সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: সরকারি ভাবে বিক্রির ব্যবস্থা না থাকায় ঝাড়গ্রাম এলাকায় বছরের পর বছর মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে জঙ্গলের বহেড়া ফল, যা আয়ুর্বেদিক ওষুধ হিসেবে সুপরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, বন বিভাগ থেকে স্থানীয় বন কমিটিগুলির সঙ্গে আলোচনা করে এই ফল বিক্রির ব্যবস্থা করলে গ্রামীণ এলাকার লোকজন বহেড়া বিক্রি করে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজে পাবেন। ভেষজ ফল নষ্ট হবে না। ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়ী এলাকায় কয়েক বছর আগে গ্রামবাসীরা জঙ্গল থেকে এই ফল কুড়িয়ে শহরতলির মহাজনদের বিক্রি করতেন। এখন এলাকায় মহাজন না আসায় মাটিতে পড়ে নষ্ট হচ্ছে বহেড়া ফল। খড়্গপুরের ডিএফও মনীশ যাদব বলেন, বহেড়া ফল সংগ্রহের ক্ষেত্রে আমাদের ছাড় দেওয়া আছে। গ্রামবাসীরা সংগ্রহ করে বিক্রি করলে তাতে অসুবিধা নেই। আমাদের ডিভিশন এলাকায় কিছু কিছু লোকজন এই ফল সংগ্রহ করে বিক্রি করেন। এছাড়া হরিণ এই ফল খায়। বন কমিটিগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে এই ফল সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু সে অর্থে এলাকার মানুষ খুব একটা সচেতন নন। আমলকি, হরিতকীর মতো বহেড়াও জঙ্গলের ঔষধি ফল। ঝাড়গ্রামের বিভিন্ন জঙ্গলে এই ফলের বড় বড় গাছ রয়েছে। এই ফলের নামে সর্ডিহা গ্রাম পঞ্চায়েতে এলাকায় একটি গ্রামের নাম ‘বহড়াকোঠা’ হয়েছে। ঝাড়গ্রাম শহরের উপকণ্ঠে ধরমপুর জঙ্গলে বনবিভাগ থেকে একটি বহেড়া বাগান তৈরি করা হয়েছে। বসন্তকালে বহেড়া ফল পেকে মাটিতে পড়ে যায়। হজম শক্তি বাড়াতে, আমাশা, কৃমিনাশক, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে, চুল পাকা রোধে, হাঁপানি সহ বিভিন্ন রোগের উপশমে এই বহেড়া ফল ওষুধ হিসেবে ব্যবহার হয়। কাঁকড়াঝোর এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, কয়েক বছর আগে ৪ টাকা কেজি দরে কাঁচা বহেড়া ফল সংগ্রহ করে মহাজানরা নিয়ে যেত। এখন এলাকায় কোনও মহাজন এই ফল কিনতে আসে না। আমলাশোল এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, আসলে এলাকায় হাতির উপদ্রব বেড়ে যাওয়ায় এখন অনেকেই সামান্য পয়সার জন্য ঝুঁকি নিয়ে বহেড়া ফল সংগ্রহ করতে যান না। কুইন্টাল কুইন্টাল ফল মাটিতে পড়ে নষ্ট হয়। বিষয়টি নিয়ে জানতে ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামকে ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি। হোয়াটসঅ্যাপেও কোনও উত্তর দেননি।



