নিজস্ব প্রতিনিধি কৃষ্ণনগর: নদীয়ার বাজারে ডিমের দাম বাড়তে বাড়তে ৮ টাকা ছুঁয়েছে। এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে অতিষ্ঠ মানুষ। ব্যবসায়ীদের অনেকেই বলছেন, শীতের মরশুমে ডিমের চাহিদা বাড়ে। যার জন্যই ডিমের দাম বেড়েছে। যদিও রাজ্যজুড়ে ডিমের দাম নির্ধারণকারী ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভ স্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন এবং ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশনের হিসেবে ডিমের দাম স্বাভাবিক দেখাচ্ছে। নদীয়া জেলায় দৈনিক চাহিদার প্রায় ৮০ শতাংশ ডিম উৎপাদন হচ্ছে। অর্থাৎ উৎপাদনেও ঘাটতি নেই বলে দাবি প্রাণিসম্পদ বিকাশ দপ্তরের। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডিমের দাম আট টাকা ছুঁয়ে যাওয়ায় মাথায় হাত পড়েছে সাধারণ মানুষের। হাসপাতালে রোগীর খাবার থেকে শুরু করে মিড ডে মিল, সবকিছুতেই এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। নদীয়া জেলার প্রাণিসম্পদ বিকাশের আধিকারিক দেবাশিস জানা বলেন, ‘এইভাবে দাম বাড়ার কোনও কারণ নেই। নদীয়া জেলায় প্রতিদিন ২৬ লক্ষ ডিমের চাহিদা থাকে। সেখানে আমাদের প্রতিদিন গড়ে ২২ লক্ষের বেশি ডিম উৎপাদন হচ্ছে। আগামীদিনে আমরা চাহিদার একশো শতাংশ ডিম উৎপাদন করতে পারব।’ রাজ্যের ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভ স্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের মার্কেটিং ম্যানেজার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা যে সমস্ত কাউন্টারে ডিম সরবরাহ করছি সেখানে ৫ টাকা ৯৫ পয়সায় তা বিক্রি করতে বলছি। আমরা তার থেকেও কম দামে ডিলারদের ডিম সরবরাহ করছি। হরিণঘাটা ও কল্যাণী লেয়ার ফার্মস থেকে ডিম সরবরাহ করা হয়।’ পাশাপাশি জানা গিয়েছে, রাজ্যের ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভ স্টক ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের তরফ থেকে দৈনিক ৫ লক্ষ ৮০ হাজার ডিম উৎপাদন করা হচ্ছে। যেখানে দৈনিক ৭ লক্ষ ২০ হাজার ডিম উৎপাদনের টার্গেট রয়েছে। অর্থাৎ চাহিদার ১০০ শতাংশ ডিম উৎপাদন না হলেও পরিসংখ্যান সন্তোষজনক। কারণ রাজ্য সরকার ডিম উৎপাদনে জোর দিয়েছে। যাতে পশ্চিমবঙ্গ ডিম উৎপাদনে স্বনির্ভর হতে পারে। সেইমতো বর্তমানে রাজ্যবাসীর চাহিদার সিংহভাগটাই রাজ্যেই উৎপাদন হচ্ছে।
অন্যদিকে খোলা বাজারের ডিমের দাম মূলত নির্ধারণ করে ওয়েস্ট বেঙ্গল পোল্ট্রি ফেডারেশন। সেখানেও রবিবার পর্যন্ত ডিমের দাম ছিল ৬ টাকা ৯০ পয়সা। যদিও মাসের পয়লা তারিখে তা ছিল ৬ টাকা ৬৫ পয়সা। অর্থাৎ বাজারেও এই দামেই ডিম বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, নদীয়া জেলায় ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই ডিমের দাম আকাশ ছোঁয়া। প্রতি পিস ডিম আট টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দোকানে। এর থেকে স্পষ্ট যে সরকার নির্ধারিত দামকে উপেক্ষা করছে খুচরো ব্যবসায়ীরা। কৃষ্ণনগর শহরের এক ব্যবসায়ীর কথায়, ‘এখন অর্ডার দিলেও চাহিদা মতো ডিম আসছে না। যেটুকু আসছে সেগুলোও আমাদের প্রতি পিস আট টাকাতেই কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রি করার সময় এর উপর আমরা দাম আর বাড়াতে পারছি না। ডিম বিক্রি করে আমাদের লাভ হচ্ছে না।› মনে করা হচ্ছে, শীতকালে কেকের বিক্রি বাড়ে। আর সেই কেক তৈরি করতে ডিমের প্রয়োজন পড়ে। তাই খোলা বাজারে আসা ডিমের বড় অংশ চলে যাচ্ছে কেক তৈরির ফ্যাক্টরিগুলোতে। যার জন্যই উৎপাদন ঠিক থাকলেও খোলা বাজারে জোগানে ঘাটতি দেখা দিচ্ছে।



