Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রাম জেলার ৬০ ট্যাব-বঞ্চিত পড়ুয়াকে ফের টাকা দিচ্ছে নবান্ন

ঝাড়গ্রাম জেলার ৬০ ট্যাব-বঞ্চিত পড়ুয়াকে ফের টাকা দিচ্ছে নবান্ন
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জেলার ১১টি স্কুলের ৬০ পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। শিক্ষাদপ্তরের নির্দেশ মেনে স্কুল কর্তৃপক্ষ থানায় অভিযোগও জানিয়েছে। ট্যাবের টাকা নতুন করে পাওয়া নিয়ে পড়ুয়াদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। জেলা প্রশাসন নতুন করে ট্যাবের টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করায় উচ্ছ্বসিত পড়ুয়ারা।
Advertisement
ঝাড়গ্ৰামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, জেলায় ১১টি স্কুলের ৬০ জন পড়ুয়ার ট্যাবের টাকা হ্যাক করা হয়েছিল। যেসব পড়ুয়ার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল তাদের নতুন করে ১০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। খুব দ্রুত অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে। রাজ্যজুড়ে ট্যাব প্রতারণার ঘটনায় ধরপাকড় চলছে। ঝাড়গ্রাম জেলা পুলিস গত রবিবার রাতে বিধাননগর থানা এলাকা থেকে মাঝারুল আলম নামে এক ব্যক্তিকে গ্ৰেপ্তার করেছে। ঝাড়গ্রামে স্কুল পড়ুয়াদের ট্যাবের টাকা প্রতারণার ঘটনায় সে সরাসরি যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। ট্যাবের টাকা কীভাবে প্রতারণা করা হল তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, শিক্ষাদপ্তর স্কুলগুলোকে শিক্ষা পোর্টালের লগ ইন আইডি ও পাসওয়ার্ড দিয়েছিল। সেই পাসওয়ার্ড স্কুল ও ডিআই অফিস থেকে কোনওভাবে পাচার বা  বা হ্যাক করা হয়। পাসওয়ার্ড হাতিয়ে হ্যাকাররা প্রথমে পোর্টালটি ‘আনলক’ করে পড়ুয়াদের নাম বদলে অন্য অ্যাকাউন্টের তথ্য নথিভুক্ত করে। যার জেরে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট পাঠানো টাকা সহজে অন্য অ্যাকাউন্টে চলে গিয়েছে। ঝাড়গ্ৰামে অশোক বিদ্যপীঠ, হাড়দা রামকৃষ্ণ হাইস্কুল, নেতাজি আদর্শ হিন্দি হাইস্কুল, বাঁধগড়া হাইস্কুল, রোহিনী সিআরডি হাইস্কুল, ধগড়ী হাইস্কুল ও বিনপুর হাইস্কুল ও মানিপাড়া সহ অনান্য স্কুলে পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক করা হয়। যে ঘটনায় জেলার শিক্ষামহলে শোরগোল পড়ে যায়। সাইবার দপ্তর তদন্তে নামে। জেলার সাইবার দপ্তরের আধিকারিক সব্যসাচী ঘোষ এদিন বলেন, একটি চক্রের ছাতায় একাধিক ব্যক্তি এই প্রতারণার ঘটনায় যুক্ত বলে আমরা সন্দেহ করছি। উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপরা এলাকার বাসিন্দা মাঝারুল আলম ঝাড়গ্ৰামের স্কুলগুলোর অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় সরাসরি যুক্ত। তাকে ঝাড়গ্ৰাম জেলা আদালতে এদিন তোলা হলে আদালত আটদিনের পুলিসি হেফাজত মঞ্জুর করেছে। ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বেশ কিছু  তথ্য আমাদের হাতে এসেছে। ডিআই শক্তিভূষণ গাঙ্গুলি বলেন, রাজ্য প্রশাসনের তরফে নতুন করে পড়ুয়াদের ট্যাবের জন্য ৬ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়ে গিয়েছে। ট্রেজারি থেকে সরাসরি পড়ুয়াদের অ্যাকাউন্টে টাকা চলে যাবে। টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে সবরকম সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। হাড়দা রামকৃষ্ণ হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক সুদীপ্ত গিরি বলেন, স্কুলের এক ছাত্রী আমাকে ট্যাবের টাকা অ্যাকাউন্টে না আসার কথা জানিয়েছিল। জেলা শিক্ষাদপ্তরে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানাই। আমাকে বলা হয়, ওই ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে বিস্মিত হয়েছিলাম। পরবর্তীতে ট্যাব কেলেঙ্কারির বিষয়টি সামনে আসে। এটা খুবই আনন্দের খবর যে, বঞ্চিত পড়ুয়াদের নতুন করে টাকা দেওয়া হচ্ছে। পড়ুয়ারা স্বভাবতই এই খবরে উচ্ছ্বসিত।
সম্পর্কিত সংবাদ