Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ডে নির্বাচন, বীরভূম ঘেঁষা শিকারিপাড়া কেন্দ্রে বাঙালি ভোটের উপর নজর প্রার্থীদের

ঝাড়খণ্ডে নির্বাচন, বীরভূম ঘেঁষা শিকারিপাড়া কেন্দ্রে বাঙালি ভোটের উপর নজর প্রার্থীদের
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিশ্বর: বীরভূম ঘেঁষাঘেষি সীমানার ওপারের গ্রামগুলির মানুষজনের প্রধান জীবিকা চাষবাস। রাস্তাঘাটে মানুষজন একে অপরের সঙ্গে বাংলাতেই কথা বলছেন। ভোটের উত্তাপ সেভাবে ধরা না দিলেও রাস্তার মোড়ে মোড়ে প্রচারের ব্যানার, হোর্ডিং, পোস্টার বেশ ভালোমতোই চোখে পড়ছে। দ্বিতীয় দফাতে এই এলাকায় ভোট রয়েছে। লোকজন বলছেন, এখন কিছু নয়, জেতাহারা সব ভোটের আগের দিনই ঠিক হবে!
Advertisement
এই আসনকে ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চার(জেএমএম) গড় হিসাবে চেনা যায়। তবে মোদি মুখের ভরসাতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দিতে মাঠে রয়েছে বিজেপি। ৭ বারের জয়ী বিধায়ক নলিন সোরেনের ছেলে অলোক সোরেনকে এবার জেএমএম প্রার্থী করেছেন। কেননা, নলিন এবার তাঁর গুরুজি শিবু সোরেনের দুমকা এলাকা থেকে সাংসদ হয়ে দিল্লি গেছেন। তাঁর ছেড়ে যাওয়া গড় নিজের হাতেই ধরে রাখতে প্রার্থী করেছেন ছেলে অলোককে। আর বিজেপি গতবার নলিনের কাছে হেরে যাওয়া প্রার্থী পরিতোষ সোরেনকে ফের একবার সুযোগ দিয়েছেন। রানিশ্বর এলাকায় পরিতোষের ভূমিপুত্র হিসাবে সুনাম থাকলেও জনসংযোগ না থাকায় বিজেপি এবারও ব্যাকফুট থেকেই লড়াই শুরু করেছে। দেখা যাচ্ছে, রানিশ্বর ব্লক এলাকার দিকগুলি, আমজোড়া থেকে শিলপাহাড়ি, গিরিপুর এলাকাগুলির রাস্তার মোড়ে মোড়ে ব্যানার পড়েছে। রঘুনাথপুর বাজারে দাঁড়িয়ে কথা হচ্ছিল স্থানীয় বাসিন্দা তথা ওই এলাকার পরিচিত লেখক গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। তিনি বলছিলেন, শিকারিপাড়া, রানিশ্বর, কাঠিকুণ্ড এসব এলাকা নিয়ে এই নির্বাচনীক্ষেত্র। এখানে জনজাতি যেমন ফ্যাক্টর তেমনই প্রধান ফ্যাক্টর বাঙালিরা। শিকারিপাড়া বিধানসভা এলাকায় ৪০ শতাংশের বেশি বাংলাভাষীর বসবাস। তাঁরা এবার কোনদিকে ভোট দেবেন সেটাই দেখার। 
তবে এই এলাকাকে নিজের গড় করে রেখেছেন নলিন। তিনি ৭ বার বিধায়ক থেকে এবার সাংসদ হয়েছেন। তাঁর ছেলে প্রার্থীহলেও বিজেপিকে লড়তে হবে মূলত নলিনের বিরুদ্ধেই। তাঁর ভোট করানোর বিশেষ টেকনিক আছে। ভোটের আগের দু’দিনে সেটা বোঝা যাবে। তবে বাংলা ব্যানারে বিশাল করে প্রচার করতে দেখছি ইনসাফ পার্টির শিমন মুর্মুকেও। বাঙালিদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তিনিও। আরেক সাধারণ বাসিন্দা মানসিং মুর্মু বলেন, মাইয়া সম্মান যোজনা হেমন্ত সোরেনের দলকে এগিয়ে রাখছে অনেকটা। মহিলাদের মন জয় করে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সাঁওতাল পরগনা এলাকায় জনজাতিদের পাশে জেএমএম দাঁড়িয়েছে। তবে এতবছর ধরে এলাকায় ক্ষমতায় থেকে বিরাট কিছু উন্নয়ন না হওয়ার ক্ষোভের ভোট বিজেপির দিকেও যেতে পারে। 
অন্যদিকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাভাষীদের মন বুঝতে বাংলা থেকেও অনেক নেতা শিকারিপাড়া বিধানসভা এলাকায় ঘুরছেন। অলিগলিতে মিছিল, মিটিং করছেন। বিজেপির সেই প্রচারকে বলছে, বহিরাগতদের প্রচার। 
পাল্টা বিরোধিতা করছে হেমন্ত সোরেনের দল। তবে এলাকার মানুষজনের সূত্রে জানা গেল, ভোটের আগের দিন স্লগওভারে টাকা ওড়ানোর কৌশলই ঠিক করে দেয়, কে জিতবে আর কে হারবে! সেদিকেও অনেকটাই এগিয়ে জেএমএম। নলিনের দিকেই শিকারিপাড়ার জনমত যাবে বলে মনে করছেন এলাকার বেশিরভাগ মানুষ।
সম্পর্কিত সংবাদ