নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্ৰাম জেলাজুড়ে উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে বাদনা পরব পালিত হচ্ছে। কৃষিভিত্তিক এই পরবে গোরুর পুজো করা হয়। পরবের রীতি মেনে কাঁচি দুয়ারি, জাগরণ, গঠ পুজো, গোরু খুটান পালন করা হয়। কালীপুজোয় অমাবস্যার রাত থেকে পুজোর রীতি রেওয়াজ পালন করা চলছে। সর্বস্তরের মানুষ উৎসবের আনন্দে শামিল হয়েছেন।
Advertisement
জঙ্গলমহল এলাকার ভূমি পাথুরে। সেই পাথুরে ভূমি কর্ষণ করেই ফসল ফলেছে। চাষবাসে গোরু ও মহিষ প্রধান সহায়ক ছিল। অরণ্যভূমির মানুষ প্রাচীনকাল থেকেই গোরু ও মোষকে পুজো করে এসেছে। তাই ঐতিহ্য মেনে আজও পালিত হয়ে চলেছে বাদনা পরব। পরবে ঝাড়গ্ৰামের মহিলারা ঢেঁকিতে চাল কোটেন। সেই চালের গুঁড়ো দিয়ে পিঠে তৈরি করা হয়। পিঠেই বাদনা পরবের প্রধান আকর্ষণ। প্রথা মেনে কাঁচি দুয়ারি, জাগরণ, গঠ পুজো, গোরু খুটান পালন করা হয়।
অমাবস্যার দিন গ্ৰামের লায়া বা দেহরি দিনভর উপোস করে গঠ পূজা করেন। পূজাস্থলে দেশি মুরগির ডিম অথবা চাল গুঁড়োর মণ্ড রেখে দেওয়া হয়। এরপর ‘গঠ ডেঙ্ঘা’ নামক অনুষ্ঠান করা হয়। জাগরণ পালনের পরের দিন পানিয়া লতা মাড়াই করে নিষ্কাশিত করা হয়। তাতে আতপ চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নতুন মাটির তকতকে উঠোনে আঁকা হয় চউক। নতুন মাটির চুলোর আঁচে ঘিয়ের ছাঁকা-পিঠে তৈরি করা হয়। দুধ, গুড়, আতপচাল, পিঠে উপচারে- গোয়ালঘরে গরাম, ধরম, বসুমাতা, গঁসাইরাই, নাজি লিলঅউরি, গাই গরইয়া, মৈষ গরইয়া, ডিনি ঠাকুরাইন ও বড়োপাহাড় পূজিত হন। গরাম ঠাকুরের উদ্দেশ্যে লাল মোরগ ও ধরম ঠাকুরের উদ্দেশ্যে সাদা মোরগ উৎসর্গের মাধ্যমে গরইয়া পর্ব শেষ হয়। গরাইয়ার পরে গরু খুটান পালন করা হয়। প্রথা অনুযায়ী গোরুর দেহ লাল, নীল রঙে সাজিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ বাড়ির মহিলারা নিমছান প্রথা পালন করেন।
ঝাড়গ্ৰামের শিমুলডাঙা এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ লক্ষ্মীরানি মাহাত বলেন, প্রতিবারের মতো এবার বাড়িতে বাদনা পরব পালন করা হচ্ছে। প্রথা ও রীতি মেনে পুজো হয়। ঠাকুরের কাছে একটাই প্রার্থনা থাকে জমিতে ফসল যেন ভালো হয়। সেইসঙ্গে গুরুগুলো যেন সুস্থ থাকে। কুণ্ডলডিহি এলাকার বাসিন্দা সুখেন্দুবিকাশ মাহাত বলেন, গবাদি পশুকে পুজো করার প্রাচীন প্রথা এই পরবে মাধ্যমে চলে আসছে। এই এলাকায় সেই প্রথার আজও কোন বদল হয়নি।
অমাবস্যার দিন গ্ৰামের লায়া বা দেহরি দিনভর উপোস করে গঠ পূজা করেন। পূজাস্থলে দেশি মুরগির ডিম অথবা চাল গুঁড়োর মণ্ড রেখে দেওয়া হয়। এরপর ‘গঠ ডেঙ্ঘা’ নামক অনুষ্ঠান করা হয়। জাগরণ পালনের পরের দিন পানিয়া লতা মাড়াই করে নিষ্কাশিত করা হয়। তাতে আতপ চালের গুঁড়ো মিশিয়ে নতুন মাটির তকতকে উঠোনে আঁকা হয় চউক। নতুন মাটির চুলোর আঁচে ঘিয়ের ছাঁকা-পিঠে তৈরি করা হয়। দুধ, গুড়, আতপচাল, পিঠে উপচারে- গোয়ালঘরে গরাম, ধরম, বসুমাতা, গঁসাইরাই, নাজি লিলঅউরি, গাই গরইয়া, মৈষ গরইয়া, ডিনি ঠাকুরাইন ও বড়োপাহাড় পূজিত হন। গরাম ঠাকুরের উদ্দেশ্যে লাল মোরগ ও ধরম ঠাকুরের উদ্দেশ্যে সাদা মোরগ উৎসর্গের মাধ্যমে গরইয়া পর্ব শেষ হয়। গরাইয়ার পরে গরু খুটান পালন করা হয়। প্রথা অনুযায়ী গোরুর দেহ লাল, নীল রঙে সাজিয়ে দেওয়া হয়। সর্বশেষ বাড়ির মহিলারা নিমছান প্রথা পালন করেন।
ঝাড়গ্ৰামের শিমুলডাঙা এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ লক্ষ্মীরানি মাহাত বলেন, প্রতিবারের মতো এবার বাড়িতে বাদনা পরব পালন করা হচ্ছে। প্রথা ও রীতি মেনে পুজো হয়। ঠাকুরের কাছে একটাই প্রার্থনা থাকে জমিতে ফসল যেন ভালো হয়। সেইসঙ্গে গুরুগুলো যেন সুস্থ থাকে। কুণ্ডলডিহি এলাকার বাসিন্দা সুখেন্দুবিকাশ মাহাত বলেন, গবাদি পশুকে পুজো করার প্রাচীন প্রথা এই পরবে মাধ্যমে চলে আসছে। এই এলাকায় সেই প্রথার আজও কোন বদল হয়নি।



