Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন

জেলায় ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৩ লক্ষ মেট্রিক টন
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: প্রথমে বন্যা পরিস্থিতি, তারপর ঘূর্ণিঝড় ডানা। দুই ধাক্কায় বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুরের কৃষিক্ষেত্র। তা সত্ত্বেও এবছর এই জেলা থেকে বিপুল পরিমাণ ধান কেনার পরিকল্পনা করল জেলা প্রশাসন। ৩ লক্ষ ৬০ হাজার মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা স্থির করা হয়েছে। ধান কেনা বাড়ানোর জন্য এবারে ধান ক্রয় কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে। এছাড়াও রাখা হচ্ছে পর্যাপ্ত সংখ্যায় মোবাইল ধান ক্রয় কেন্দ্র। প্রশাসনের আধিকারিকদের কথায়, গত বছরের তুলনায় ধানের দাম বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে উপকৃত হবেন চাষিরা। ইতিমধ্যেই বহু চাষি ধান বিক্রিতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এদিকে আগের তুলনায় কমলেও, এখনও জেলায় ফড়েরাজ বিদ্যমান। যা প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Advertisement
এদিন জেলার খাদ্য নিয়ামক অরবিন্দ সরকার বলেন, ধান ক্রয়ের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আশা করছি এই মরশুমে ধান বিক্রির পরিমাণ অনেকটাই বাড়বে। চাষিরা বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা পেয়ে উপকৃত হচ্ছেন জেলায়। তবে বন্যা ও অতিবৃষ্টির জেরে চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। 
প্রসঙ্গত, কিছু বছর আগেও চাষিরা সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেতেন না। এখন কৃষক বন্ধু সহ নানা প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন তাঁরা। এরফলে জেলায় ধান চাষের পরিমাণ আগের তুলনায় অনেকটাই বেড়েছে। তারসঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উৎপাদনের পরিমাণ। কিন্তু সরকারি ধানক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ধান বিক্রি নিয়ে এখনও অনীহা আছে চাষিদের মধ্যে। এতদিন তার অন্যতম কারণ ছিল ধানের দাম। জেলায় কুইন্ট্যাল পিছু ২ হাজার ১৮২ টাকা পেতেন চাষিরা। এছাড়া ধান ক্রয় কেন্দ্রে নিয়ে এলে ২০ টাকা ছাড় দেওয়া হতো। এবছর ধানের দাম বাড়িয়ে করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ টাকা। এরফলে ধান বিক্রির পরিমাণ বাড়বে বলে অনুমান প্রশাসনের আধিকারিকদের। জানা গিয়েছে, গত বছর ধান কেনার জন্য লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছিল ৪ লক্ষ ৭ হাজার মেট্রিক টন। তবে ধান কেনা হয়েছিল ২ লক্ষ ৩৬ হাজার মেট্রিক টন। 
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধান বিক্রি নিয়ে রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কেশপুর, গড়বেতা, শালবনী, খড়গপুর গ্রামীণ সহ বিভিন্ন এলাকায় ধান চাষের পরিমাণ বেড়েছে। তাই চলতি মরশুমে এসব এলাকা থেকে ধান বিক্রির পরিমাণ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, ধান কাটার আগেই বাড়তি টাকা দিয়ে ফড়েরা বুকিং করে নিচ্ছে। চাষিদের থেকে কম দামে ধান কিনে তা চড়া দামে বিক্রি করছে ফড়েরা। ইতিমধ্যেই ফড়েরাজ কমাতে প্রশাসনের তরফে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। খাদ্যদপ্তরের আধিকারিকরা বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচার করছেন। 
শালবনী এলাকার এক চাষি শঙ্কর চৌধুরী বলেন, ফড়েরাজ এখনও আছে। তবে আগের তুলনায় কম। ধান বিক্রির প্রক্রিয়ায় জটিলতা আছে। সেটাও সরকারি জায়গায় ধান বিক্রিতে অন্যতম বাধা। ধানের দাম আরও বাড়ালে ফড়েদের আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। তবে এই মরশুমে ধানের দাম কিছুটা বাড়ানোয় বিক্রির পরিমাণও বাড়বে বলেই মনে করি।
সম্পর্কিত সংবাদ