সংবাদদাতা, ঝাড়গ্ৰাম: সরকারি সহায়ক মূল্যে ধান বিক্রির ক্ষেত্রেও নতুন ‘কৌশল’ অবলম্বন করে চাষিদের মধ্যে ঢুকে পড়েছে ফড়েরা। ধান বিক্রির কার্ড রয়েছে, এমন চাষিদের শিখন্ডী খাড়া করে তারা বিভিন্ন সরকারি ধান ক্রয় কেন্দ্রে সরকারি সহায় মূল্যে ধান বিক্রি করছে। অবশ্য এই নিয়ে জেলা প্রশাসন ও জেলা খাদ্য নিয়ামক দপ্তর যথেষ্ট সতর্কতা অবলম্বন করেছে। গত ২৪ ডিসেম্বর ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুর ১ ব্লক অফিসের সামনে একটি সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রে চাষিদের কাছ থেকে কুইন্টাল প্রতি সাড়ে ৬ কেজি ধান বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে বিভাগীয় জেলা প্রশাসন। বেশ কয়েকজনের অভিযোগ, চাষিদের থেকে ধান কিনে ফড়েরা ক্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছে বিক্রি করতে। সঙ্গে তারা এমন একজন বা দু’জন চাষিকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে, যাঁরা এবার ধান চাষ করেননি। তাঁদের বায়োমেট্রিকের মাধ্যমে ধান বিক্রি করে ফড়েরা ব্যাপকভাবে লাভবান হচ্ছে। সার্বিক সমস্যা নিয়ে জেলা খাদ্য নিয়ামক আধিকারিক সুজয় দাস বলেন, কোয়ালিটি খারাপ, এমন ধান কেনার ক্ষেত্রে গত বছর কুইন্টাল প্রতি ৭-৮ কেজি বেশি ধান নেওয়া হতো। এ বছর তা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে চাষিদের খুশি থাকার কথা। চাষিরা ধান একেবারে পরিষ্কার করে শুকনো অবস্থায় নিয়ে এলে কোনও বাড়তি ধান নেওয়া হচ্ছে না। ধানের কোয়ালিটি একেবারে খারাপ থাকলে তিন থেকে চার কেজি বেশি ধান নেওয়া হয়। ধানের কোয়ালিটি খারাপ হলে সেগুলিকে আবার স্বসহায়ক দল নিযুক্ত করে পরিষ্কার করতে হয়। সেই খরচ চাষিদের দিতে হয়। কোনও কোনও চাষি রাজি থাকলেও অনেকে থাকেন না। এখন সরকারি ভাবে ধান বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু ফড়ে তাদের কৌশল বদলেছে। কিছু ব্যবসায়ী সেখানে ঢুকে পড়েছে। যে সমস্ত চাষির কার্ড আছে, তাঁদের বায়োমেট্রিক করে ধান ক্রয় করা হয়। কার্ড আছে, এমন কিছু চাষিকে ফড়েরা জোগাড় করে কেন্দ্রে এসে ধান বিক্রি করছে বলে খবর আসছে। ধান ক্রয় কেন্দ্রগুলিতে ‘থ্রি মেন’ কমিটি রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিডিও, এডিও এবং রাইস মিলের তিন প্রতিনিধি এই কমিটিতে আছেন। চাষিদের অভিযোগ জানানোর জন্য কেন্দ্রগুলিতে আমাদের ফোন নম্বর দেওয়া আছে। ফলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।গত ২৪ ডিসেম্বর গোপীবল্লভপুর ১ ব্লক অফিসের সামনে একটি সরকারি ধান ক্রয়কেন্দ্রে কয়েকজন চাষি অভিযোগ করেন, তাঁদের কাছে কুইন্টাল পিছু সাড়ে ৬ কেজি ধান বেশি নেওয়া হচ্ছে। ধানে জলীয় অংশ ১৭ শতাংশের একটু বেশি হয়ে গেলেই, বেশি নেওয়া হচ্ছে ৭ থেকে ৮ কেজি ধান।
Advertisement
এলাকার চাষি মার্কণ্ডেশ্বর পাল বলেন, আমি ও আমার স্ত্রীর কার্ডে ৬০ কুইন্টাল ধান বিক্রি করেছি। আমাদের কুইন্টাল পিছু সাড়ে ৬ কেজি করে বেশি ধান নেওয়া হয়েছে। আমি মুখ্যমন্ত্রীর কথা বলেছি, তিনি তো চাষিদের কাছ থেকে বাড়তি ধান নিতে বারণ করেছেন। এই নিয়ে গোপীবল্লভপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ রঞ্জিত মহাকুল বলেন, চাষিদের পক্ষ থেকে এই নিয়ে আমাদের কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



