Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ড থেকে আধার তৈরির আইডি ‘ভাড়া’ নিয়েছিল সূতির ধৃতরা

ঝাড়খণ্ড থেকে আধার তৈরির আইডি ‘ভাড়া’ নিয়েছিল সূতির ধৃতরা
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: সূতিতে বসে অবৈধভাবে আধার কার্ড তৈরি করে ব্যাপক মুনাফা করেছে অভিযুক্ত তিন যুবক। এই কাজে ঝাড়খণ্ডের একটি আইডি ব্যবহার করত তারা। সেই আইডির পাসওয়ার্ডও জোগাড় করেছিল ধৃতরা। বিপুল টাকার বিনিময়ে তারা আধার কার্ড তৈরির আইডি এবং পাসওয়ার্ড ‘ভাড়া’ নিয়েছিল বলেই জানতে পেরেছে পুলিস। এমনকী হাতানো আইডির মালিকের ফিঙ্গার প্রিন্ট ল্যাটেক্সের মাধ্যমে নকল করে আইডিতে লগ ইন করত তারা। আধার কার্ড তৈরির জন্য যতবার সিস্টেমে লগ ইন করতে হয়, ততবার মালিকের ফিঙ্গার প্রিন্ট স্ক্যান করার প্রয়োজন পড়ে। সেই কারণে ধৃত যুবকরা ‘সিন্থেটিক ল্যাটেক্স’ ব্যবহার করে আসল আইডির মালিকের ফিঙ্গারপ্রিন্ট জাল করে নিজেদের কাছে রেখেছিল। সূতির বড় কাঁকড়ামারির বাসিন্দা ইসমাইল শেখ ও  আকবর আলি এবং  রমাকান্তপুরের বাসিন্দা মনোজকুমার মণ্ডল বহুদিন থেকে এই কারবার চালাত। শনিবার গভীর রাতে সূতি থানার পুলিস গোপন সূত্রে খবর পেয়ে নুরপুর এলাকায় একটি আধার কার্ড তৈরির দোকানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে ওই তিনজনকে পাকড়াও করে। ধৃতদের নিজেদের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিস। 
Advertisement
এক পুলিস আধিকারিক বলেন, ওই দোকান থেকে কত আধার কার্ড তৈরি হয়েছে, সে ব্যাপারে আমরা তদন্ত করছি। যার আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা হতো, তাকেও ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হতে পারে। ওই যুবকদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে প্রচুর আধার কার্ড, স্লিপ এবং কার্ড তৈরির মেশিনপত্র। এই সেন্টার থেকে যুবকরা অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের আধার কার্ড বানিয়ে দিয়েছিল কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখছি আমরা। 
কারণ, ওই নূরপুর এলাকার পাশেই পদ্মানদী। সেটা পার করলেই বিস্তীর্ণ চর। চরের ওপারে বাংলদেশে। ওই এলাকা দিয়ে এর আগেও বেশ কিছু বাংলাদেশির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। বিএসএফ জওয়ানরা টহল দিলেও কখনও নদী সাঁতরে, আবার খারাপ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে বাংলাদেশে থেকে অনুপ্রবেশের চেষ্টা হয়। যার ফলে খুব সহজে অনুপ্রবেশকারীরা এই রাজ্যে ঢুকে স্থায়ীভাবে থাকতে শুরু করে দেয়। তারপর ভুয়ো নথি তৈরি করে আধার কার্ড বানানোর চেষ্টা করে। এইসব সেন্টার থেকেই আধার কার্ড করা হয় বলেই সন্দেহ পুলিসের। তবে ওই আধার কেন্দ্রে হানা দিয়ে তিন যুবককে গ্রেপ্তারির পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। স্থানীয় বহু মানুষ ওই সেন্টারে গিয়ে আধার ঠিক করিয়েছেন। কেউ কেউ আবার আসল নথিপত্র দেখিয়ে নতুন আধার কার্ডও তৈরি করেছেন। সূতির এক বাসিন্দা বলেন, আমার দিদির আধার কার্ডের সমস্যা ছিল। ওই সেন্টারে গিয়ে বায়োমেট্রিক ছাপ দিয়ে কার্ড সংশোধন করেছি। এখন যা শুনতে পাচ্ছি, তাতে তো আতঙ্ক হচ্ছে। আমাদের বাড়ির পাশের কয়েকজন তো নতুন আধার ওখান থেকে করিয়েছেন। যে কার্ড এসেছে, সেই কার্ডগুলি আসল তো?
সম্পর্কিত সংবাদ