সমীর মাহাত, ঝাড়গ্রাম: কেউ বা কারা জঙ্গলে আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। সেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে ঝাড়গ্রামের সাঁকরাইল ব্লকের শুশনিগেড়িয়া জঙ্গলের ঝোপঝাড়, ঘাস ও গাছপালা। পুলিস, বনবিভাগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে জঙ্গলের ২৫-৩০ একর জায়গার গাছপালা ও ঘাস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি। এই জঙ্গলটিই ছিল এলাকার পাঁচটি গ্রামের গোচরণের একমাত্র জায়গা। এই এলাকার বাসিন্দারা কোথায় গবাদি পশুদের চরাতে নিয়ে যাবেন তা নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন। এই নিয়ে খড়্গপুরের ডিএফও মণীশ যাদব বলেন , এখনও পর্যন্ত আমাদের ডিভিশনে যে সমস্ত জঙ্গলগুলিতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল তার বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আমরা মোকাবিলা করে নিভিয়ে দিয়েছি। দু একটি ঘটনায় হয়তো আগুন নেভানো সম্ভব হয়নি। জঙ্গলে যাতে কেউ আগুন না লাগায় এজন্য সমস্ত বিট এলাকার বন সুরক্ষা কমিটি এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে আমরা প্রতিনিয়ত আলোচনা করছি।জানা গিয়েছে, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি সকালে কলাইকুণ্ডা রেঞ্জের সাঁকরাইল বিটের শুশনিগেড়িয়ার জঙ্গলে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন ক্রমশ জনবসতি পিঁড়রাগেড়িয়া বাসস্ট্যাণ্ড এলাকায় দিকে ছড়িয়ে আসতে দেখে সন্ত্রস্ত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা সাঁকরাইল থানায় খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিস ও বন বিভাগের কর্মী ও দমকল। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় আগুন নেভানো সম্ভব হয়। এই জঙ্গলে সাঁকরাইল ব্লকের সাঁকরাইল ও ছত্রি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার হাড়িভাঙ্গা, টিয়াকাটি, শুকনাখালি, পিঁড়রাগেড়িয়া ও পেঁচাবিঁধা এই পাঁচটি গ্রামের বাসিন্দারা গোচারণ করান। জঙ্গলের ঘাস ও ডালপালা পুড়ে ছাই হওয়ার পর তারা বিকল্প গোচারণের জায়গা পাচ্ছেন না। এলাকার সমস্ত জমিতে বরো ধানের চাষ থাকায় গবাদিপশু চরানো নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন এই সব গ্রামের বাসিন্দারা। এই নিয়ে পিঁড়রাগেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎপাত্র বলেন, জঙ্গলের আগুন একেবারে জনবসতি এলাকার পাশে চলে এসেছিল। আমরা সবাই ভয় পেয়ে যাই। আগুন লাগার খবর পুলিসকে জানানো হয়। পুলিস, বনবিভাগের কর্মী, দমকল ও স্থানীয় বাসিন্দারা সবাই মিলে বহু চেষ্টা করে আগুন নিভিয়েছে। তবে জঙ্গলের অনেকটি জায়গার ডালপালা, ঘাস পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে। এলাকার বাসিন্দা গোচারণের জন্য এখন কোনও জায়গা খুঁজে পাচ্ছেন না।



