Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম জেলায় পঞ্চদশ ও পঞ্চম অর্থ কমিশনের অধিকাংশ টাকাই খরচ হয়নি

ঝাড়গ্রাম জেলায় পঞ্চদশ ও পঞ্চম অর্থ কমিশনের অধিকাংশ টাকাই খরচ হয়নি
  • ৩ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের ৭৯টি  গ্ৰাম পঞ্চায়েতের মধ্যে ৫৫টি পঞ্চয়েতই কেন্দ্রের পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ও রাজ্যের পঞ্চম অর্থ কমিশনের বরাদ্দ টাকা খরচ করতে পারেনি। যেটুকু কাজ হয়েছে, তাতেও খামতি ও অসঙ্গতি ধরা পড়ছে। এজন্য রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্ৰামোন্নয়ন মন্ত্রী জবাবদিহি চাইতে পারেন। ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, পঞ্চায়েতগুলো দেরিতে কাজ শুরু করায় কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। 
Advertisement
আদিবাসী অধ্যুষিত ঝাড়গ্রাম পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত ছিল। তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর উন্নয়নমূলক কাজের ওপর জোর দেওয়া হয়। গ্ৰামীণ এলাকার রাস্তা, বিদ্যুৎ, পানীয় জল সরবরাহ, আইসিডিএস, গ্ৰামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিকাঠামোর ওপর সর্বাধিক জোর দেওয়া হয়। কেন্দ্রীয় পঞ্চদশ ও রাজ্যের পঞ্চম অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থে কাজ চললেও অধিকাংশ পঞ্চায়েত বরাদ্দ অর্থের কাজ শেষ করতে পারেনি। নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ করতে না পারলে পরবর্তী অর্থবর্ষে কাজের উপর তার প্রভাব পড়বে। অভিযোগ উঠছে, পঞ্চায়েতগুলো সাধারণ টেন্ডার বা ই-টেন্ডারের ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপন দেওয়ার নিয়ম ঠিকভাবে মানছে না। বেশিরভাগ ঠিকাদার নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করছেন না। বরাদ্দ অর্থে তৈরি রাস্তা, ড্রেন ও ভবনের মান নিয়েও অভিযোগ উঠছে। নির্মাণ সামগ্রীর গুণগত মান পরীক্ষায় ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। কাজের আগে এবং কাজ চলার সময়ে বালি, পাথর, সিমেন্ট, ইট, লোহা, পিচ প্রভৃতির মান ঠিকমতো যাচাই করা হচ্ছে না। এক লক্ষ টাকার কমে কাজের জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে স্থানীয় ভাবে দরপত্র বা টেন্ডার তৈরি করতে হয়। তার বেশি হলে ই-টেন্ডার বাধ্যতামূলক। এক্ষেত্রে একটি বড় কাজকে ছোট ছোট ভাগে করার প্রবণতা বাড়ছে। তাতেই টেন্ডার সংক্রান্ত জটিলতা বেড়ে যাচ্ছে। আজ, সোমবার রাজ্যের গ্ৰাম ও পঞ্চায়েত মন্ত্রী প্রদীপকুমার মজুমদার ও সচিব পি উলাগানাথানের জেলা সফরে আসার কথা। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা জবাবদিহি চাইতে পারেন। চব্বিশ-পঁচিশ অর্থবর্ষের শেষে জামবনী ব্লকের দুবড়া, গিধনি, কেন্দাডাংরী গ্ৰাম পঞ্চায়েত কেন্দ্রীয় পঞ্চদশ ও রাজ্য পঞ্চম অর্থ কমিশনের বরাদ্দের বেশিরভাগ টাকাই খরচ করে উঠতে পারেনি। চিল্কিগড় গ্ৰাম পঞ্চায়েতে পুরো খরচ হয়নি কেন্দ্রের বরাদ্দকৃত অর্থ। ঝাড়গ্রাম ব্লকের আগুইবনি, চুবকা, সাপধরা দুধকুন্ডি, পাটশিমূল, শালবনি গ্ৰাম পঞ্চায়েতে রাজ্য পঞ্চম অর্থ কমিশনের বরাদ্দ অর্থের কাজ হয়নি। বাঁধগড়া, রাধানগর, মানিকপাড়া গ্ৰাম পঞ্চায়েত এলাকায় কেন্দ্র ও রাজ্যের বরাদ্দের টাকা খরচ হয়নি। বিনপুর-২ ব্লকের ভুলাভেদা, এরগোদা, হারদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতগুলি রাজ্যের টাকা খরচ করতে পারেনি। নয়াগ্ৰাম ব্লকের বালিগেরিয়া, বেরাজল, খড়িকামাটি, সাঁকরাইল ব্লকের ধানঘোড়ি, কুলটিকরি, পাথরা, রোহিনী, সাঁকরাইল গ্ৰাম পঞ্চায়েগুলো রাজ্য অর্থ কমিশনের টাকা খরচ করতে পারেনি। তথ্য অনুসারে ব্লকগুলোর মধ্যে তুলনামূলক গোপীবল্লভপুর-১ ব্লকে বরাদ্দের বেশিরভাগ অর্থ খরচ হয়েছে। বিনপুর-২ ব্লকের শিলদা গ্ৰাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান দীপক মাহাত টেন্ডার সংক্রান্ত জটিলতায় কাজের অগ্ৰগতি বারবার থমকে যাচ্ছে। সমস্যা সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ