নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সিউড়ির তিলপাড়া ব্যারেজের সমস্ত জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গোটা ড্যাম পুরো শুখা। এতে সবথেকে বেশি চিন্তায় পড়েছেন তিলপাড়া পঞ্চায়েত এলাকার বেশ কয়েকটি এলাকার চাষিরা। প্রায় ৯০ বিঘা জমির সব্জি চাষ এই জমা জল থেকে হয়। সেইসব চাষির কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ পড়েছে। আগামী সপ্তাহে জলের জন্য বিকল্প কোনও ব্যবস্থা করা যায় কি না, সেই আবেদন নিয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হচ্ছেন চাষিরা।
Advertisement
তিলপাড়ার লম্বোদরপুর, রণপুর, হুসনোবাদ ও তারাপুরের কিছু অংশের চাষিরা শীতের সব্জি চাষ মূলত তিলপাড়া ড্যামের জমা জল থেকে করতেন। কমপক্ষে ৫০ জন চাষি এই জলের উপর ভরসা করেই এই শীতেও সব্জি লাগিয়েছেন। ফুলকপি, লঙ্কা, ক্যাপসিকাম, বেগুন, বিভিন্ন ধরনের শাক লাগিয়েছেন তাঁরা। জানা যায়, এই এলাকার চাষিরা জমা জলের উপর ভরসা করে কেবল সব্জি চাষটুকুই করেন। কেউ ঋণ নিয়ে সার দিয়ে ইতিমধ্যেই বীজও ফেলে দিয়েছেন। এইসব জমির টাটকা সব্জিই সিউড়ির বাজারের শাক-সব্জির জোগান দেন। এখন সব্জি চাষ আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে সকলে চিন্তায় পড়েছেন। এলাকা সূত্রে জানা যাচ্ছে, আগে এপ্রিল থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত এই ক’মাস বহু বছর ধরেই জল ছেড়ে দেওয়া হতো। তাই গ্রীষ্মকালে ড্যামে জল থাকত না। একইভাবে বর্ষাকালেও চাষ হয় না এই এলাকায়। একমাত্র এই শীতকালেই চাষিরা ড্যামের জলের ভরসায় চাষ করেন। ১৯৯৫ সালে এলাকার জলকষ্ট দেখে তৎকালীন সেচমন্ত্রী পাম্প বসিয়ে ছিলেন, যা দিয়ে এতবছর ধরে জল মিলছিল। কিন্তু ড্যামের জল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প দিয়ে জল ওঠারও কোনও উপায় থাকল না।
স্থানীয় এক চাষি বিনয়কুমার গড়াই বলেন, আমরা খরা, বর্ষাতে মার খাই। ভরসা কেবল শীতের চাষে। এবার কোনওপ্রকার নির্দেশিকা জারি না করেই জল ছেড়ে দেওয়া হল। এটা ঠিকই যে, সেচদপ্তর যেহেতু ক্যানেলের জল শীতকালে দেয় না, তাই তাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু আমরা এই জমা জল তুলেই চাষ করতাম। কেউ ১০ হাজার টাকা, কেউ আবার ১৫ হাজার টাকা লোন করে সার দিয়ে জমি তৈরি করে বীজ লাগালাম। কিছু ফসল আবার মাঝপথে রয়েছে। এইসব চাষ এবার কীভাবে হবে বুঝতে পারছি না। গোটা এলাকাতে কোনও বোরিং পাম্পও নেই। যদি আগে থেকে জানতে পারতাম জল ছেড়ে দেওয়া হবে, তখন হয়তো এই বছর আর কেউ চাষ করতাম না! আগামী মঙ্গলবার প্রশাসনের কাছে চাষিরা সবাই মিলে যাব। অন্তত নদীর ঝর্ণার জলকে জমিয়েও যদি কোনওভাবে সেচের জন্য ব্যবস্থা করে দেয়, তো চাষিরা সবাই বেঁচে যাবেন।
এই নিয়ে সেচদপ্তরের দাবি, শীতকালে কোনও বছরই সেচের জল দেওয়া হয় না। তাই আগে থেকে নির্দেশিকার কোনও প্রশ্নই নেই! জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, তিলপাড়া ব্যারেজের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তাই এটিকে সংস্কার করা হবে। সেই কারণে জল ছাড়া হয়েছে। চাষিদের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।
স্থানীয় এক চাষি বিনয়কুমার গড়াই বলেন, আমরা খরা, বর্ষাতে মার খাই। ভরসা কেবল শীতের চাষে। এবার কোনওপ্রকার নির্দেশিকা জারি না করেই জল ছেড়ে দেওয়া হল। এটা ঠিকই যে, সেচদপ্তর যেহেতু ক্যানেলের জল শীতকালে দেয় না, তাই তাদের কিছু বলার নেই। কিন্তু আমরা এই জমা জল তুলেই চাষ করতাম। কেউ ১০ হাজার টাকা, কেউ আবার ১৫ হাজার টাকা লোন করে সার দিয়ে জমি তৈরি করে বীজ লাগালাম। কিছু ফসল আবার মাঝপথে রয়েছে। এইসব চাষ এবার কীভাবে হবে বুঝতে পারছি না। গোটা এলাকাতে কোনও বোরিং পাম্পও নেই। যদি আগে থেকে জানতে পারতাম জল ছেড়ে দেওয়া হবে, তখন হয়তো এই বছর আর কেউ চাষ করতাম না! আগামী মঙ্গলবার প্রশাসনের কাছে চাষিরা সবাই মিলে যাব। অন্তত নদীর ঝর্ণার জলকে জমিয়েও যদি কোনওভাবে সেচের জন্য ব্যবস্থা করে দেয়, তো চাষিরা সবাই বেঁচে যাবেন।
এই নিয়ে সেচদপ্তরের দাবি, শীতকালে কোনও বছরই সেচের জল দেওয়া হয় না। তাই আগে থেকে নির্দেশিকার কোনও প্রশ্নই নেই! জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, তিলপাড়া ব্যারেজের অবস্থা খুব একটা ভালো নেই। তাই এটিকে সংস্কার করা হবে। সেই কারণে জল ছাড়া হয়েছে। চাষিদের বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।



