সংবাদদাতা, লালবাগ: অগ্রহায়ণ নবান্নের মাস। অগ্রহায়ণ পড়তেই মাঠে মাঠে শুরু হয়েছে ধান কাটার কাজ। নতুন ধানের আতপ চাল ও খেজুরের গুড় দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে এই মাস জুড়ে পালিত হবে নবান্ন উৎসব। বাংলার আকাশে বাতাসে নবান্ন উৎসবের বার্তায় ব্যস্ততা শুরু হয়েছে শিউলিপাড়ায়। খেজুর গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে বাড়িতে বাড়িতে চলছে গুড় তৈরির কাজ। বাড়ির পুরুষ, মহিলা থেকে ছেলেমেয়েদের নাওয়া খাওয়ার ফুরসত নেই। দিনরাত এক করে চলছে গুড় তৈরি। আগাম গুড় তৈরি শুরু হয়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করেছে খেজুর গুড়। অগ্রহায়ণের প্রথম দিক থেকে বাজারে খেজুর গুড় উঠতে শুরু করায় খাদ্যরসিক বাঙালির প্রাণে খুশির হাওয়া।
Advertisement
ঠান্ডা পড়তেই শিউলি পাড়ায় ব্যস্ততা শুরু হয়েছে। বিকেলে খেজুর গাছে রসের হাড়ি লাগিয়ে ভোরে গাছ থেকে রসের হাঁড়ি নামিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন শিউলিরা। তারপরে শুরু হয় ধীরে ধীরে রস ফুটিয়ে গুড় তৈরির প্রক্রিয়া। লোহার বড় কড়াইয়ে একাধিক হাঁড়ির রস ঢেলে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা ফোটানোর পরে রসের ঘনত্ব বাড়ে এবং রং লালচে হতে শুরু করে। দক্ষ কারিগর কাঠি দিয়ে ফুটন্ত গুড় তুলে পরখ করেন। ঘনত্ব, স্বাদ ও গন্ধ ঠিকঠাক হলেই নামিয়ে নেওয়া হয়। মুর্শিদাবাদ থানার কাটরার বাসিন্দা সঞ্জয় মণ্ডল আজাদ হিন্দ বাগ এলাকায় ৪০ হাজার টাকায় ২৫০টি খেজুর গাছ লিজ নিয়েছেন। সঞ্জয় মণ্ডল বলেন, এক কেজি ভালো মানের গুড় তৈরি করতে কমপক্ষে ১০-১২ কেজি রস লাগে। এই বছর আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ভালো রস পাওয়া যাচ্ছে।
অগ্রহায়ণ মাস জুড়ে বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব চলবে। ফলে খেজুরের গুড়ের ভালো চাহিদা থাকে। যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ স্বাদের সঙ্গে কোনও আপস করেন না। তাই শীতের মরশুমে খাঁটি গুড়ের চাহিদা থাকে। গুড় বিক্রি করে ভালো লক্ষ্মীলাভ হয়। তবে ইদানীং অনেকে কম দামে গুড় চাইছেন। খদ্দের ধরতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় বাজারে এনে কম দামে বিক্রি করছেন।
ফলে আমাদের একটু সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। নশিপুরের বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল বলেন, এক কেজি খাঁটি খেজুর গুড় ১৮০ টাকায় বিক্রি না করতে পারলে লাভ হয় না। অনেকে ১০০-১২০ টাকার উপরে এক কেজি গুড় কিনতে চান না। তখন খরিদ্দার ধরতে ভেজাল মিশিয়ে গুড় তৈরি করছেন বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তবে ভালো গুড়ের খদ্দেরও আছে। এদিকে শুধু নবান্ন উৎসব নয়, সারা শীতের মরশুম ধরে বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে পায়েস রান্না হবে।
পিঠে ও পায়েসের স্বাদে অন্য মাত্রা জুড়ে দেয় ভালো মানের খেজুর গুড়। এছাড়া শীতে মিষ্টির দোকানে খেজুর গুড়ের রসগোল্লা, সন্দেশ সহ রকমারি মিষ্টি বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করে। বহরমপুর শহরের বাসিন্দা বঙ্কিম ধর বলেন, নবান্ন উৎসব দিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে খেজুর গুড়ের যাত্রা শুরু হয়। সারা শীতকাল ধরে রকমারি পিঠে, পায়েস সহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন খেজুর গুড় ছাড়া ভাবাই যায় না। তবে ভালো মানের গুড় ছাড়া স্বাদে খামতি থেকে যায়। শহরের এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বলেন, শীতে খেজুর গুড়ের মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা থাকে। মিষ্টির স্বাদ ঠিক রাখার জন্য শিউলি পাড়ায় গিয়ে বরাত দিতে হয়। -নিজস্ব চিত্র
অগ্রহায়ণ মাস জুড়ে বাংলার ঘরে ঘরে নবান্ন উৎসব চলবে। ফলে খেজুরের গুড়ের ভালো চাহিদা থাকে। যেহেতু বেশিরভাগ মানুষ স্বাদের সঙ্গে কোনও আপস করেন না। তাই শীতের মরশুমে খাঁটি গুড়ের চাহিদা থাকে। গুড় বিক্রি করে ভালো লক্ষ্মীলাভ হয়। তবে ইদানীং অনেকে কম দামে গুড় চাইছেন। খদ্দের ধরতে অসাধু ব্যবসায়ীরা ভেজাল গুড় বাজারে এনে কম দামে বিক্রি করছেন।
ফলে আমাদের একটু সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। নশিপুরের বাসিন্দা প্রদীপ মণ্ডল বলেন, এক কেজি খাঁটি খেজুর গুড় ১৮০ টাকায় বিক্রি না করতে পারলে লাভ হয় না। অনেকে ১০০-১২০ টাকার উপরে এক কেজি গুড় কিনতে চান না। তখন খরিদ্দার ধরতে ভেজাল মিশিয়ে গুড় তৈরি করছেন বেশ কিছু অসাধু ব্যবসায়ী। তবে ভালো গুড়ের খদ্দেরও আছে। এদিকে শুধু নবান্ন উৎসব নয়, সারা শীতের মরশুম ধরে বাঙালির ঘরে ঘরে পিঠে পায়েস রান্না হবে।
পিঠে ও পায়েসের স্বাদে অন্য মাত্রা জুড়ে দেয় ভালো মানের খেজুর গুড়। এছাড়া শীতে মিষ্টির দোকানে খেজুর গুড়ের রসগোল্লা, সন্দেশ সহ রকমারি মিষ্টি বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করে। বহরমপুর শহরের বাসিন্দা বঙ্কিম ধর বলেন, নবান্ন উৎসব দিয়ে বাঙালির ঘরে ঘরে খেজুর গুড়ের যাত্রা শুরু হয়। সারা শীতকাল ধরে রকমারি পিঠে, পায়েস সহ বিভিন্ন মিষ্টান্ন খেজুর গুড় ছাড়া ভাবাই যায় না। তবে ভালো মানের গুড় ছাড়া স্বাদে খামতি থেকে যায়। শহরের এক মিষ্টান্ন ব্যবসায়ী বলেন, শীতে খেজুর গুড়ের মিষ্টির ব্যাপক চাহিদা থাকে। মিষ্টির স্বাদ ঠিক রাখার জন্য শিউলি পাড়ায় গিয়ে বরাত দিতে হয়। -নিজস্ব চিত্র



