Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম জেলায় ফের হাতির হানায় মৃত্যু, বনবিভাগের ভূমিকায় প্রশ্ন

ঝাড়গ্রাম জেলায় ফের হাতির হানায় মৃত্যু, বনবিভাগের ভূমিকায় প্রশ্ন
  • ২২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামে হাতির হানায় মৃত্যু অব্যাহত। বৃহস্পতিবার সকালেই নয়াগ্ৰামে হাতির হানায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম বাদল মুর্মু (৩৮)। বাড়ি নয়াগ্রাম থানার অন্তর্গত বালিগেড়িয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের খুদগড় গ্রামে। হাতিটি যুবককে তাড়া করে পা দিয়ে পিষে মারে। হাতির তাণ্ডব ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। বনবিভাগের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। 
Advertisement
বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে ওড়িশার দিক থেকে ৫৫টি হাতির একটি দল কেশবরেখা রেঞ্জের বালিগেড়িয়া বিটে ঢোকে। নয়াগ্ৰাম রেঞ্জে ৭টি ও কেশবরেখা রেঞ্জে ৩টি হাতি কয়েকদিন ধরেই তাণ্ডব চালাচ্ছিল। হাতির তাণ্ডবে গ্ৰামের বাসিন্দারা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। অনেকেই ভয়ে বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন না। পাকা ধান বাঁচাতে গ্ৰামগুলোতে দলবেঁধে পাহারাও চলছিল। ওড়িশা থেকে বড় হাতির পাল আসার খবরে নতুন করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায়। জঙ্গল লাগোয়া খুদগড় গ্ৰামের কয়েকজন যুবক সকালে হাতির পালটিকে দেখতে গিয়েছিলেন। সেই সময়ে একটি হাতি হঠাৎ যুবকদের দিকে ছুটে আসে। বাদল মুর্মু পালাতে গিয়ে পড়ে যান। তখনই হাতিটি তাঁর দিকে ছুটে এসে পা দিয়ে পিষে দেয়। বাদলকে দ্রুত নয়াগ্ৰাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু সেখানে চিকিৎসকরা বাদলকে মৃত ঘোষণা করেন। 
গ্ৰামবাসীদের অভিযোগ, এলাকায় হাতির পাল ঢোকার খবর তাঁদের জানানো হয়নি। বনবিভাগ আগাম সতর্ক করলে এইভাবে মৃত্যু হতো না। ঝাড়গ্রামে হাতির তাণ্ডবে বিঘার পর বিঘা জমির ফসল নষ্ট হচ্ছে। সেই সঙ্গে একের পর মানুষের প্রাণ যাচ্ছে। জেলার বাসিন্দারা হাতির হানার স্থায়ী সমাধান চাইছেন। চলতি বছরে ঝাড়গ্রাম শহরে জ্বলন্ত শলাকা বিদ্ধ হয়ে একটি স্ত্রী হাতির মৃত্যু হয়। জেলার প্রশাসন ও বন বিভাগকে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। সেই ঘটনার পর থেকে বন বিভাগ অতি সতর্কতার সঙ্গে পদক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ উঠছে। 
খুদগড় গ্ৰামের এক বাসিন্দা বলেন, সপ্তাহখানেক ধরে এই এলাকায় কয়েকটি হাতি তাণ্ডব চালাচ্ছে। জমির পাকা ধান মাড়িয়ে নষ্ট করছে। বনবিভাগের কর্মীদের আর দেখা মিলছে না। গ্ৰামবাসীরা ফসল বাঁচাতে নিজেরাই দিনেরাতে পাহারা দিচ্ছেন। মৃতের ভাই যদুনাথ মুর্মু বলেন, হাতির তাণ্ডব নিয়ে এলাকায় এমনিতেই আতঙ্ক রয়েছে। প্রয়োজন ছাড়া গ্ৰামবাসীরা ঘর থেকে বের হচ্ছিলেন না। যে বিপদের আশঙ্কা ছিল সেটাই ঘটে গেল। মৃতের বন্ধু কানাই মান্ডি বলেন, খুদগড় জঙ্গলে ভোরবেলায় হাতির দলটি ঢুকেছিল। জঙ্গল থেকে কিছুটা দূরে আমরা ছিলাম। একটি হাতি জঙ্গল থেকে বের হয়ে হঠাৎ আমাদের দিকে চলে আসে। বাদল তাড়া খেয়ে মাটিতে পড়ে যাওয়ায় হাতিটি ওকে পা দিয়ে পিষে দেয়। খড়গপুর বন বিভাগের ডিএফও মনীষ যাদব বলেন, দুঃখজনক ঘটনা। কেশবরেখা রেঞ্জে দলবদ্ধ হাতির হানায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ