Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় বাংলা আবাসে বাড়ি প্রাপক এক লক্ষ ৪০ হাজার    

জেলায় বাংলা আবাসে বাড়ি প্রাপক এক লক্ষ ৪০ হাজার    
  • ৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আবাস যোজনায় পূর্ব মেদিনীপুরে প্রায় ১লক্ষ ৪০হাজার উপভোক্তা পাকা বাড়ি তৈরির টাকা পেতে চলেছেন। পঞ্চায়েতভিত্তিক গ্রাম সংসদ সভায় আবাস তালিকা অনুমোদন পেয়েছে। এরপর জেলাস্তরে গঠিত কমিটি ফাইনাল অনুমোদন করবে। এজন্য শুক্রবার ডিস্ট্রিক্ট লেভেল কমিটি(ডিএলসি) গড়া হয়েছে। জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজীকে মাথায় রেখে ওই কমিটিতে অতিরিক্ত জেলাশাসক(জেলা পরিষদ), জেলা পরিষদের সেক্রেটারি, তমলুক সদর মহকুমা শাসক এবং পূর্ত ও পরিবহণ কর্মাধ্যক্ষ মানব পড়ুয়া আছেন। ডিস্ট্রিক্ট লেভেল কমিটি ওই তালিকা অনুমোদন করার পরই ১লক্ষ ৪০হাজার মানুষ আবাস উপভোক্তা হিসেবে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাবেন। তারপরই রাজ্য সরকার বাড়ি তৈরির জন্য উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে প্রথম কিস্তির টাকা দেবে।
Advertisement
পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ২৫টি ব্লকে ২২৩টি গ্রাম পঞ্চায়েত। ওই সব পঞ্চায়েতে মোট ১লক্ষ ৭৭হাজার ৯০৩জনের বাড়িতে গিয়ে সার্ভে করেছেন সরকারি কর্মীরা। তারপর গত ২৭নভেম্বর বৈধ উপভোক্তা হিসেবে মোট ১লক্ষ ৪১হাজার ৭১জনের নাম প্রকাশিত হয়। বাদ পড়ে ৩৬হাজার ৮৩২জনের নাম। গত ২৮নভেম্বর থেকে ৪ডিসেম্বর পর্যন্ত জেলায় প্রায় ১৩হাজার আপত্তি জমা পড়েছে। তারমধ্যে তালিকা থেকে বাদ যাওয়া অধিকাংশ ফের বাড়ি তৈরির টাকার জন্য আবেদন করেছেন। আবার, সার্ভে তালিকায় নাম না থাকা অনেক আবেদনও এসেছে। প্রতিটি ব্লকে ৪০০থেকে ৫০০পর্যন্ত এধরনের আবেদন এসেছে বলে জানা গিয়েছে। ২৭ নভেম্বর আবাস তালিকা প্রকাশের পর বেশকিছু নাম নিয়ে হইচই তৈরি হয়। যেমন, নন্দীগ্রাম-২ব্লকের বিরুলিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বিজেপির প্রধানের শ্বশুর পাকাবাড়িতে থাকার পরও আবাস তালিকায় নাম ওঠে বলে অভিযোগ। আবার ওই গ্রাম পঞ্চায়েতে মাটির বাড়ি ও টালির চালা বাড়িতে থাকা বৃদ্ধা অসহায়দের নাম বাদ পড়ার খবর সংবাদ মাধ্যমে ওঠে আসে। ওইসব ঘটনায় প্রশাসন পুনরায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তদন্ত করেছে। ওই ব্লকের বিজেপি পরিচালিত আমদাবাদ-২পঞ্চায়েত প্রধান পূর্ণচন্দ্র মণ্ডলের কাঁচাবাড়ি। আবাস তালিকায় নাম ছিল। কিন্তু, তিনি বাড়ি নেবেন না বলে বিডিওকে চিঠি দিয়েছেন। আবার, পাঁশকুড়া ব্লকের হাউর পঞ্চায়েতের বিজেপির সদস্যা দেবশ্রী বর ‘সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী’ নম্বরে ফোন করে আবাস যোজনা তালিকায় স্বামী, ভাশুর ও দেওরের নাম কনফার্ম করেছেন।   গ্রাম সংসদ সভায় আবাস তালিকা অনুমোদনের পর ২৫টি ব্লকের বিডিও-র সঙ্গে মিটিং করেছেন জেলাশাসক। সেখানে কোন ব্লক থেকে কত সংখ্য‌ক আপত্তি এসেছে তার তালিকা জোগাড় করা হয়েছে। ১১ডিসেম্বরের মধ্যে সেইসব আপত্তি নিষ্পত্তি করার পর জেলাস্তরে তৈরি কমিটি আবাস তালিকা অ্যাপ্রুভ করবে। ডিএলসি-র অনুমোদনের পরই ১লক্ষ ৪০হাজার মানুষ আবাস যোজনায় উপভোক্তা হিসেবে স্বীকৃতি পাবেন।  চণ্ডীপুর ব্লকের দিবাকরপুর গ্রামের পবিত্র বারিক, টগরি প্রামাণিক, সুতাহাটা ব্লকের আসদতলিয়া পঞ্চায়েতের অনন্তপুর গ্রামের বাপি রায়, খুকু মান্না, এগরা-১ব্লকের বরিদা পঞ্চায়েতের বাইসপুর গ্রামের বিমল জানা ও শুভাশিস মহাপাত্র আবাসের উপভোক্তা। তাঁরা বলেন, দু’বছর আগে বাড়ি তৈরির টাকা দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছিল। সেইমতো প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু, কেন্দ্র টাকা দেয়নি। 
সম্পর্কিত সংবাদ