Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ড সীমানায় পাচার রুখতে সক্রিয় হল মুরারই থানার পুলিস

ঝাড়খণ্ড সীমানায় পাচার রুখতে সক্রিয় হল মুরারই থানার পুলিস
  • ৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: মুরারইতে বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানা দিয়ে কয়লা থেকে বালি, আগ্নেয়াস্ত্র, গোরু পাচার চলে। সম্প্রতি আলু পাচারের অভিযোগও উঠেছে। যার জেরে ২০দিন আগে মুরারই থানার ওসিকে ক্লোজ করা হয়। এবার তাই পাচার রোধে আন্তঃরাজ্য সীমানায় সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করছে মুরারই থানার পুলিস। বিশেষ অ্যাপের সাহায্যে থানা থেকে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি চালানো হবে। সেইসঙ্গে ঝাড়খণ্ড সীমানায় নাকা চেকিংও জোরদার করা হয়েছে।
Advertisement
একটা সময় বাংলা-ঝাড়খণ্ড সীমানা মাওবাদীদের মুক্তাঞ্চল ছিল। এখানে মাওবাদীরা একাধিক নাশকতার ঘটনা ঘটিয়েছিল। একাধিক বাম নেতাকে খুনের ঘটনা এখানে ঘটেছে। পরে এখানে নাকা চেকিংয়ের ব্যবস্থা করে পুলিস। কিন্তু তা সত্ত্বেও প্রায়ই পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। মুরারই থেকে ঝাড়খণ্ডের দিকে গাড়ি যাতায়াতের জন্য দু’টি রাস্তা রয়েছে। সেই রাস্তায় দুলান্দি ও পাথরঘাটা গ্রামের কাছে ঝাড়খণ্ড সীমানায় চেকিং পয়েন্ট আছে। তবু এই সীমানা দিয়ে কয়লা, গোরু ও বালি পাচার হয়ে আসছে। এমনকী, আগ্নেয়াস্ত্র, জাল লটারির টিকিট কারবারিদেরও অনেককে পুলিস এই সীমানা এলাকা থেকে পাকড়াও করেছে।
গতবছর লোকসভা ভোটের আগে কমিশনের নির্দেশে মুরারইয়ের ঝাড়খণ্ড সীমানার দু’টি রাস্তায় সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। কিন্তু তারপরও পাচারের অভিযোগ সামনে এসেছে। গতবছর নভেম্বরে খোদ রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম অভিযোগ তোলেন, ঝাড়খণ্ড থেকে অস্ত্র সহ দুষ্কৃতীরা এরাজ্যে ঢুকছে।
গত ডিসেম্বর মাসে মেদিনীপুর থানার পুলিস আটটি আলুবোঝাই লরি সহ বেশ কয়েকজনকে আটক করে। পুলিসের দাবি, ওই আলু মুরারই সীমানা হয়ে ঝাড়খণ্ডে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। সেই ঘটনায় ১৩ ডিসেম্বর মুরারই থানার ওসি মহম্মদ সাকিবকে সিউড়ি পুলিস লাইনে ক্লোজ করা হয়। জেলা ট্রাফিক ও রোড সেফটি অফিসার(হেডকোয়ার্টার) তন্ময় ঘোষকে মুরারই থানার ওসি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
মুরারইয়ের ঝাড়খণ্ড সীমানার দু’টি রাস্তা মিলিয়ে সাতটি সিসি ক্যামেরা রয়েছে। এতদিন থানা থেকে সেই সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চালানোর কোনও ব্যবস্থা ছিল না। ফলে সীমানায় থাকা পুলিসকর্মীরা যা রিপোর্ট দিতেন, তার উপরই থানার আধিকারিকদের নির্ভর করতে হতো। এবার বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে থানা থেকে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হল। ফলে থানার আধিকারিকরা যেমন পাচার রোধে নজর রাখতে পারবেন, তেমনি সীমানা এলাকায় পুলিস ও সিভিক ভলান্টিয়াররা ঠিকমতো কাজ করছেন কিনা-সেটাও দেখতে পারবেন।
সম্পর্কিত সংবাদ