Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল চুরি: দু’হাজারেরও বেশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন জেলায়

জল চুরি: দু’হাজারেরও বেশি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন জেলায়
  • ১১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের জের। আর তাতেই বাড়ি বাড়ি জল পৌঁছনোর কাজ গতি পেয়েছে নদীয়া জেলায়। এখনও পর্যন্ত জলচুরির ‘কবলে’ পড়া প্রায় সাড়ে তিন হাজার বাড়িতে জল সরবরাহ স্বাভাবিক করা হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, কোথাও দীর্ঘদিন আগে কলের সংযোগ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু সেই গ্রামে জল যেত না। সেখানে ফের নতুন করে জল পৌঁছনোর কাজ শুরু হয়েছে। আবার কোথাও কল থেকে এতদিন খুব ধীরে জল পড়ত। সেই সমস্ত জায়গাতেও জলের গতি বেড়েছে। আগামী দিনে এই পরিসংখ্যান আরও বাড়বে বলেই দাবি করছে পিএইচই দপ্তর। পাইপলাইন থেকে জল চুরি আটকাতেই প্রত্যন্ত এলাকায় জল সরবরাহ স্বাভাবিক হচ্ছে। ইতিমধ্যেই নদীয়া জেলায় দু’হাজারেরও বেশি অবৈধ জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। কালীগঞ্জ, নাকাশিপাড়া, করিমপুর, চাপড়া, কল্যাণী, রানাঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ধরনের জল চুরির প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। 
Advertisement
পিএইচই দপ্তরের আধিকারিক সুবিমল বাগচি বলেন, ‘অনেক জায়গায় জলের অবৈধ সংযোগ থাকার ফলে সরবরাহে প্রভাব পড়ছিল। কিন্তু সেই সমস্ত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে। এতে বহু জায়গায় জল সরবরাহ ফের স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। আমরা সেইমতো কাজ করছি। যেসমস্ত জায়গায় জলের অবৈধ সংযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে, আমরা সেগুলি নিয়ে থানায় অভিযোগ করছি।’ 
নদীয়া জেলা পিএইচই দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গত সোমবার পর্যন্ত নদীয়া জেলায় জল চুরি নিয়ে ২ হাজার ৪০০টি অভিযোগ জমা পড়েছে। যার মধ্যে ২ হাজার ১৯৫টি জায়গায় জলের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।‌ যার ফলে ৩ হাজার ৪০০ হাউসহোল্ডে জলের সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। 
উল্লেখ্য, জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের জলস্বপ্ন প্রকল্পে বাড়ি বাড়ি জলের সংযোগ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, সেই সমস্ত জায়গাতে জলের সংযোগ দেওয়ার এক বছর পরেও জল পৌঁছয়নি। নদীয়ার পাশাপাশি গোটা রাজ্যেই এই সমস্যা দেখা যাচ্ছিল দীর্ঘদিন ধরে। পিএইচই-র কাজের ধরন নিয়েও অভিযোগ আসছিল বিভিন্ন জায়গা থেকে। বিশেষ করে আর্সেনিক প্রবণ নদীয়া জেলায় এই সমস্যা ছিল সবচেয়ে বেশি। এমনিতেই নদীয়া জেলার ভূগর্ভস্থ জলস্তর তলানিতে এসে ঠেকেছে।‌ তার উপর পিএইচই কাজ নিয়ে মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছিল। বিষয়টি নজর আসার পরেই মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ উগরে দেন জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের উপর। দপ্তরকে রীতিমতো ধমক দেন এবং সমস্যার দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দেন। 
মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশমতো প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। তারপর কোথায় কোথায় জল সরবরাহে ব্যাঘাত হচ্ছিল, তা খোঁজার কাজ শুরু হয়। সমীক্ষার কাজ করতে গিয়ে প্রশাসনকেও বেশ কিছু জায়গায় ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। দেখা যায়, জেলাজুড়েই পিএইচই’র পাইপলাইন থেকে অনেক জায়গায় অবৈধভাবে জলের সংযোগ তৈরি করে গ্রামের লোকজন ব্যবহার করছেন। যার ফলে প্রকৃত উপভোক্তারা জল পাচ্ছিলেন না ঠিকমতো। 
উল্লেখ্য, নদীয়া জেলার ১৮টি ব্লকের মধ্যে ১৬টি ব্লককেই লাল তালিকাভুক্ত করেছে কেন্দ্র সরকার। কারণ এখানে ভূগর্ভস্থ জলস্তর একদম নীচে নেমে গিয়েছে। যার জন্য জল সেচ করে মাটি থেকে জল তোলার অনুমতি নেই চাষিদের। সেই জলের জোগান মেটানোর জন্যই প্রত্যন্ত এলাকার অনেক জায়গায় পিএইচই’র পাইপ লাইন থেকে জল ‘অবৈধভাবে’ নেওয়া হচ্ছিল। এবার সেই সমস্ত অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে পিএইচই দপ্তর।
সম্পর্কিত সংবাদ