Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে বহু বিজেপি ও সিপিএম নেতাকর্মীর নামে আবাসের টাকা

ঝাড়গ্রামে বহু বিজেপি ও সিপিএম নেতাকর্মীর নামে আবাসের টাকা
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: রং দেখা হয়নি, দেখা হয়েছে যোগ্যতা। নবান্ন থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল যোগ্য ব্যক্তিরা বাড়ি পাবেন। অযোগ্যদের নাম বাদ গিয়েছে। ঝাড়গ্রামের বিনপুর-২ ব্লকের বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েতের বিজেপি নেত্রী রীতা কালিন্দী আবাস প্রকল্পে বাড়ি পেয়ে খুশি। প্রাপকের তালিকায় এলাকার সিপিএমের নেতা কর্মীদেরও নাম রয়েছে।আবাস যোজনার তালিকা নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। বিরোধীরা শাসক দলের স্বজনপোষণ নিয়ে বিস্তর অভিযোগ তুলেছেন। ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্র আবাস প্রকল্পের টাকা বন্ধ করে দেওয়ায় আর্থিকভাবে দুর্বল মানুষরা সমস্যায় পড়েছিলেন। এবছর দুর্গাপুজোর সময় টানা বৃষ্টিতে জেলায় সাতশোর ওপর মাটির বাড়ি ক্ষতিগ্ৰস্ত হয়। বাসিন্দারা দুর্ভোগ পুইয়েছেন। রাজ্য বাংলার বাড়ি প্রকল্প চালুর পর প্রথম পর্যায়ের যাচাইয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের অনেকেরই নাম ছিল না। দিদিকে বলোতে ফোন করে অনেকের নাম ঢোকে। বিনপুর-২ ব্লকের বাঁশপাহাড়ী গ্ৰাম পঞ্চায়েত প্রত্যন্ত এলাকা। বাসিন্দাদের অধিকাংশ চাষবাস, দিনমজুরি ও পশুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এলাকার ৬০০ জন আবাস প্রকল্পে বাড়ি পেয়েছেন। তারমধ্যে ৩৩৯ জনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যেই টাকা ঢুকে গিয়েছে। তালিকায় বিজেপি ও সিপিএমের নেতাকর্মীদেরও নাম রয়েছে। রীতা কালিন্দী গত ভোটে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ভোটে লড়েছিলেন। ভোটে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন। রীতা দেবী বলেন, রাজনৈতিক রং না দেখে যোগ্য ব্যক্তিদের ঘর দেওয়া হয়েছে। আমিও ঘর পেয়েছি। সরকারের এই পদক্ষেপকে ধন্যবাদ। সিপিএম নেত্রী ভাগ্যবতী রুইদাস বলেন, আমার শ্বশুরের নামে বাড়ি এসেছে। এই দৃষ্টান্ত নিঃসন্দেহে প্রশংসাযোগ্য। বাঁশপাহাড়ী অঞ্চল তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি ফটিকচন্দ্র মাহাত বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে এই এলাকা অনুন্নত ছিল। দু’ বেলা খাবার জোগাড় করা স্থানীয় মানুষদের কষ্টসাধ্য ছিল। বাড়ি পাওয়া তো ভাবনার বাইরে ছিল। আবাসের টাকা ঢুকতে শুরু করার পর গ্ৰামের মানুষ আনন্দে ভাসছেন। স্থানীয় তৃণমূল নেতা দীপক দাস বলেন, বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুলেছেন শাসক দলের নেতাকর্মীরা তাদের পরিচিত লোকদের নাম তালিকায় তুলে দিয়েছে। আবাস প্রকল্পে রাজনৈতিক রং নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু এলাকায় যাঁরা বাড়ি পেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই বিজেপি ও সিপিএম করেন। তাঁরা সরকারকে ধন্যবাদ দিচ্ছেন। তৃণমূলের জেলা সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, বিজেপি রাজনৈতিক স্বার্থে আবাস প্রকল্পের টাকা দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। আমাদের মুখ্যমন্ত্রী সঙ্কীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাড়ি দেওয়ার কথা বলেছিলেন। বিরোধী দলের উচ্চ নেতৃত্ব রাজনৈতিক রং দেখার অভিযোগ তুলেছে। কিন্ত তাদের নিচুতলার নেতা কর্মীরাই বলছেন আবাস প্রকল্পে বাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক রং দেখা হয়নি। বিজেপির জেলা সভাপতি তুফান মাহাত বলেন, দল না দেখে যোগ্য ব্যক্তিরা বাড়ি পাক, সে কথা আমরাও বলছি। যদি তা হয়ে থাকে, তবে তাকে আমরা ভালোই বলব।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ