নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বুধবার সকাল থেকেই বর্ধমানের ১০৮ শিব মন্দিরের সামনে লম্বা লাইন। সেখানে ‘জেনারেশন জি’ থেকে ৪৫ বছরের গৃহবধূরা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। ফাল্গুনের দুপরে সূর্যের তেজ বাড়ছে। সেই শীত নেই। সূর্যের তাপ সামলাতে কেউ কেউ মাথায় ঘোমটা টানছেন। উপোস করে থাকলেও কারও ধৈর্যচ্যুতি হচ্ছে না। স্বামীর মঙ্গল কামনায় জল ঢালতে এটুকু কষ্ট সহ্য করাই যায়। কিন্তু আচমকা কেউ সামনে দাঁড়িয়ে অঙ্গিভঙ্গি করে কোমর দোলাতে শুরু করলে কার আর ভালো লাগে! ধৈর্য হারিয়ে কয়েকজন গৃহবধূ বলে চললেন, সবকিছুর একটা সীমা রয়েছে। যেখানে সেখানে রিলস বানালেই হল নাকি! ভিউ পাওয়ার এতো নেশা। কিন্তু কে শোনে কার কথা। অবশেষে এগিয়ে এলেন এক নিরাপত্তারক্ষী। তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, ‘ম্যাডাম, এখানে এসব করবেন না। ধীরে ধীরে লাইন এগিয়ে পুজো দিন।’
Advertisement
পুজো দিতে আসা কেকা ঘোষ বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় বাহবা পাওয়ার জন্য কেউ কেউ লাজলজ্জা ভুলে গিয়েছে। পুজো দিতে এসেও তারা রিলস বানাচ্ছে। এভাবে কি আর পুণ্য হয়?
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্ধমান জেলাজুড়ে শিবের মন্দির রয়েছে। কিন্তু নবাবহাট বা কালনার শিব মন্দিরে শিবরাত্রির দিন সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও পুণ্যার্থীরা আসেন। এদিন পুণ্যার্থীদের কলসযাত্রা নজর কেড়েছিল। মন্দিরে ১০৮টি শিবলিঙ্গে জল ঢেলে তাঁরা ব্রত পালন করেন। নবাবহাটে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ মেলার উদ্বোধন করেন। জেলার অন্যান্য আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরাও হাজির ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ১০৮শিবমন্দিরে শিবরাত্রির দিন বহু আগে থেকেই ভিড় হয়ে আসছে। কিন্তু গত তিন-চার বছরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তবে ভক্তির পাশাপাশি অনেকেই আসছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের তুলে ধরার জন্য। পুজো দিতে আসা অর্চনা গোস্বামী বলেন, শিব পুজোর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। সবাই তা পালন করেন না। এখন মন্দিরের ভিতরে অনেকে প্রিয়জনদের নাম লিখে দিয়ে যাচ্ছেন। এটা কী ধরনের ভক্তি তা বোঝা দায়। অনেকে আবার সেখানেই থেমে থাকছেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে কিছু বলে চলছেন। কিছুক্ষণ পর হাত পা নাড়াতে শুরু করছেন। এতদূর পর্যন্ত তবুও ঠিক ছিল। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে অঙ্গিভঙ্গি করলে আর নেওয়া যায় না। তখন মনে হয় মহাদেবের আশীর্বাদ নেওয়া থেকে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক নিতে বেশি আগ্রহী।
অনেকে অবশ্য বলছেন, মহাদেবের মন জয় করতে অনেক তপস্যা দরকার হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা পেতে এত কসরত দরকার হয় না। গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচে উঠলেই লাইক, কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বর্ধমান জেলাজুড়ে শিবের মন্দির রয়েছে। কিন্তু নবাবহাট বা কালনার শিব মন্দিরে শিবরাত্রির দিন সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়। শুধু পূর্ব বর্ধমান নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও পুণ্যার্থীরা আসেন। এদিন পুণ্যার্থীদের কলসযাত্রা নজর কেড়েছিল। মন্দিরে ১০৮টি শিবলিঙ্গে জল ঢেলে তাঁরা ব্রত পালন করেন। নবাবহাটে শিবরাত্রি উপলক্ষ্যে মেলা বসেছে। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ মেলার উদ্বোধন করেন। জেলার অন্যান্য আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিরাও হাজির ছিলেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ১০৮শিবমন্দিরে শিবরাত্রির দিন বহু আগে থেকেই ভিড় হয়ে আসছে। কিন্তু গত তিন-চার বছরে পুণ্যার্থীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে। তবে ভক্তির পাশাপাশি অনেকেই আসছেন সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের তুলে ধরার জন্য। পুজো দিতে আসা অর্চনা গোস্বামী বলেন, শিব পুজোর নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম রয়েছে। সবাই তা পালন করেন না। এখন মন্দিরের ভিতরে অনেকে প্রিয়জনদের নাম লিখে দিয়ে যাচ্ছেন। এটা কী ধরনের ভক্তি তা বোঝা দায়। অনেকে আবার সেখানেই থেমে থাকছেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে বিড়বিড় করে কিছু বলে চলছেন। কিছুক্ষণ পর হাত পা নাড়াতে শুরু করছেন। এতদূর পর্যন্ত তবুও ঠিক ছিল। কিন্তু লাইনে দাঁড়িয়ে অঙ্গিভঙ্গি করলে আর নেওয়া যায় না। তখন মনে হয় মহাদেবের আশীর্বাদ নেওয়া থেকে তাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইক নিতে বেশি আগ্রহী।
অনেকে অবশ্য বলছেন, মহাদেবের মন জয় করতে অনেক তপস্যা দরকার হয়। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ায় ভালোবাসা পেতে এত কসরত দরকার হয় না। গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নেচে উঠলেই লাইক, কমেন্টের বন্যা বয়ে যায়।



