Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জখম দম্পতিকে নিতে এগিয়ে এলেন না কর্মীরা 

জখম দম্পতিকে নিতে এগিয়ে এলেন না কর্মীরা 
  • ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
বলরাম দত্তবণিক, রামপুরহাট: পথ দুর্ঘটনায় জখম দম্পতিকে গাড়ি থেকে নামিয়ে ইমারজেন্সি পর্যন্ত নিয়ে যেতে এগিয়ে এলেন না রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের কোনও কর্মী। অমানবিক এই ঘটনায় হতবাক সমাজ। বাইক দুর্ঘটনায় জখম ওই দম্পতিকে নিজের গাড়িতে চাপিয়ে হাসপাতাল অবধি নিয়ে এসে যতটা মানবিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন ক্যান্সার আক্রান্ত কালীপদ চৌধুরী, ততটাই অমানবিকতার পরিচয় দিলেন হাসপাতালের কর্মীরা। কালীপদবাবু হাতজোড় করে সকলের কাছে সহায়তা ভিক্ষে করলেও কেউ এগিয়ে আসেননি। দীর্ঘক্ষণ বাদে এক সিকিউরিটি কর্মীর সহায়তায় ওই দম্পতিকে ইমারজেন্সিতে ভর্তি করেন কালীপদবাবু। মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি পলাশ দাস কর্মী সংখ্যার অপ্রতুলতার দোহাই দিয়েও বলেন, যে ছেলেদের আমরা কাজে নিয়েছি তাঁদের অনেকের কাজ করা নিয়ে নেতিবাচক মানসিকতা রয়েছে। তবে তিনি বলেন, ওয়ার্ডে রোগীদের নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্ব দু’ পক্ষেরই। রোগীর আত্মীয়দের সঙ্গে আমাদের কারও থাকা উচিত। যদিও এই নিয়ে পরিষ্কার কোনও গাইড লাইন নেই। তবে এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, জখম দম্পতিকে রাস্তা থেকে তুলে এনেছিলেন ক্যান্সরাক্রান্ত কালীপদ। ফলে বাড়ির কোনও লোক সঙ্গে থাকার প্রশ্নই নেই এ ক্ষেত্রে। 
Advertisement
শুক্রবার সকালে মল্লারপুরের বাসিন্দা তারক বাউড়ি বাইকের পিছনে স্ত্রী মামনি বাউড়িকে চাপিয়ে রামপুরহাটের বাজারে মাছ বিক্রি করতে আসছিলেন। রানিগঞ্জ-মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের রামপুরহাট থানার তারাপীঠ রোড স্টেশন মোড়ে বাইকের চাকা পাথরকুচির উপর পড়তেই দুজনে ছিটকে পড়ে গুরুতর জখম হন। ঘটনাস্থলের সামনেই বাড়ি কালীপদ চৌধুরীর। তিনি স্থানীয়দের সহায়তায় রক্তাক্ত দম্পতিকে তাঁর গাড়িতে তুলে রামপুরহাট মেডিক্যালে নিয়ে আসেন। কালীপদর কথায়, হাতজোড় করে সকলকে আবেদন করেছি। কিন্তু কেউ এগিয়ে আসেননি। সেখানে হাজির এক পুলিস কর্মী বলেন, হাতে ব্যথা, পারব না। এদিকে আমি ক্যান্সার আক্রান্ত। বড় অপারেশন হয়েছে। আমার একার পক্ষে তাঁদের স্ট্রেচারে তোলা সম্ভব ছিল না। দীর্ঘক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকার পর এক সিকিউরিটি কর্মী এগিয়ে আসেন। এদিকে ইমারজেন্সিতে দেখানোর পর চারতলার ওয়ার্ডে নিয়ে যাওয়ার জন্যও কাউকে পাওয়া যায়নি। অসুস্থ শরীরে কোনওরকমে তাঁদের ওয়ার্ডে নিয়ে যাই। তিনি বলেন, এমনটা চলতে থাকলে কেউই আর জখমদের তুলে হাসপাতালে নিয়ে আসবে না। দিন কয়েক আগে এমনই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছিলেন মুরারইয়ের সাদেকুল ইসলাম। রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের অব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ বহুদিনের। কখনও স্ট্রেচার পাওয়া যায় না, কখনও কর্মীরা অসহযোগিতা করেন বলে রোগীদের অভিযোগ। আশপাশের জেলাগুলি তো বটেই, পাশের রাজ্য ঝাড়খণ্ড থেকেও এই হাসপাতালে রোগী আসে। কিন্তু রোগীর আত্মীয়দের তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরতে হয়। পাঁচবছর হতে চলল মেডিক্যাল কলেজের স্বীকৃতি পেয়েছে রামপুরহাট হাসপাতাল। কিন্তু বিনা চিকিৎসায় রোগী মৃত্যুর অভিযোগে প্রায়ই উত্তাল হয় হাসপাতাল চত্বর। মেডিক্যাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সংখ্যায় কম হলেও এই ধরনের পরিষেবা দেওয়ার জন্য চতুর্থ শ্রেণির কর্মীরা রয়েছেন। কিন্তু অভিযোগ, তাঁদের অনেকেই ডিউটি ঠিক মতো করেন না। ফলে ভোগান্তির শিকার হতে হয় মানুষকে। বিষয়টি নিয়ে এমএসভিপির সঙ্গে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের গভর্নমেন্ট নমিনি তথা বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়।   
সম্পর্কিত সংবাদ