Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জল ছাড়ছে না ডিভিসি, এবার নির্জলা কুলটি 

জল ছাড়ছে না ডিভিসি, এবার নির্জলা কুলটি 
  • ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ডিভিসি পর্যাপ্ত জল না ছাড়ায় আসানসোলের পর কুলটিতেও পানীয় জলের হাহাকার শুরু হল। পর্যাপ্ত জল না পাওয়ায় কুলটি সেইল গ্রোথ ওয়ার্কস কারখানার উৎপাদনেও প্রভাব পড়ল। মঙ্গলবার  সকাল থেকে কুলটি, শিমুলতলা এলাকার বাসিন্দারা কারখানার গেট অবরোধ করে তুমুল বিক্ষোভ দেখান। কর্তৃপক্ষ টাউনশিপ ও এলাকায় পর্যাপ্ত জল না দেওয়া পর্যন্ত কারখানা চালু রাখতে দেওয়া হবে না বলে জানান তাঁরা। দীর্ঘক্ষণ আন্দোলনের পর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেন বিক্ষোভকারীরা। তখন এই কেন্দ্রীয় সংস্থার কর্তারা জলের হাহাকারের দায় ডিভিসির উপর চাপান। পাঁচদিন ধরে কুলটির বিস্তীর্ণ অংশ জলশূন্য, যা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। 
Advertisement
কুলটি সেইল গ্রোথ ওয়ার্কসের চিফ জেনারেল ম্যানেজার শুভাশিস সেনগুপ্ত বলেন, ডিভিসি মাইথন থেকে যে জল ছাড়ে তা পরিস্রুত করে সরবরাহ করা হয়। কারখানাতেও একই পদ্ধতিতে জল আনা হয়। প্রতিদিন টাউনশিপে ও কারখানায় মোট ১৪হাজার কিউবিক মিটার জলের প্রয়োজন। সেখানে জল তুলতে পারছি ২-৩ হাজার কিউবিক মিটার। সেকারণে কারখানার উৎপাদনেও প্রভাব পড়ছে। তাই টাউনশিপ সহ বিভিন্ন এলাকায় জল দেওয়া যাচ্ছে না। ডিভিসিকে ৬ ডিসেম্বর থেকে অতিরিক্ত জল ছাড়ার আর্জি জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। ডিভিসির ইডি(সিভিল) অঞ্জনীকুমার দুবে বলেন, আমরা দাবিমতো বাড়তি জল ছাড়ছি। ওদের জল প্রকল্পের মুখে বহু পলি জমে রয়েছে। তা পরিষ্কার না করার জন্যই জল ওখানে যাচ্ছে না। 
শিল্পাঞ্চলে বার্নপুরের পাশাপাশি কুলটিতেও ইস্কোর বড় কারখানা রয়েছে। সেখানে কারখানার পাশাপাশি বড় টাউনশিপ রয়েছে। সংলগ্ন এলাকাতেও দীর্ঘদিন ধরে পানীয় জল সরবরাহ করে আসছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। হাজার হাজার মানুষ এই পানীয় জলের উপর নির্ভরশীল। ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই জলের সমস্যা শুরু হয়েছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দা মুরুলিধর শর্মা, জিতেন্দ্র রায়। এনিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছিলেন এলাকার বাসিন্দারা। এদিন সেই ক্ষোভেরই বিস্ফোরণ ঘটে। বাসিন্দারা কারখানার মূল গেটের সামনে জমায়েত হন। জল না দেওয়ার প্রতিবাদ করে কারখানার গেট আটকে বসে পড়েন। সিআইএসএফ আন্দোলনকারীদের সরাতে তৎপর হলেও কাজ হয়নি। পরে কর্তৃপক্ষ তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করে। 
বৈঠক শেষে ৬৪নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলারের স্বামী কৃষ্ণা প্রসাদ বলেন, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে ডিভিসি পর্যাপ্ত জল না ছাড়ায় এই অবস্থা। কারখানা কর্তৃপক্ষ ডিভিসির সঙ্গে কথা বলছে। আমরাও মেয়রের কাছে যাচ্ছি, যাতে তিনি অতিরিক্ত জল দেওয়ার জন্য ডিভিসির কাছে আর্জি জানান। কারখানা সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীতে পর্যাপ্ত জলের অভাব। এই কারখানা যেখান থেকে জল সংগ্রহ করে তার ঠিক আগে থেকে পূর্ব রেলও জল সংগ্রহ করে। পূর্ব রেল নদীর সেই অংশে বাঁধ দিয়ে বাড়তি জল ধরে রাখছে। তাতে এখানে সমস্যা আরও বাড়ছে। 
শিল্পাঞ্চলে জলের হাহাকার নতুন কিছু নয়। পুজোর পর থেকেই আসানসোল পুরসভা এলাকাজুড়ে জলসঙ্কট শুরু হয়েছে। পুরসভার অভিযোগ, ডিভিসি পর্যাপ্ত জল না ছাড়ার জন্যই এই সমস্যা হচ্ছে। এর আগে বার্নপুরে সেইলের অধীনে থাকা ইস্কো কারখানাতেও একই সমস্যা হয়েছিল। তারাও টাউনশিপে পর্যাপ্ত জল দিতে না পারার জন্য ডিভিসিকে দায়ী করেছিল।
সম্পর্কিত সংবাদ