Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ড থেকে সীমানা পার হয়ে রাজ্যে অবাধে ঢুকছে নকল পেট্রল

ঝাড়খণ্ড থেকে সীমানা পার হয়ে রাজ্যে অবাধে ঢুকছে নকল পেট্রল
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঝাড়খণ্ড থেকে সীমানা পেরিয়ে বাংলায় অবাধে ঢুকছে নকল পেট্রল। কেরোসিনের সঙ্গে কেমিক্যাল ও রং মিশিয়ে সেই পেট্রল বিক্রি করা হচ্ছে। পথ চলতি বাইকের পেট্রল ফুরিয়ে গেলে কাছাকাছি পেট্রল পাম্প না থাকলে রাস্তার পাশের দোকান থেকে বোতলে ভরা পেট্রল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন বাইক চালকরা। তাতে পাম্পের পেট্রলের থেকেও বেশি দাম নেওয়া হচ্ছে। ক্রেতাদের পক্ষেও আসল নকল ফারাক করা খুবই মুশকিল। রামপুরহাট, নলহাটি, মহম্মদবাজার, মুরারইয়ের পাথর শিল্পাঞ্চল ছাড়াও রাস্তার ধারে কয়েক হাত অন্তর এমনই নকল পেট্রল বিক্রি বেড়েছে। পেট্রলের অপব্যবহার রুখতে সরকারি পাম্পগুলিতে লুজ বা খুচরো পেট্রল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে পুলিস। তাতেই ঝাড়খণ্ডের নকল পেট্রলের কারবার ফুলেফেঁপে উঠছে। 
Advertisement
এতদিন ঝাড়খণ্ড থেকে গোরু, কয়লা, আগ্নেয়াস্ত্র পাচার হয়ে এসেছে বাংলায়। আবার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলার মাটি ব্যবহার করে গোরু পাচার করা হচ্ছে পড়শি দেশ বাংলাদেশে। এবার পাচারের সেই তালিকায় জুড়ল পেট্রল। তবে তা আসল নয়, নকল পেট্রল। 
ঝাড়খণ্ড থেকে বীরভূমে ঢোকার ১৩টি ‘পয়েন্ট’ রয়েছে। সেখানে নিয়মিত নাকা-তল্লাশি চালায় পুলিস বলে দাবি। এরই ফাঁক গলে ঝাড়খণ্ড থেকে অবাধে এরাজ্যে ঢুকছে নকল পেট্রল। ঝাড়খণ্ডের কারবারিরা সেক্ষেত্রে টার্গেট করেছে বীরভূমের পাথর শিল্পাঞ্চল ও সীমানা ঘেঁষা গ্রামগুলিকে। কারণ, শহরগুলিতে পেট্রল পাম্প রয়েছে। গ্রামে সেই সুবিধে নেই। বর্তমানে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতেই মোটর বাইক রয়েছে। 
রামপুরহাট থেকে বৈধরা গ্রাম যাওয়ার রাস্তার ধারে বোতলে ভরে পেট্রল বিক্রির অসংখ্য দোকান রয়েছে। সেগুলি মূলত চা, খাবারের দোকান। বাইরে টেবিলে সাজানো বোতলে ভরা পেট্রল। সূত্রের খবর, দু’দিন অন্তর টোটোয় নকল পেট্রল ভর্তি ড্রাম চাপিয়ে হাজির হচ্ছেন ঝাড়খণ্ডের কিছু লোক। এখানে তা বিক্রি করছে লিটার প্রতি ৮৫ টাকায়। বাংলার পাম্পে পেট্রলের দাম লিটার প্রতি প্রায় ১০৬ টাকা। রাস্তার ধারের দোকানগুলিতে দু’টি পেট্রলই লিটার প্রতি ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। লাভ বেশি হওয়ায় ঝাড়খণ্ডের পেট্রলই বেশি বিক্রি করেছেন তাঁরা। রামপুরহাটে রাস্তার ধারের এক পেট্রল বিক্রেতা  বলেন, ঝাড়খণ্ডের পেট্রলের দাম এখানকার তুলনায় অনেক কম, তাই রাখি। তবে পরিচিত বাইক চালকদের দিই না। কারণ, নকল পেট্রল দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয়। আসল এবং নকল পেট্রল ফারাক করা খুবই সহজ। একটি সাদা কাগজে নিবের কলম দিয়ে কিছু লিখুন। শুকিয়ে যাওয়ার পর সেই লেখার উপর একটু নকল পেট্রল দিন। দেখবেন লেখাগুলি ঘেঁটে ছড়িয়ে গিয়েছে। আর আসল পেট্রলে লেখা নষ্ট হবে না। আসল পেট্রল উড়ে যাবে। ফলে লেখা যেমন ছিল তেমন থাকবে। তাছাড়া আসল পেট্রলের গন্ধ কড়া। নকল পেট্রলে  ক্ষতিকারক পদার্থের ভেজালের কারণে এর গন্ধ কিছুটা আলাদা এবং হাল্কা হয়। 
রামপুরহাটের এক পাম্প মালিক সায়ন হাজরা বলেন, বাংলার তুলনায় ঝাড়খণ্ডে পেট্রলের দাম এমনিতেই পাঁচ টাকা কম। তার উপরে ঝাড়খণ্ডের নকল পেট্রলের ব্যবসা বেড়ে যাওয়ায় আমাদের ব্যবসার ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া দুর্গাপুরের ইন্ডিয়ান অয়েল এবং বিপিসিএল ডিপো থেকে কাটা তেল নিয়ে এসে ৮০ টাকা লিটারে বিক্রি করা হচ্ছে। এই তেলের রমরমা জেলার পাথর শিল্পাঞ্চলে বেশি। পুলিস অবশ্য জানাচ্ছে, খুব শীঘ্রই অভিযানে নামা হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ