Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জাল নথি তৈরি করে প্রতারণার ছক কষেছিল ধৃত ফ্রান্সিস এক্কা

জাল নথি তৈরি করে প্রতারণার ছক কষেছিল ধৃত ফ্রান্সিস এক্কা
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, নকশালবাড়ি: ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (ডিআরডিও) জাল নথি তৈরি করে প্রতরণার ছক কষেছিল ধৃত ফরেস্ট ভলান্টিয়ার ফ্রান্সিস এক্কা। বৃহস্পতিবার এ কথা জানিয়েছেন দার্জিলিংয়ে পুলিস সুপার প্রবীণ প্রকাশ। 
Advertisement
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাতে তেজষ্ক্রিয় পদার্থ বিক্রি করার অভিযোগ পেয়ে পানিঘাটা সংলগ্ন বেলগাছি গিরমিট লাইনের শ্রমিক আবাসে সেনার গোয়ন্দা বিভাগ এবং এনডিআরএফ’কে সঙ্গে নিয়ে অভিযান চালায় জেলা পুলিস। তাতেই সন্দেহজনক তেজষ্ক্রিয় পদার্থ সহ ডিআরডিও বিভাগের জাল নথি সহ একটি বাক্স উদ্ধার করে পুলিস। এই ঘটনায় ফ্রান্সিস এক্কা নামে ওই ফরেস্ট ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। আদালতের নির্দেশে ধৃতকে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। 
পুলিসের তদন্তকারী এক অফিসার বৃহস্পতিবার বলেন, ধৃতের বিরুদ্ধে চুরি, নথি জাল করা, প্রতারণা, অপরাধজনিত ষড়যন্ত্রের মতো মামলা করা হয়েছে। এসপি বলেন, তেজষ্ক্রিয় পদার্থজনিত কোনও বিষয় নেই। শুধু গোপন কিছু নথি জাল করে বিক্রির ছক পেতেছিল ওই ব্যক্তি। যা নিয়ে জালিয়াতি মামলায় তদন্ত শুরু হয়েছে। 
তবে এখনও একাধিক বিষয় নিয়ে ধন্দে জেলা পুলিস। ধৃত ব্যক্তি জাল নথি কোথা থেকে পেল, নকল তেজষ্ক্রিয় পদার্থের নমুনা এল কার মারফত, এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তদন্তকারীরা। যদিও পুলিসের তদন্তকারী এক অফিসার জানিয়েছেন, কিছু সূত্র মিলেছে যা ধরে শীঘ্রই এ ঘটনায় জড়িত কয়েকজন ধরা পড়বে। ধৃত ফ্রান্সিস এক্কার স্ত্রী অমৃতা তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির অচিরাচরিত শক্তি, বিদ্যুৎ ও ক্ষুদ্র শিল্প স্থায়ী সমিতির কর্মাধ্যক্ষ। স্বভাবতই এনিয়ে নকশালবাড়িতে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিজেপি নেতা দিলীপ বাড়ুই বলেন, শাসকদলের পদস্থ নেত্রীর স্বামী এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন, ভাবলেই অবাক হচ্ছি। পুলিসের উচিত গোটা বিষয়টি তদন্ত করে দোষীর শাস্তির ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে, তৃণমূলের নকশালবাড়ি-২ ব্লক সভাপতি তথা নকশালবাড়ি পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পৃথ্বীশ রায় বলেন, কর্মাধ্যক্ষের স্বামী অন্যায় কাজে জড়িত থাকলে পুলিস অবশ্যই তদন্ত করবে। দোষ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী শাস্তি হবে। কর্মাধ্যক্ষের স্বামী কোথায় কি করছেন, তা দলের জানা সম্ভব নয়। যদিও এদিনও ধৃতের স্ত্রী অমৃতা এক্কা কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 
এদিকে, এদিনও বেলাগাছির পরিবেশ ছিল থমথমে। দুই সিভিক ভলান্টিয়ার এলাকায় ছিল। এমন ঘটনার সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় গ্রামের বদনাম হচ্ছে বলে জানান ধৃতের প্রতিবেশী ধীরেন বরাইক। তিনি বলেন, বছর খানেক আগে বনবিভাগে কাজ পায় ছেলেটি। তার আগে বেকার ছিল। এমন কর্মকাণ্ডে ছেলেটি কেন জড়াল বুঝে উঠতে পারছি না। 
সম্পর্কিত সংবাদ