Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝকঝকে রাস্তা, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো, রূপ বদল মাওবাদী আগুনে ঝলসানো আগুইবনির  

ঝকঝকে রাস্তা, ঘরে ঘরে বিদ্যুতের আলো, রূপ বদল মাওবাদী আগুনে ঝলসানো আগুইবনির
 
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম : জঙ্গল থেকে এখন আর ভেসে আসে না বন্দুকের গর্জন। ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে বেঁচে থাকার দিন শেষ হয়েছে। উন্নয়নের হাত ধরে ঝাড়গ্রামের আগুইবনি এলাকা বদলে গিয়েছে।বাড়িতে বাড়িতে বিদ্যুতের আলো, পঞ্চায়েত অফিস, স্কুল,বাজার, কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় হাইমাস্ট আলো বসেছে। সোলার সাবমার্সিবল বসানো হয়েছে। জঙ্গল ঘেরাগ্ৰামের রাস্তা এখন কাঁচা থেকে পাকা হয়েছে। বর্তমানে চাষিরা ধান ছাড়াও নানারকম সব্জি চাষ করে আর্থিক সুবিধার মুখ দেখছেন। বেহাল স্বাস্থ্য পরিষেবার অভিশাপ দূর হওয়ায় খুশি বাসিন্দারা।
Advertisement
জঙ্গলমহলে অশান্তিপর্বে আগুইবনি মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চলে পরিণত হয়েছিল। জঙ্গলপথেরগোপন করিডর দিয়ে সশস্ত্র মাওবাদীরা ঝাড়গ্ৰামে প্রবেশ করত। জঙ্গল পার্টির বড় নেতারা গ্ৰামে ঢুকলেই তৈরি হয়ে যেত নিরাপত্তার ত্রিস্তর বলয়। গ্ৰামের বাসিন্দারা ইচ্ছে করলেই গ্ৰাম ছেড়ে বাইরে যেতে পারতেন না। মাওবাদীদের নির্দেশ মেনে এলাকায় চলাফেরা করতে হতো। নির্দেশ অমান্য করলেই গ্ৰামে জনআদালত বসিয়ে বিচার চলত। সেই আতঙ্কের স্মৃতি গ্ৰামবাসীরা এখনও ভুলতে পারেননি। রাজ্যে ২০১১ সালে রাজনৈতিক পালাবদল হয়।রাজনৈতিক হিংসা ও অশান্তির সময় পেরিয়ে এলাকায় শান্তি ফিরে আসে। বিরিহান্ডি গ্ৰামের বছর পঞ্চাশের এক বাসিন্দা বলেন,বাম আমলের শেষদিকে মাওবাদীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেছিল। গ্ৰামের যুবক-যুবতীদের ওরা দলে ভিড়িয়েছিল। বন্দুক নিয়ে ওদের দলের ছেলেরা এলাকায় ঘোরাফেরা করত। জঙ্গল থেকে বন্দুকের আওয়াজ ভেসে আসত। বাইরে থেকে গ্ৰামে ঢুকতে হলে ওদের দেওয়া গোপন সঙ্কেত দেখাতে হত। সেইসময় আতঙ্কের মধ্যে আমাদের দিন কেটেছে।মাওবাদীরা চলে যাওয়ার পর এলাকায় শান্তি ফিরে আসে। রাজনৈতিক পালাবদল এলাকার চিত্র বদলে দেয়। আগুইবনি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের ২৭টি মৌজায় ২০১৩ সালে উন্নয়নের কাজ শুরু হয়। বিদ্যুৎ, পানীয় জলের সমস্যা মেটে।এলাকায় নতুন করে উপস্বাস্থ্য ভবন তৈরি করা হয়েছে।প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য এখন আর ঝাড়গ্রামে ছুটতে হয় না। গ্রামের লোকশিল্পীরা ভাতা পাচ্ছেন। রাজ্য সরকারের বহুমখী একাধিক প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছে এলাকার মানুষ। আগুইবনি গ্ৰাম পঞ্চায়েতের সদস্য জগদীশ মাহাত বলেন, বাম আমলে এই এলাকায় কোনও উন্নয়ন হয়নি। মাওবাদীরা ২০০৮ সাল থেকে এই এলাকায় প্রভাব বিস্তার শুরু করে। ওদের দলের নেতা-কর্মীরা গ্ৰামে নিয়মিত আসা যাওয়া করত। স্বাভাবিকভাবেই ওদের সব কথা শুনে আমাদের চলতে হত। এখন মানুষ শান্তিতে আছে। তাদের হাতে আর্থিক জোগান বেড়েছে। কুটির শিল্পের মাধ্যমে মহিলারা স্বনির্ভর হয়ে উঠেছেন। তাঁদের জন্য প্রশাসনের তরফে লোনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষিদপ্তর থেকে চাষিদের নানা ধরনের সব্জির বীজ দেওয়া হচ্ছে। কৃষকবন্ধু প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন চাষিরা। 
পঞ্চায়েতের এনএস সুজিত ঢল বলেন, বিরিহান্ডি,বাঘঝঁপা,সিম্পলি একতাল সহ একাধিক গ্ৰামীণ এলাকায় ধারাবাহিকভাবে উন্নয়নের কাছ চলছে। গ্ৰামগুলির বেশিরভাগ রাস্তা কংক্রিটের হয়ে গেছে। সংযোগকারী রাস্তার কাজগুলো বাকি আছে। সেই সঙ্গে পাকা ড্রেন তৈরির কাজও চলছে। বিরিহান্ডি গ্ৰামের বাসিন্দা জ্যোৎস্না মাহাত বলেন, আগে আমাদের কুয়োর জল খেতে হত। তাতে নানারকম পেটের অসুখ করত। এখন সাব মার্সিবেল থেকে জল পায়। ঘরে আলো এসেছে।এছাড়াও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা পাচ্ছি। স্বনির্ভর প্রকল্প আমাদের অবস্থা বদলে দিয়েছে।আগের মতো কষ্ট করে আর দিন কাটাতে হয়না। 
সম্পর্কিত সংবাদ