Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় নাবালিকা বিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের অনুষ্ঠান

জেলায় নাবালিকা বিয়ে প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়াতে প্রশাসনের অনুষ্ঠান
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। গত চার বছরে জেলায় বেড়েছে নাবালিকা বিবাহ প্রতিরোধের সংখ্যা। সেই সংখ্যা আরও কমাতে বৃহস্পতিবার জেলাশাসকের কার্যালয়ে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও নাবালিকাদের গর্ভধারণ রুখতে ‘আমরা করব জয়’ শীর্ষক  অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি, মেদিনীপুরের সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ছাড়াও ছাত্রীরা। জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাল্য বিবাহ প্রতিরোধের জন্য একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়। এরপর এসএইচজি দপ্তরের হলে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেই সভায় বাল্য বিবাহের ক্ষতিকারক দিক নিয়ে আলোচনা হয়। সেখানে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ উপস্থিত ছিলেন। বাল্য বিবাহের ক্ষতিকারক দিকগুলো ছাত্রীদের সামনে তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি এদিন বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ করেছে এমন ৩০ জন ছাত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। 
Advertisement
এদিন জেলাশাসক বলেন, এই লড়াই আমাদের জিততেই হবে। জেলা থেকে বাল্যবিবাহ নির্মূল করতেই হবে। জেগে উঠছে আমাদের কন্যাশ্রীরা। তারা রুখে দিচ্ছে নিজেদের বাল্যবিবাহ। তারা পড়াশোনা করতে চায়। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়। 
প্রসঙ্গত, জেলাজুড়ে দিনেদিনে বাড়ছে নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা। তার সঙ্গে বৃদ্ধি পাচ্ছে টিনএজ প্রেগন্যান্সির সংখ্যাও। তবে গত এক বছর ধরে প্রশাসনের তরফে লাগাতার প্রচার চালানো হচ্ছে। জেলায় প্রত্যন্ত এলাকার বিভিন্ন স্কুলে ক্যাম্প করেও চলছে প্রচার। এতেই নাবালিকা বিয়ে রুখে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। জানা গিয়েছে,  ২০২১-২২ সালে ৫৭ জনের বিয়ে রুখে দিয়েছিল জেলা প্রশাসন। সেই বছর নাবালিকা বিয়ের সংখ্যাও ছিল বেশি।  পরের বছর অর্থাৎ ২০২২-২৩ সালে এই সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৮। এরপর ২০২৩-২৪ সালে ৯৯ জন নাবালিকার বিয়ে রুখে দিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে জেলা প্রশাসন। 
চলতি বছরে অর্থাৎ ২০২৪-২৫ সালে এখনও পর্যন্ত ১৪৪ জন নাবালিকার বিয়ে রুখে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। একইসঙ্গে জেলায় টিনএজ প্রেগন্যান্সির সংখ্যাও কমছে। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, জেলায় ৬ শতাংশ নাবালিকার বিয়ে কমেছে। এখনও বহু এলাকায় সচেতনতার অভাব রয়েছে। নাবালিকা বিয়েতে প্রশ্রয় দিলেও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আগামী তিন বছরের মধ্যে নাবালিকা বিয়ের সংখ্যা একেবারে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। মেদিনীপুরের এক স্কুলের ছাত্রী সুস্মিতা মণ্ডল জানায়, এই কর্মসূচিতে উপস্থিত থেকে বহু নতুন জিনিস জানতে পারলাম। নাবালিকা বিয়ে সম্পর্কে নানা তথ্য বন্ধুদের জানাব। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ