Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় আধিকারিকদের সামনে ক্ষোভ স্থানীয়দের

জেলায় আধিকারিকদের সামনে ক্ষোভ স্থানীয়দের
  • ২৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: বাড়ি বাড়ি জল সংযোগে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নদীয়া জেলা। অথচ সেই জেলাতেই ‘কল আছে জল নেই’ অভিযোগ গ্রামের বাসিন্দাদের। আর্সেনিক প্রবণ নদীয়া জেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এই সমস্যা ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। জেলাজুড়ে এমন বহু গ্রাম রয়েছে যেখানে দীর্ঘদিন আগে পিএইচই’র তরফ থেকে কল লাগিয়ে গেলেও এখনও জল পড়ে না। এতদিন স্থানীয় জনপ্রতিনিধির কাছে এই নিয়ে অভিযোগ তুলতেন গ্রামের বাসিন্দারা। এবার প্রশাসনের আধিকারিকদের পেয়ে রীতিমতো ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন তাঁরাই। ‘ডামি’ কল থেকে আদৌও কি কখনও জল পড়বে? গ্রামবাসীদের মুখে একটাই প্রশ্ন। এই প্রশ্নের মুখে  অস্বস্তিতে পড়তে হচ্ছে আধিকারিকদেরকেও। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের পর গ্রামে গ্রামে ঘুরে সার্ভের কাজ করছে প্রশাসন। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় সরকারি হিসেবে দু’লক্ষ বাড়িতে কল পৌঁছলেও জল পৌঁছয়নি। যদিও এই সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলেই মনে করা হচ্ছে। এব্যাপারে দপ্তরের দাবি, গ্রামীণ এলাকায় পিএইচই’র জল অনেকেই অবৈধভাবে চুরি করে বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করেন। যার জন্যই প্রকৃত উপভোক্তারা জল পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে দপ্তরের তরফ থেকে নদীয়া জেলার ১১টি থানায় ১৬২টি অভিযোগ করা হয়েছে। 
Advertisement
নদীয়ার জেলাশাসক অরুণ প্রসাদ বলেন, ‘আমরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কোথায় জলের সমস্যা রয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছি। গ্রামের বাসিন্দারাও নিজেদের অভিযোগ আমাদের জানাচ্ছেন। সেই মতো রিপোর্ট তৈরি করা হচ্ছে।’
বৃহস্পতিবার ভোরে জেলাশাসক প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে কালীগঞ্জ দেবগ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পিএইচই’র কাজ পরিদর্শন করেন। গ্রামে গ্রামে জল সংযোগে নিয়ে যে বিস্তর অভিযোগ উঠছে, তা তিনি খতিয়ে দেখেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও জেলাশাসকের কাছে অভিযোগ জানান যে, এক বছর আগে ট্যাপ কল বসলেও এখনও পর্যন্ত জল দেওয়া শুরু হয়নি। অথচ পিএইচই দপ্তরের নিজস্ব পোর্টালে জানানো হচ্ছে যে, দেবগ্রাম পঞ্চায়েতে ১০ হাজার ৩টি হাউসহোল্ড রয়েছে এবং একশো শতাংশ হাউসহোল্ডেই জলের সংযোগ পৌঁছে গিয়েছে। এমনকী এখনও পর্যন্ত দেবগ্রাম পঞ্চায়েতে ২৪টি স্যাম্পেল টেস্ট করা হয়েছে। তাতে দেখা গিয়েছে, সেখানকার পানীয় জল আর্সেনিকের কারণে ‘আনসেফ’। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, ‘সমীক্ষার কাজ করতে গিয়ে আমাদের সর্বত্র রীতিমতো ক্ষোভের মুখে পড়তে হচ্ছে। গ্রামের মানুষরা আমাদের কার্যত ঘেরাও করে জলের সমস্যার কথা জানাচ্ছেন।’
পিএইচই দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, নদীয়া জেলায় সব মিলিয়ে ১১ লক্ষ ৮৮ হাজার ৮০০ বাড়িতে জলের সংযোগ দেওয়ার টার্গেট রয়েছে।‌ এর মধ্যে খাতায় কলমে ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত জলের সংযোগ পৌঁছেছে ১০ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪৬১ জন উপভোক্তার কাছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার ৮৮ শতাংশ বাড়িতে জলের সংযোগ ঘটিয়ে রাজ্যের মধ্যে নদীয়া জেলা প্রথম স্থানে রয়েছে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, এক বছর পরেও বহু গ্রামে জল সরবরাহ শুরু হয়নি। এই নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জেলা স্তরে একাধিকবার সরব হয়েছিলেন। এবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী সংযোগের পরও জল সরবরাহ গড়িমসি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 
পিএইচই দপ্তরের আধিকারিক এস কে বাগচি বলেন, ‘যাঁরা অবৈধভাবে জল ব্যবহার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এগারোটি থানার ১৬২টি অভিযোগ করা হয়েছে। কারণ আমাদের লাইন থেকে অনেকেই ট্যাপ করে জল ব্যবহার করেন বিভিন্ন কাজের জন্য। যার ফলে দূরের জায়গায় জল পৌঁছচ্ছে না‌’ 
সম্পর্কিত সংবাদ