Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ২৯৩ কোটি টাকা 

জেলায় বিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে প্রায় ২৯৩ কোটি টাকা 
  • ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বীরভূম জেলাজুড়ে প্রায় ২৯৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। বিল আদায়ে নোটিসের পর নোটিস পাঠিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। জেলা বিদ্যুৎদপ্তর চরম ক্ষতির মুখে পড়ছে। অভিযোগ, বিল পরিশোধ না করার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বসতবাড়ি। শুধুমাত্র বসতবাড়ির ক্ষেত্রেই বকেয়ার অঙ্ক প্রায় ১০০ কোটি টাকা। জেলার তিনটি ডিভিশনের মধ্যে সিউড়িতে বকেয়ার পরিমাণ সব থেকে বেশি। অন্যদিকে কৃষি ক্ষেত্রে বকেয়ার পরিমাণও খুব একটা কম নয়। এক্ষেত্রেও জেলাজুড়ে প্রায় ৯৫ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। ডিভিশনের নিরিখে বোলপুর শীর্ষে রয়েছে। বকেয়ার পরিমাণ ৫০ কোটি ছাপিয়ে গিয়েছে। জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের রিজিওনাল ম্যানেজার পরিমল সরকার বলেন, বকেয়া আদায়ের জন্য একাধিকবার উপভোক্তাদের নোটিস পাঠানো হয়েছে। কোনও কোনও ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্নও করা হচ্ছে। এছাড়াও উপভোক্তাদের চাপ কমাতে কিস্তির বন্দোবস্তও রয়েছে। যদিও বকেয়া মেটাতে অনীহা দেখা যাচ্ছে। আগামীতে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব। 
Advertisement
জেলা বিদ্যুৎ দপ্তরের তরফে জানা গিয়েছে, চলতি মাসের ১ তারিখ পর্যন্ত জেলাজুড়ে মোট ২৯৩ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। বসতবাড়ির ক্ষেত্রে মোট বকেয়া ১০২.৮৭ কোটি টাকা। সিউড়ি ডিভিশনে ৮১ হাজার ১৪৮ জন উপভোক্তা মিলিয়ে মোট বকেয়া ৪৬ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা।  বোলপুর ডিভিশনে ৫৯ হাজার ২২৩ জনের বকেয়া ১৯ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। ও রামপুরহাট ডিভিশনে ৯০ হাজার ৫০৬ জনের বকেয়া ৩৬ কেটি ৩ লক্ষ টাকা। 
বসতবাড়ির ক্ষেত্রে সিউড়ি ডিভিশন এগিয়ে থাকলেও কৃষি ক্ষেত্রে বোলপুর রেকর্ড গড়েছে। সেখানে ৫ হাজার ৬২৩ জন উপভোক্তার মোট বকেয়ার পরিমাণ ৫৫ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। এরপরেই সিউড়ি ডিভিশনের স্থান। সেখানে ১ হাজার ৯৮০ জন উপভোক্তার মোট বকেয়া ২১ কোটি ১ লক্ষ টাকা।  রামপুরহাটে ৫ হাজার ৪ জন উপভোক্তার মোট ১৮ কোটি ২২ কোটি টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে। সব মিলিয়ে জেলাজুড়ে কৃষিক্ষেত্রে মোট ৯৪ কোটি ৪৮ কোটি টাকা বিল বকেয়া রয়েছে। এছাড়াও বকেয়ার তালিকায় বেশকিছু কারখানার নামও রয়েছে। সেইসঙ্গে একাধিক সরকারি দপ্তরও রয়েছে। যদিও সরকারি দপ্তরগুলির তরফে অর্থ বর্ষের শেষে সমস্ত বকেয়া মিটিয়ে দেওয়া হয়। তবে, বসতবাড়ি ও কৃষি ক্ষেত্রের বকেয়া বিদ্যুৎ দপ্তরকে ভাবাচ্ছে। 
বকেয়া বিলের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকা ছাপিয়ে গেলে বিদ্যুৎ বিছিন্ন করা হয়। বসতবাড়ির পাশাপাশি কৃষিক্ষেত্রেও একই পন্থা অবলম্বন করা হচ্ছে। তাতে কিছুটা সুরাহা হলেও আখেরে লাভ হচ্ছে না। দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বকেয়া পরিশোধের জন্য জন্য সর্বোচ্চ ১২টি কিস্তির সুযোগ রয়েছে। যদিও উপভোক্তারা বকেয়া পরিশোধে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। এই পরিস্থিতিতে বকেয়ার পরিমাণ ক্রমশ বাড়ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ