Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়খণ্ডে একশো টাকা, বাংলায় সেই কয়লা ৮০০, সীমানা পেরিয়ে বাড়ছে পাচার

ঝাড়খণ্ডে একশো টাকা, বাংলায় সেই কয়লা ৮০০, সীমানা পেরিয়ে বাড়ছে পাচার
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ঝাড়খণ্ডের পাকুর জেলার শহরগাঁ থেকে একশো টাকা কুইন্টাল চোরাই কয়লা কিনে বাইকে চাপিয়ে সীমানা পেরিয়ে বীরভূমের মুরারই, পাইকর হয়ে মুর্শিদাবাদে পাচার করা হচ্ছে। এরাজ্যে সেই কয়লা কুইন্টাল প্রতি আটশো টাকা দরে বিক্রি চলছে। শহরগাঁ থেকে মুরারইয়ের দুরত্ব প্রায় ২৫ কিমি। একটি বাইকে আনা হচ্ছে পাঁচ কুইন্টাল কয়লা। অর্থাৎ ২৫ কিমি বইতে পারলেই কড়কড়ে সাড়ে তিন হাজার টাকা আয়। আর তাতেই ঝাড়খণ্ড সীমানায় অনেকেই লাভজনক এই অবৈধ কারবারে পা বাড়াচ্ছে। পুলিস সক্রিয় রয়েছে। ধরাও পড়ছে অবৈধ কারবারিরা। সোমবার সকালে পাইকর থানার পুলিস কনকপুর গ্রামের কাছে কয়লা বোঝাই একটি বাইক আটক করে। যদিও পুলিসকে দেখে বাইক ফেলে চম্পট দেয় চালক। পুলিস জানিয়েছে, মুরারইয়ের দিকে থেকে কয়লা বোঝাই বাইকটি আসছিল। যদিও স্থানীয়রা বলছেন, এই ধরপাকড় সাধারণ মানুষের আইওয়াশ ছাড়া কিছুই নয়। প্রত্যেকদিন বাইকে কয়লা বোঝাই করে পাচার করা হচ্ছে। 
Advertisement
ঝাড়খণ্ডের আমরাপাড়া খনি থেকে কয়লা বোঝাই করে লরিগুলি পাকুর স্টেশনে আসে। সেখান থেকে মালগাড়িতে লোড হয়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে যায়। স্থানীয় সূত্রের দাবি, আমরাপাড়ার আগে শহরগাঁ এলাকার রাস্তার ধারে বেশকিছু ছোট ছোট আদিবাসী গ্রাম রয়েছে। তারা জোরপূর্বক লরি দাঁড় করিয়ে কয়লা নামিয়ে গ্রামের ভিতরে মজুত করে। পরে সেই চোরাই কয়লা ১০০ টাকা কুইন্টাল দরে তারা বিক্রি করছে। ঝাড়খণ্ড ছাড়াও মুরারই ও পাইকর এলাকার বেশ কিছু মানুষ বাইক ও সাইকেলে করে ২৫ কিমি পথ পেরিয়ে সেই কয়লা নিয়ে আসছে। গোপন ডেরায় মজুত করে পরে স্থানীয় ইটভাটা ও হোটেলগুলিতে ৮০০ টাকা কুইন্টাল দরে বিক্রি করছে। সূত্রের দাবি, একটি বাইকে পাঁচ ও সাইকেলে দুই কুইন্টাল পর্যন্ত কয়লা আনা যায়। অর্থাৎ কোনওভাবে ঝাড়খণ্ড সীমানা পেরিয়ে বাংলায় প্রবেশ করে নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে দিতে পারলেই নগদ চোদ্দোশো থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা  পর্যন্ত আয় হয়। অনেক সময় সেই মজুত কয়লা লরিতে চাপিয়ে মুর্শিদাবাদে পাচার করা হয়। 
সম্প্রতি বালি পাচার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষোভ প্রকাশের পর পুলিস প্রশাসন তৎপরতা বাড়িয়েছে। স্থানীয় একটি সূত্র বলছে, আগে লরিতে কয়লা বোঝাই হয়ে এরাজ্যে পাচার করা হতো। পুলিসি ধরপাকড়ের ভয়ে লরিতে পাচার কমে সাইকেল, বাইকে সেটা বেড়েছে। স্থানীয়রা বলেন, সাইকেল বা বাইকে অল্প কয়লা দেখে অনেক সময় পুলিস ধরে না। তারা ভাবে, বাড়িতে ব্যবহার করার জন্য নিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সেই অল্প অল্প করে এনেই কয়েক টন কয়লা মজুত করা হচ্ছে। পরে তা বৈধ, অবৈধ ইটভাটায় সরবরাহ করা হচ্ছে। 
উল্লেখ্য, কয়লা পাচারকে কেন্দ্র করে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তাই নিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে ইডি, সিবিআই। অনেককে গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তারপরও অবৈধ কয়লা পাচারে রাশ টানা যাচ্ছে না। নানা কায়দায় ঝাড়খণ্ড থেকে এরাজ্যে কয়লা পাচার চলছেই। প্রায় প্রতিদিনই ঝাড়খণ্ড সীমানা লাগোয়া থানা এলাকাগুলি থেকে অবৈধ কয়লা উদ্ধারের খবর পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, পুলিস মাঝেমধ্যেই ধরপাকড় চালাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মূল কারবারীরা অধরাই থেকে যাচ্ছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ