নতুন নয়। ৩১ নম্বর-সি জাতীয় সড়ক ধরে অসম থেকে পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বিহার বা অন্য  রাজ্যে কয়লা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই পাচার কাজ চলে। কয়লা বোঝাই গাড়ি যাতে বিনা বাধায় পার হতে পারে, তার জন্য প্রতিটি এলাকায় স্থানীয় কিছু দালালকে মোটা টাকার বিনিময়ে নিযুক্ত করা হয়। তারাই বিভিন্ন চেকপোস্ট ও নাকা পয়েন্টে কীভাবে গাড়িগুলি যাবে, সেই বিষয়টি তদারকি করে। এককথায় একেবারে আঁটঘাঁট বেঁধে তারপরই কয়লা পাচার করা হয়। তবে মঙ্গলবার পুলিসি অভিযানে জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে কয়লা পাচারের সময় হাতেনাতে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। 
জাল নথি ব্যবহার করে আন্তঃরাজ্য কয়লা পাচারের একটি বড় চক্র এই কাজে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান। অসম, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ছাড়াও দেশের একাধিক রাজ্যে এই চক্র সক্রিয় থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ধৃত দুই চালককে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তাঁদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে অনেক তথ্য সমানে আসবে বলে আশাবাদী তদন্তকারীরা। পুলিস জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ