নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের অন্যতম লোক উৎসব পঁঢ়ুয়াপরব। রাঢ়বঙ্গ ও সুবর্ণরেখা নদী অববাহিকা এলাকার মানুষ ধুমধাম করে এই পরব পালন করে। রাস উৎসবের পরেই কৃষ্ণা অষ্টমী তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয়। ‘পঁঢ়ুয়া’ বা ‘পঁঢ়ুহা’র অর্থ প্রথম। পরিবারের প্রথমসন্তানের জন্মের পাঁচবছর পূরণ হলে এই পরব পালন করা হয়। শনিবার ওই উৎসব ধুমধাম করে পালন করা হচ্ছে। পঁঢ়ুয়া পরব মূলত ওড়িশার লোক সংস্কৃতির এক লৌকিক উৎসব। ঝাড়গ্রামে জেলা সহ রাঢ়বঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় এই উৎসব পালিত হয়। নয়াগ্ৰাম ব্লকের মলম এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় দণ্ডপাট বলেন, এলাকার মানুষ প্রতিবারের মতো এবারও ধুমধাম করে পরব পালন করছে। পঁঢ়ুয়া অষ্টমীতে গরম ভাত, পান্তা ভাত ও মুড়ি খাওয়া যায় না। অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর চিঁড়ে, দুধ ও ফলমূল খেতে হয়। মামারবাড়িতে গিয়েও ছেলে-মেয়েরা পঁঢুয়া অষ্টমী পালন করে। দিনটি উপলক্ষ্যে নানা রকম পিঠে তৈরি করা হয়। আমিষ নিরামিষ পদও রান্না করা হয়। এই লোক উৎসবের সঙ্গে আমাদের অতীত ঐতিহ্য জড়িয়ে আছে। ঝাড়গ্রামের আঞ্চলিক গবেষক লখিন্দর পালোই বলেন, পূর্বের সমাজ ব্যবস্থায় পরিবারের প্রথম সন্তানের একটা বড় ভূমিকা ছিল। বিশেষ করে রাজ পরিবার ও জমিদার বাড়িতে। বাড়ির বড় সন্তানকে বরণ করে নেওয়ার রীতি থেকেই এই লোক উৎসবের সূচনা হয়েছিল। প্রথম সন্তান কন্যা হলেও পরব পালন করা হতো। আজও এলাকার বহু মানুষ এই উৎসব পালন করেন।



