Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জলে ৬ কোটি! ট্যাবের টাকা নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে উধাও, পরীক্ষায় নেই পূর্ব মেদিনীপুরের ছ’হাজার পড়ুয়া

জলে ৬ কোটি! ট্যাবের টাকা নিয়ে উচ্চ মাধ্যমিকে উধাও, পরীক্ষায় নেই পূর্ব মেদিনীপুরের ছ’হাজার পড়ুয়া
  • ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: ট্যাব কেনার টাকা পাওয়ার পরও পূর্ব মেদিনীপুরে ছ’হাজার ছাত্রছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে না। আগামী ৩ মার্চ থেকে এ বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পরীক্ষা দিচ্ছে ৩০ হাজার ১৬৪ জন। যদিও জেলা শিক্ষা দপ্তরের রিপোর্ট অনুযায়ী, এই জেলায় ট্যাব কেনার টাকা পেয়েছে দ্বাদশের ৩৬ হাজার ছাত্রছাত্রী। ‘তরুণের স্বপ্ন’ প্রকল্পে তাদের মাথাপিছু ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়েছিল। এজন্য সরকারের খরচ হয় ৩৬ কোটি টাকা। কিন্তু, শিক্ষায় এগিয়ে থাকা এই জেলায় উচ্চ মাধ্যমিকে রেজিস্ট্রেশনের পরও ছ’হাজার ছাত্রছাত্রী পরীক্ষায় বসছে না। যদিও তারা প্রত্যেকেই ট্যাব কেনার টাকা পেয়েছে। ওই ছ’হাজার পরীক্ষার্থী উচ্চ মাধ্যমিক না দেওয়ায় শুধুমাত্র তরুণের স্বপ্ন প্রকল্পে সরকারের ছ’কোটি টাকা জলে চলে গেল।
Advertisement
এবছর পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৩০ হাজার ১৬৪ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। তাদের মধ্যে ছাত্রের সংখ্যা ১৩ হাজার ৯১২ এবং ছাত্রীর সংখ্যা ১৬ হাজার ২৫২ জন। মোট পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা ৭১টি। তারমধ্যে সাব ভেনু তিনটি। বাকি ৬৮টি মেন ভেনু। পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে ৩১ জনের একটি ডিস্ট্রিক্ট অ্যাডভাইসারি কমিটি গড়া হয়েছে। প্রত্যেক ব্লক ও পুরসভা এলাকা থেকে একজন করে শিক্ষক কমিটিতে জায়গা পেয়েছেন। ওই কমিটির জয়েন্ট কনভেনার হয়েছেন সমীর ভৌমিক। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সঙ্গে জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) অফিসের সমন্বয় রেখে কাজ করবে ওই উপদেষ্টা কমিটি।
বহু স্কুলে রেজিস্ট্রেশন করার পর ট্যাবের টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকলেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী টেস্ট পরীক্ষায় বসেনি। অনেকেই ফর্ম ফিলআপ করেনি। পরীক্ষায় বসতে নিমরাজি অনেক ছাত্রছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে শিক্ষক-শিক্ষিকারা বুঝিয়ে ফর্ম ফিলআপ করিয়েছেন। পরীক্ষার মুখে গত ১২ ফেব্রুয়ারি লেট ফাইন দিয়ে এই জেলায় এরকম ৩৩ জন ফর্ম ফিলআপ করেছে। তাদের বেশিরভাগ মোটেও পরীক্ষায় বসতে রাজি নয়। কিন্তু, শিক্ষক শিক্ষিকা এবং অভিভাবকদের চাপে একেবারে পরীক্ষার মুখে ফর্ম পূরণ করে অ্যাডমিট কার্ড হাতে পেয়েছে।  
ভগবানপুর-১ ব্লকের মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠে ১০৯ জন ছাত্রছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিকে রেজিস্ট্রেশন করেছে। তারা প্রত্যেকেই ট্যাব কেনার টাকা পেয়েছে। অথচ, পরীক্ষায় বসছে ৯৩ জন। একটা স্কুলেই ১৬ জন ট্যাব কেনার টাকা পেয়েও পরীক্ষায় নেই। ময়না আদর্শ বিদ্যায়নে দ্বাদশ শ্রেণির মোট ১১৩ জন ট্যাব কেনার টাকা পেলেও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসছে ১০১ জন। নন্দকুমার ব্লকে রাজনগর রামচন্দ্র বিদ্যাপীঠের ১০৪ জন উচ্চ মাধ্যমিকে রেজিস্ট্রেশন করেছে। অথচ, পরীক্ষায় বসছে ৯৮ জন। 
মহম্মদপুর দেশপ্রাণ বিদ্যাপীঠের টিচার ইন-চার্জ রঞ্জন গিরি বলেন, আমাদের উচ্চ মাধ্যমিকে ১০৯ জন রেজিস্ট্রেশন করেছিল। কিন্তু, এক বছরের মধ্যে বেশ কয়েকজন ড্রপ আউট হয়। এবার ৯৩ জন উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে।   
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(মাধ্যমিক) পলাশ রায় বলেন, এবছর ৩০ হাজার ১৬৪ জন ছাত্রছাত্রী উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা দেবে। এবারও ছাত্রের তুলনায় ছাত্রীর সংখ্যা বেশি। পরীক্ষা নিয়ে যাবতীয় প্রস্তুতি সেরে ফেলা হয়েছে। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ মনোনীত পূর্ব মেদিনীপুর জেলার জয়েন্ট কনভেনার সমীর ভৌমিক বলেন, উচ্চ মাধ্যমিকে ৩৬ হাজার ছাত্রছাত্রী রেজিস্ট্রেশন করেছিল। প্রায় সকলে ট্যাব কেনার টাকা পেয়েছে। যদিও পরীক্ষায় বসছে ৩০ হাজার ১৬৪ জন। কিছু সংখ্যক ছাত্রছাত্রী রেজিস্ট্রেশনের পর অন্য কোর্সে চলে গিয়েছে। আবার কারও বিয়ে হয়েছে। কেউ কেউ ড্রপ আউট হয়ে কাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ