Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে পণের বলি বধূ, ধৃত স্বামী, পলাতক শ্বশুর ও শাশুড়ি

ঝাড়গ্রামে পণের বলি বধূ, ধৃত স্বামী, পলাতক শ্বশুর ও শাশুড়ি
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্ৰামে পণের জন্য গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ উঠল শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে। মৃতার নাম দীপা চালক(১৯)। শ্বশুরবাড়ি ঝাড়গ্রাম থানার বৈতা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের শালচাতুরী গ্ৰামে। রবিবার সন্ধ্যায় ঘর থেকে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। লালগড় থানায় স্বামীসহ শ্বশুর ক্ষুদিরাম ও শাশুড়ি লক্ষ্মী চালকের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ করা হয়েছে। তারপরেই পুলিস স্বামী সনাতন চালককে গ্ৰেপ্তার করেছে। জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের বাসিন্দা দীপা চালকের চার বছর আগে বিয়ে হয়েছিল। স্বামী সনাতন চালক পেশায় গাড়ির ড্রাইভার। দম্পতির দেড় বছরের একটি পুত্র সন্তান রয়েছে। গৃহবধূর বাপের বাড়ির সদস্যদের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকে মেয়েকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য মাঝেমধ্যেই চাপ দেওয়া হতো। মাসখানেক ধরে অত্যাচার চরম আকার নিয়েছিল। সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেও কোনও কাজ হয়নি। মৃতার বাবা হীরুপ্রসাদ দুবে বলেন, বিয়ের সময়েই পণের টাকা দিতে পারব না বলে জানিয়েছিলাম। সেকথা মেনেই ওরা ছেলের বিয়ে দিয়েছিল। জামাই পরে পণের টাকার জন্য চাপ দিত। মেয়ে ফোনে কান্নাকাটি করত। অত্যাচার কিছুদিন ধরে বেড়ে গিয়েছিল। গত রবিবার রাতে মেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছে বলে আমাদের জানানো হয়। মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখি ঘরের ভিতর দেহ ঝুলছে। পা মেঝেয় ঠেকানো ছিল। ওভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে না। সন্দেহ করছি মেয়েকে মেরে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। লালগড় থানায় খুনের অভিযোগ করেছি। দোষীদের কঠোর শাস্তি চাইছি। 
Advertisement
আত্মীয় রাজবল্লভ চালক বলেন, আমাদের তরফ থেকে সমস্যা সমাধানের বহু চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু কোনও সুরাহা হয়নি। বৈতা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান তারক চালক বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঘটনার দিন অশান্তি হয়েছিল। তবে পণ সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানি না। লালগড় থানার পক্ষে থেকে এদিন জানানো হয়, তিনজনের নামে খুনের অভিযোগ হয়েছে। শ্বশুর, শাশুড়ির খোঁজে তল্লাশি চলছে।
সম্পর্কিত সংবাদ