সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: ঝাড়গ্রামের চন্দ্রি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার পুতরুঙ্গী খালের সেচ ক্যানালের জল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সমস্যায় পড়েছেন এলাকার ৮টি গ্রামের প্রায় ২৫০ জন ধান চাষি। ক্যানালে জল না ছাড়লে বোরো ধান শুকিয়ে মরে যেতে পারে এই আশঙ্কায় তারা জেলা প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়ে জল ছাড়ার আবেদন জানিয়েছেন। এই নিয়ে গত ৩ মার্চ ঝাড়গ্রাম বন্যা ব্যবস্থাপক ও পরিকল্পনা ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার ও ঝাড়গ্রাম জেলাশাসকের কাছে এলাকার চাষিরা লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। তবে সেচ ক্যানালের জল কেন বন্ধ করে খালের মধ্যে জল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা নিয়ে মুখে কুলুক এঁটেছেন প্রশাসনের বিভাগীয় আধিকারিকরা। এই নিয়ে ঝাড়গ্রাম বন্যা ব্যবস্থাপক ও পরিকল্পনা ডিভিশনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার দপ্তরের বিভাগীয় আধিকারিক দেবরঞ্জন চক্রবর্তীকে ফোন করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। এ ব্যাপারে ঝাড়গ্রাম জেলাশাসক সুনীল আগরওয়ালকে একাধিকবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। মেসেজ পাঠানো হলেও জবাব দেননি।
Advertisement
জানা গিয়েছে, ঝাড়গ্রাম ব্লকের চন্দ্রি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার পুতরুঙ্গী খালের সেচ ক্যানালের জলে আস্তি, প্রতাপপুর, নাঘাটা, মাধবপুর, আউসপাল, তেঁতুলডাঙ্গা চন্দ্রি, মরইখুঁটি এই আটটি গ্রামের প্রায় ২৫০ জন চাষির ২০০ একর জায়গায় বরো ধান চাষ করেন। চাষিদের অভিযোগ, বন্যা ব্যবস্থাপক এবং পরিকল্পনা এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের অফিসের লোকজনই এই খালের ক্যানালটি দেখাশোনা করেন। কোনও অজ্ঞাত কারণে ক্যানালের জল বন্ধ করে দিয়ে জল খালের মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এই নিয়ে এলাকার বরো ধান চাষি কমল মাহাত বলেন, ওই বিভাগীয় দপ্তর থেকে একজন লোক এই ক্যানেলটি দেখাশোনা করেন। তিনি ছ›মাসে একবার এখানে আসেন। চাষিদের জমিতে জল যাচ্ছে কি যাচ্ছে না তা নিয়ে কেউ মাথা ঘামান না। কোনও নোটিস না দিয়েই ক্যানানের জল বন্ধ করে দিয়ে সেই জল খালের দিকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আমরা এলাকার চাষিরা যাতে ক্যানালে জল ছাড়া হয়, আমাদের সবার ধান বাঁচে তা নিয়ে জেলা প্রশাসনকে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। আসলে কোনও ঠিকাদারি সংস্থা খাল বা ক্যানালে কোনও কাজ শুরু করলেই বিনা নোটিসে জল বন্ধ করে দেওয়া হয়। চাষিদের বিষয়টি কেউ মাথায় রাখে না। ক্যানালে জল না ছাড়লে বিঘার পর বিঘা জমির বরো ধান শুকিয়ে গাছ মরে যাবে।



