Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে হায়নার হানা রামরামার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে, আতঙ্ক   

ঝাড়গ্রামে হায়নার হানা রামরামার জঙ্গল লাগোয়া গ্রামে, আতঙ্ক 
 
  • ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ঝাড়গ্রাম: হাতি, বাঘের পর এবার হায়নার আতঙ্ক। স্থানীয় জঙ্গলবাসী এই হায়নাকে ‘হুঁড়ার’ নামে চেনে। হুঁড়ারের আতঙ্কে জেরবার ঝাড়গ্রামের বাঁধগোড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাঁশতলা সহ আশপাশের গ্রামের বাসিন্দারা। গত ২৭ ডিসেম্বর দক্ষিণ বাঁশতলা গ্রামের ধীরেন সিংয়ের একটি গর্ভবতী ছাগলকে আক্রমণ করে একটি হায়না। গ্রামবাসীরা তেড়ে গেলে হায়নাটি পালিয়ে যায়। ছাগলটি গুরুতর জখম হয়। এই ঘটনার কয়েকদিন আগে, লালগেড়িয়া গ্রামে স্বপন মাহাতর বাড়ির উঠোনে সন্ধেবেলা একটি হায়না দাঁড়িয়ে ছিল। প্রতিবেশীদের চিৎকারে হায়নাটি পালিয়ে যায়। এই গ্রামেরই বিদ্যুৎ মাহাতর কয়েকটি মুরগি ও বিকাশ মাহাতর ১১টি হাঁস জঙ্গলের অজানা জন্তু ধরে নিয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছেন গ্রামবাসীরা। জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রামের  মানিকপাড়া রেঞ্জের রামরামা বিটের জঙ্গল সংলগ্ন এলাকায় হায়নাদের তাণ্ডব শুরু হয়েছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, শুধু হাতি বা বাঘ জঙ্গলে ঢুকলে বনবিভাগ ও প্রশাসনের টনক নড়ে। কিন্তু হায়না বা বুনো শুয়োর ও অন্যান্য বন্য জন্তুদের আক্রমণের বিষয়টি গুরুত্ব পায় না। রামরামা জঙ্গল সংলগ্ন বাঁশতলা, গুইমারা, লালগেড়িয়া (উত্তর), দামোদরপুর, জামবেদিয়া, কেশিয়াভোলা, আখড়াশোল এই সমস্ত গ্রামের বাসিন্দাদের বন্য জন্তুদের হামলায় ঘুম ছুটেছে। এই সমস্ত গ্রামের বাসিন্দারা সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই আতঙ্কে সবাই বাড়ির ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে ঘরের মধ্যে শুয়ে পড়ছেন। 
Advertisement
কেন না গত ২৭ ডিসেম্বর বাঁশতলা গ্রামের সামনেই জঙ্গল থেকে একটি হায়না প্রবেশ করে। গ্রামে ঢুকে  ধীরেন সিংয়ের একটি ছাগলকে টেনে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। গ্রামে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হলে গ্রামবাসীরা এক জোটে‌ হায়নার কবল থেকে ছাগলটিকে রক্ষা করে। এই ঘটনার পর থেকে বন্য জন্তুদের নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে এলাকায়।
বাঁশতলা গ্রামের এক বাসিন্দা বলেন, আমরা রামরামা জঙ্গলের পাশে বহু বছর আগে থেকে বসবাস করছি, কিন্তু এরকম ভাবে বন্য জন্তুদের আক্রমণ দেখিনি। জঙ্গলে হাতি বা বাঘ এলেই বনবিভাগ ও প্রশাসন নড়েচড়ে বসে। কিন্তু হায়না, কটাশ, বুনো শুয়োর যেভাবে এলাকায় তাণ্ডব চালায় তা কারও নজরে আসে না। এলাকার বাসিন্দারা নিজেদের মতো করেই মোকাবিলা করেন। লালগেড়িয়া গ্রামের বিদ্যাধর মাহাত বলেন, আমরা জমিনে চাষের কাজে সবাই গিয়েছিলাম। দিনে দুপুরে জঙ্গলের অজানা জন্তু আমার একটি বড় মোরগ ধরে নিয়ে যায়। আমরা আতঙ্কে আছি। ঝাড়গ্রামের ডিএফও উমর ইমামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন তোলেননি। হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ করে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারও উত্তর দেননি। 
সম্পর্কিত সংবাদ